রংপুর

স্টেশনে টিকেট নেই, কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ দামে

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯

স্টেশনে টিকেট নেই, কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ দামে

ট্রেনের টিকেটের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ- সমকাল

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে ঈদের পর ট্রেনে ঢাকাগামী যাত্রীদের আগাম টিকেট না পেয়ে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। তবে স্টেশনের ভেতরেই কালোবাজারে তিনগুণ বেশি দামে টিকেট বিক্রি হচ্ছে বলে উভিযোগ উঠেছে। পঞ্চগড় থেকে ঢাকা যাত্রার জন্য ৫৫০ টাকার শোভন চেয়ারের প্রতিটি টিকেট ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ হাজার ৫৩ টাকার এসি চেয়ারের টিকেট ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ১৮ ঘন্টা সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকেট পাওয়া যায় না। তবে কালোবাজারে অতিরিক্ত মুল্যে টিকেটের কোন অভাব নেই। স্টেশনের পাশে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল টিকেটের কালো বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ক’দিন ধরেই বিকেল থেকে শুরু হয় টিকেট নেওয়ার সারিতে দাঁড়ানো প্রতিযোগিতা। এখানে ঈদের পর ৭ জুন ঢাকা যাওয়ার জন্য ২৯ মে টিকেট দেওয়া শুরু হয়। ৩০ মে দেওয়া হয় ৮ জুন এবং ৩১ মে ৯ জুনের টিকেট।

ঈদের পর ১০ জুন ঢাকা যাওয়ার জন্য শনিবারের একটি টিকেট পেতে শুক্রবার বিকেল থেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জিয়াবাড়ি গ্রামের রফিজল ইসলাম। ভোরে শেহরির পর কয়েক যুবক এসে তোড়জোড় শুরু করেন। তাদের ঠেলাঠেলিতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। সারির পেছনের চলে যান রফিজল। সকাল ৯ টা থেকে টিকেট প্রদান শুরু হয়ে এক ঘন্টার মধ্যে সব টিকেট শেষ হয়ে যায়। রাতভর লাইনে দাড়িয়ে থেকেও কাঙ্খিত টিকেট পাননি তিনি। এটি পঞ্চগড় রেল স্টেশনের প্রতিদিনের চিত্র। এভাবেই টিকেট নিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তি হচ্ছে যাত্রীদের। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, পঞ্চগড়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত টিকেটের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে কালো বাজারি সিন্ডিকেটের হাতে।

রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৩টি ট্রেন পঞ্চগড় থেকে ঢাকা নিয়মিত চলাচল করে। প্রতিদিন সকাল ৭ টা ২০ মিনিটে দ্রুতযান এক্সপ্রেস, দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং রাত ৯ টায় একতা এক্সপ্রেস পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনের মধ্যে দ্রুতযান এক্সপ্রেস এ শোভন চেয়ার ৯২টি, এসি চেয়ার ২০টি এবং এসি সিট ১৪টি, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এ শোভন চেয়ার ২৩০টি, এসি চেয়ার ২৪টি ও এসি সিট ১৬টি এবং একতা এক্সপ্রেস এ শোভন চেয়ার ৯২টি, এসি চেয়ার ২০টি এবং এসি বার্থ ৫টি পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ (অর্ধেক) অনলাইনে অ্যাপস এর মাধ্যমে দেওয়া আছে। বাকি ৫০ শতাংশ টিকেটের জন্য প্রতিদিন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনতে হয়। ২৯ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ঈদের টিকেট বিক্রি শুরু হয়। টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেট পালা করে স্থানীয় নারী, দিনমুজুর ও ভিক্ষুকদের টাকা দিয়ে টিকেট কিনতে সারিতে দাড়িয়ে দেন। এসব টিকের পরে তিনগুন বেশি দামে প্রকাশ্যেই বিক্রি করেন।

জেলা শহরের জালাসীপাড়া মহল্লার আব্দুস সালাম সমকালকে বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নেওয়ার সময় নেই। তাই স্টেশনের পাশেই ৩ হাজার টাকা দিয়ে ৯ জুন একতা এক্সপ্রেস-এর একটি টিকেট নিয়েছি। আগের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে হয়তো ১ হাজার ৫৩ টাকায় পেতাম।

উপজেলা সদরের জগদল এলাকার কলেজছাত্র আহসান হাবিব বলেন, শনিবার রাত থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো টিকেট পেলাম না। শুনলাম বাইরে নাকি বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে, এখন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকেই কিনতে হবে।

পঞ্চগড়ের রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. মোশারফ হোসেন সমকালকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে আগাম টিকিট দেওয়া হয়। যারা লাইনে থাকেন, নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়। এছাড়া আমাদের আর কি বা করার আছে। তবে আমরাও শুনতেছি, কেউ কেউ লোক দিয়ে টিকিট কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু কারো নাম ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অথবা প্রমাণ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।'

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এহেতেশাম রেজা বলেন, ‘একটি চক্র লোকজনদের দিয়ে টিকেট কিনে তা বাড়তি দামে বিক্রি করছে বলে আমরাও অভিযোগ করেছি। প্রমাণ না থাকায় তারা অনেকটাই ধরা ছোয়ার বাইরে। তবে নজর রাখা হচ্ছে। সনাক্ত করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য