রাজশাহী

পড়াশুনার জন্য সড়কবাতির আলোই ভরসা সুচিত্রার

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পড়াশুনার জন্য সড়কবাতির আলোই ভরসা সুচিত্রার

সড়কবাতির আলোতে পড়াশুনা করছে সুচিত্রা। তার পাশ দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন -সমকাল

  আমিনুল ইসলাম তন্ময়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

অভাবের কারণে বিদ্যুৎসংযোগ নেওয়ার সামর্থ নেই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সুচিত্রার রিকশাচালক বাবা সুনীল কর্মকারের। কিন্তু পড়ালোখা করার প্রবল ইচ্ছা সুচিত্রার। আর তাই বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে জীর্ণ কুটিরে মায়ের সঙ্গে বসবাসরত সুচিত্রা পিচঢালা সড়কের পাশে বসে সড়কবাতির আলোয় আলোকিত করে চলেছে নিজেকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের চন্দনা-বিশুর মোড় এলাকায় মা রুপালী কর্মকারের সঙ্গে সুচিত্রা কুমারিকার বসবাস। সড়কের ধারে ঝুপরি ঘরে মা-মেয়ের জীবন-যাপন। বাবা সুনীল কর্মকার ঢাকায় রিকশা চালান। সুচিত্রা বাড়ির পাশে যাদুপুর সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

সুচিত্রা কুমারিকা জানায়, পড়ালেখার প্রবল ইচ্ছে তার। দিনের অধিকাংশ সময় স্কুলে থাকতে হয়। দিনের অবশিষ্ট সময় পরিবারের কাজে মাকে সহযোগিতা করতেই বয়ে যায়। পড়ালেখা করার সময় হয় না দিনের আলোয়। টাকার অভাবে বাবা বাড়িতে বিদ্যুৎসংযোগ নিতে পারেননি। আবার টানাটানির সংসারে হারিকেনের আলোয় পাড়াশুনার সুযোগ নেই তেমন। সমবপতি চন্দনা-বিশুরমোড় এলাকায় সৌর বিদ্যুতের একটি সড়কবাতি বসানো হলে দু’চোখে আশার আলো দেখে সে। সন্ধ্যার পর সেই আলোয় পড়ালেখা শুরু করে সে। 

স্থানীয়রা জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল-রহনপুর সড়কের চন্দনা এলাকাটি ব্যস্ততম। চলাচল করে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ভটভটি, নশিমন-করিমন, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ ভাবেই সড়কের সড়কবাতির আলোয় চলে পাঠগ্রহণ। সম্প্রতি সুচিত্রাকে অনুকরণ করে তার সঙ্গে সড়ক বাতির আলোয় পড়তে আসে আরও কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী।

সুচিত্রার মা রুপালী কর্মকার জানান, মেয়ের প্রবল ইচ্ছে পড়ালেখার। তাই তিনি আর বাধা দেননি সড়কবাতির আলোয় বই পড়তে। তবে যানবাহন চলাচলের কারণে তিনি থাকেন আতঙ্কে, যদি কখনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়!

প্রতিবেশী তুহিন রেজা বিদ্যার্জনের জন্য সুচিত্রার একাগ্রতা দেখে অভিভূত। অনেক সময় যানবাহন থেকে রক্ষার্থে সুচিত্রার দিকে নজর রাখেন তিনি।

আরেক প্রতিবেশী শরিফুল আলম জানান, সরকারের প্রতিশ্রুত ঘরে-ঘরে বিদ্যুতের আলো বাস্তবায়ন হলে সুচিত্রাকে আর সড়কের সড়কবাতির নিচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পড়ালেখা করতে হবে না। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া জরুরি। 

স্থানীয় বৃদ্ধ আব্দুর লতিফ জানান, চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় এলাকার ১৫টি ভূমিহীন পরিবার বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত দীর্ঘদিন। আর তাই বাড়িতে আলোর অভাবে সুচিত্রা পড়ালেখা করে সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতির আলোয়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা সমকালকে জানান, সড়কবাতির অলোয় সুচিত্রার লেখাপড়ার বিষয়টি সম্প্রতি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে চন্দনা-বিশুর মোড় এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে নূন্যতম অর্থে বিদ্যুৎসংযোগ সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর জোনের নেসকো বিদুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, অচিরেই চন্দনা-বিশুরমোড়ের দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়িতে বিদ্যুৎসংযোগ প্রদান করা হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য