রাজশাহী

বগুড়ায় বিএনপির বিদ্রোহীদের সঙ্গে রফা, খুলল অফিসের তালা

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৯

বগুড়ায় বিএনপির বিদ্রোহীদের সঙ্গে রফা, খুলল অফিসের তালা

বৃহস্পতিবার দুপুরে অফিসের তালা খুলে দিয়েছেন বিদ্রোহী নেতারা -সমকাল

  বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে চালিয়ে আসা আন্দোলন থেকে অবশেষে সরে দাঁড়ালেন দলের বিদ্রোহী নেতারা। প্রায় ২০ দিন আগে কার্যালয়ে লাগানো তালাও ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা খুলে দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা পেয়েই বিদ্রোহীরা রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন যুবদলের বিলুপ্ত জেলা কমিটির সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার। তার মাধ্যমেই বিদ্রোহীরা সমঝোতায় রাজি হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন।

সূত্রগুলো বলছে, হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা নেতাদের আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রচারে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। ভেদাভেদ ভুলে যদি তারা সক্রিয় হন, তাহলেই শুধু তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হবে।

বগুড়ায় বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। এরই মধ্যে ১৫ মে কেন্দ্র থেকে সাবেক সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে প্রধান করে ৩১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলে বিলুপ্ত জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের অনুসারীরা ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। তারা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের কুশপুত্তলিকাও দাহ করেন। ওই ঘটনায় কেন্দ্র থেকে যুবদলের ছয় নেতাকে বহিস্কারসহ বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আরও আট নেতার পদবি স্থগিত করা হয়। এতে আহ্বায়ক কমিটি বিরোধীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মাঝে একদিন আহ্বায়ক কমিটির নেতারা তালা ভেঙে কার্যালয়ে ঢুকলেও পরে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। পরে আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটি তারা মানতে রাজি হননি। এমন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি বরং আহ্বায়ক কমিটির পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং পাল্টা হিসেবে বিরোধী পক্ষের নেতা বিলুপ্ত জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামের বাসভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এরই মধ্যে জেলা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করায় বিরোধীদের ক্ষোভ আরও চড়ে যায়।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ ২৯ মে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্রোহীদের ওই দিনের মধ্যে দলে ফেরার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, যারা ফিরবে না তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কিন্তু তার ওই ঘোষণার পরও বিরোধী পক্ষ আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনড় থাকে। তবে ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বিদ্রোহী গ্রুপ তাদের রণে ভঙ্গ দেয়। বিলুপ্ত যুবদল বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার বিদ্রোহীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে যান এবং বিশ দিন আগে লাগানো তালা খুলে দেন।

হঠাৎ সমঝোতার কারণ জানতে চাইলে বিদ্রোহী গ্রুপের অন্যতম নেতা বিলুপ্ত জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিমল কুমার দাস সমকালকে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা সমঝোতায় রাজি হয়েছেন। 

তিনি বলেন, 'লিডার (তারেক রহমান) আমাদের দলে সক্রিয় হতে বলেছেন। তিনি আমাদের নেতা। তার নির্দেশ আমরা অমান্য করতে পারি না।'

এ ব্যাপারে সিপার আল বখতিয়ার বলেন, 'আমাদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে আমরা সবাই জিয়ার অনুসারী ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আগামীতে উপনির্বাচনে আমরা সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।'

এ প্রসঙ্গে যার বিরুদ্ধে আন্দোলন সেই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, 'আমরা তাদের অনেক আগে থেকেই ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছিলাম। ভেতরে ভেতরে কথাও হচ্ছিল। এ ব্যাপারে বখতিয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি আমাদের কাছে কিছুটা সময় নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা দলে ফিরে এসেছেন। এতে আমি এবং দলের সব নেতাকর্মী অত্যন্ত খুশি।'

মন্তব্য


অন্যান্য