রাজশাহী

মুক্তিযোদ্ধা পান্না চৌধুরী আর নেই

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯ | আপডেট : ১৫ মে ২০১৯

মুক্তিযোদ্ধা পান্না চৌধুরী আর নেই

  উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ চৌধুরী ইফতেখার মবিন পান্না আর নেই। বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লালি ... রাজিউন)।

তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ বহু স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। চৌধুরী ইফতেখার মবিন পান্না বেশ কিছুদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। এক মাস আগে তার হৃদযন্ত্রে রিং পড়ানো হয়।

বুধবার বাদ মাগরিব রামগাঁতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তার মরদেহ রামগাঁতি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রামগাঁতি গ্রামের শিক্ষাবিদ ও কবি চৌধুরী ওসমানের ছেলে চৌধুরী ইফতেখার মবিন পান্না সলপ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের সহকারী পরিচালক ছিলেন।

১৯৭১ সালে সিরাজগঞ্জের বড় প্রতিরোধ যুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত নওগাঁর যুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি সম্মুখ সমরে অংশ নেন চৌধুরী ইফতেখার মবিন পান্না। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভারতের দেরাদুনে বিএলএফ-এর প্রথম ব্যাচে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর বেসামরিক প্রশাসক হিসেবে তাকে উল্লাপাড়া থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পান্না সলপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া উল্লাপাড়ার প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সলপ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পর পর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সিরাজগঞ্জে পান্না চৌধুরী নামে বহুল পরিচিত।

পান্না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও কবি জুলফিকার মতিন এবং দৈনিক সমকালের সহকারী সম্পাদক কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীমের ভাই।

চৌধুরী ইফতেখার মবিন পান্নার মৃত্যুতে উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি, উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও উল্লাপাড়া প্রেস ক্লাব শোক প্রকাশ করেছে।

মন্তব্য


অন্যান্য