রাজশাহী

নওগাঁয় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, নাটোরে আটকা ৪ ট্রেন

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, নাটোরে আটকা ৪ ট্রেন

ফাইল ছবি

  নাটোর প্রতিনিধি

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা নামক স্থানে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে ঢাকার সঙ্গে নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ। 

এর ফলে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নাটোরের তিনটি স্টেশন ও স্টপেজে ৪টি ট্রেন আটকা পড়ে রয়েছে। 

নাটোর স্টেশনে উত্তরা ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, আব্দুলপুর স্টেশনে রকেট মেইল ও মাধনাগর স্টেশনে একতা এক্সপ্রেস ট্রেন ৫ ঘণ্টা ধরে আটকে আছে।

আহসানগঞ্জ স্টেশন মাস্টার ছাইফুল ইসলাম জানান, বিকেলে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১৩টি বগি নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা নামক স্থানে পৌঁছালে ট্রেনটির একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে রংপুর ও দিনাজপুরের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

নাটোর রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার অশোক চক্রবর্তী জানান, ঘটনাস্থলে রিলিফ ট্রেন পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

দুর্গাচরণ মাহাতো যেন সেই 'ভাষান যাত্রা'র সত্যবান


আরও খবর

রাজশাহী
দুর্গাচরণ মাহাতো যেন সেই 'ভাষান যাত্রা'র সত্যবান

চলনবিলের সুখ-দুঃখ ২

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তপন দাশ, চলনবিল থেকে ফিরে

যুগ যুগান্ত ওরে ঘুমান্ত

জেগে ওঠ জেগে ওঠ,

মাটির জননী কাঁদিয়া ফেরে

জেগে ওঠ জেগে ওঠ।

'গৌর মুকুট' যাত্রাপালার এ গানটি গেয়েই আমাদের স্বাগত জানালেন দুর্গাচরণ মাহাতো। পাড়া, মহল্লা, গ্রামের পর গ্রাম গান গেয়ে মাতানো এই আদিবাসী শিল্পী এখন বয়সের ভারে অনেকটা কাবু। কিন্তু স্মৃতি তাকে এখনও প্রতারণা করে না। কৈশোর থেকে যৌবনে গাওয়া গানগুলোও তার ঠোঁটস্থ।

দুর্গাচরণের বয়স খানিকটা চমকে দেওয়ার মতো। তিনি জানালেন- ব্রিটিশ আমলে জন্ম তার, ১১৪ বছর চলছে। কিন্তু তার কথা বলা, গান, কারও সহায়তা ছাড়াই হাঁটা-চলা সন্দেহ জাগায়। কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরে প্রশ্ন করলে তার মেয়ে সোনেকা রানী জাতীয় পরিচয়পত্র এনে দেখায়। হ্যাঁ, চমক থেকেই যায়। সেখানে লেখা- কানাইলাল মাহাতো, জন্ম :৮ আগস্ট ১৯১২। অর্থাৎ ১০৬ বছর পূর্ণ হয়ে সাতে পড়েছে। দুর্গাচরণ দাবি করলেন- বারবার বলার পরও তার বয়স কমিয়ে লেখা হয়েছে। কানাইলাল তার ভালো নাম। কেউ দুর্গাচরণ, কেউ শুধু চরণ নামে ডাকে।

বাঘলবাড়ি, চন্ডিপুর, নওগাঁ, হাসানপুর, পংরৌহালী। পাশাপাশি কয়েকটি গ্রাম। এসব গ্রামে অন্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি আদিবাসীদের বসবাস। তারা মূলত কৃষি শ্রমিক। তাদের চালচলন, ভাষা-সংস্কৃতি নিজস্ব। দুর্গাচরণ মাহাতো তাদেরই এক প্রতিনিধি। তার বাড়তি যোগ্যতা তিনি অভিনয় করতে পারেন, গান গাইতে পারেন। বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁয়।

তাড়াশ সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে। উপজেলার শেষ গ্রাম।

তাড়াশ থেকে নওগাঁ যেতে হাতের দু'ধারেই বিল। দুর্গাচরণের বাড়ির প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমেই চলনবিলের একাংশ। বিল থেকে বেরিয়ে করতোয়া নদী চলে গেছে নওগাঁ বাজারের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে। চরণ মাহাতোর বাড়ির বাহিরটা ততো চাকচিক্যময় না হলেও ভেতরটা খারাপ নয়। ঘরের বারান্দায় চেয়ারে বসে জানাচ্ছিলেন তার জীবনযাপন, গানের ভুবন।

দুর্গাচরণের জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে আছে গান আর যাত্রাপালায় অভিনয়। কয়টি যাত্রাপালায় 'পাঠ' করেছেন, তা সঠিক বলতে পারেন না তিনি। তবে 'ভাসান যাত্রা' করেছেন অনেক। কৃষ্ণযাত্রায় যেমন রাধার মানভঞ্জন, নৌকাবিলাস, একেকটি পালা; রামযাত্রায় যেমন রাবণ বধ, সীতাহরণ; ভাসান যাত্রায়ও থাকে ভিন্ন ভিন্ন পালা। পৌরাণিক কাহিনীর ভাষান যাত্রার 'সত্যবান' চরিত্রটি তার জীবনে বিশাল দাগ কেটে আছে। অভিনয়ের সময় ডুবে গেছেন ওই চরিত্রে। নিজেকে ভেবেছেন সত্যবান। বললেন, সত্যবান অনেক কঠিন পাঠ। খুব করুণ। সত্যবানের অনেক কষ্ট। গানও ছিল সত্যবানের- 'রাজপন্থে অবলা কান্দাইও না, বন্ধু তুমি পিরিতের মানে জানো না...।'

'গৌর মুকুট' যাত্রাপালায় তার চরিত্রের নাম ছিল সুকণ্ঠ। সেটা ছিল ৭০ নম্বর পাঠ। কিন্তু '৭০ নম্বর' মানে কি- তিনি তা ঠিক বোঝাতে পারলেন না। আরেক যাত্রাপালা 'সিন্ধু গৌর।' এর চরিত্রটির নাম তার মনে নেই। কিন্তু এই বয়সে চড়া গলায় এমন দীর্ঘ একটি সংলাপ এক নিঃশ্বাসে শেষ করলেন, যা শুনে যে কোনো যুবক থ-মেরে যাবে। তাকেই ভাবতে হবে- যৌবনে দুর্গাচরণ কোন্‌ মাত্রার যাত্রাশিল্পী ছিলেন! সেইকালে অভিনয়ের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন- 'আমি যখন এই পাঠ করছি, তখন মানুষ খালি হাততালির পর হাততালি দিছে।'

দুর্গাচরণের গানের ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ। যাত্রাপালায় যেমন গেয়েছেন, তেমনি মনসাপূজায় গেয়েছেন রাতের পর রাত। সন্ধ্যার পর এ-বাড়ি সে-বাড়ির উঠানে কতো ঝুমুর গান গেয়েছেন, তার হিসাব নেই। তিনি জানালেন- মূলত মনসাপূজাতেই গান জমে। আদিবাসীদের মধ্যে দুর্গাপূজার চেয়ে মনসাপূজাই গুরুত্ব পায়। চলে তিন থেকে পাঁচ দিন। রাতভর গান হয়। নিজেদের তৈরি চোয়ানি খেয়ে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। নারী-পুরুষ একসঙ্গে গোল হয়ে নেচে নেচে গায়। হাতে নিজেদের বানানো বাদ্যযন্ত্র। দুর্গাচরণ মাহাতো 'খমক' বাজিয়ে গান করতেন। শোনালেন বেশ কয়েকটি ঝুমুর। তিনি বলতে থাকলেন- চাঁদ সদাগর মনসা দেবীর পূজা দেবে না, তখন গাওয়া হয়- 'পূজা দেরে দেরে বানিয়া, নইলে মরিবি পরানে।' মনসা দেবীকে আবাহনের গান- 'মাকে আনিতে যাবো কালীদহের কূলে, মাথায় দেব লাল জবা চরণেতে ফুল গো...।'

মনসাপূজার বাইরে দুর্গাচরণ যে সব ঝুমুর গান গেয়েছেন, তারও কয়েকটির অংশবিশেষ শোনালেন। '... সারা দিন কাম করি/ ছাঁইচা তলে ভিইজ্যা মরি, এলে বধু নাহি দিলে দেখা/ বধু কাঁদিছে অন্তর।' '... তাল গাছে তাল নাই/ খাজুর গাছে বাসা, উইড়া গেল পশুপাখি/ পইড়া রইলো আশা।' '... গামছা ভিজা জল খাব/ কারও অধীন নাহি যাব, দেশে আর বিদেশে যাব/ তরু তলায় রেঁধে খাব/ কারও অধীন নাহি যাব...।'

প্রেম, বিরহ, বিদ্রোহ, দেশাত্মবোধ- সবই আছে তার গানে। গানগুলো কার লেখা, কার সুর- কিছুই বলতে পারলেন না তিনি। শুধু বললেন, 'যুগ যুগ ধইরা চইল্যা আসছে। বড়দের কাছে শুনে শুনে শিখছি।' কীর্তন গাইতে পারেন- তাও জানালেন দুর্গাচরণ। জানালেন একবার নাটোরের বড়াইগ্রামে কীর্তনের আসরে গিয়েছিলেন। এক নারী কীর্তনিয়ার সঙ্গে পাল্লা হয়েছিল। তাতে তিনিই জিতে যান। তাকে ফুলের মালা পরানো হয়েছিল। মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছিল। অনেকে ভক্তি (প্রণাম) করেছিল।

এমন অনেক গল্প, আর গানের পর গান। বলে যাচ্ছেন তো বলেই যাচ্ছেন। যেন থামানোই যাচ্ছিল না দুর্গাচরণকে। প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলা হলো- যাত্রাপালা আর গানের জীবন তো জানা গেল, একটু সংসার জীবনের কথা বলুন। এবার তিনি সত্যিই থামলেন। চোখেমুখে কিছুটা বিষাদ। তারপর শুরু করলেন সুখদুঃখের কথা।

পাঁচ কাঠার ভিটে বাড়ি ছাড়া দুর্গাচরণের আর কোনো সম্পত্তি বা সম্পদ নেই। এ বাড়িতেই আছেন বহু বছর। পাশের রাস্তা দিয়ে বিদ্যুতের তার গেলেও তার বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। ৭-৮ বছর হলো স্ত্রী আমর্তি বালা মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে মহেশ্বর। দুই মেয়ে পূর্ণি রানী ও সোনেকা রানী। বড় মেয়েকে বিয়ে দিলেও আঠুরিতে এসে স্বামী পালিয়ে গেছে, আর ফেরেনি। মেয়েকেও নেয়নি। সেই থেকে বড় মেয়ে তার কাছেই। রঙের কাজ করা ছেলের আয়েই মূলত কোনোরকমে সংসার চলে। এখন কাজ করতে না পারলেও যৌবনে তিনি প্রচুর খেটেছেন। তিন টাকা দিয়ে কেনা একজোড়া বলদ ছিল তার। তখন কিছু জমিও ছিল। নিজের জমি হালচাষের পাশাপাশি অন্যের জমিও চষে দিতেন। ভালো মজুরিও পেতেন। যখন নিজের কাজ থাকত না তখন চলে যেতেন উত্তরে। ১৫ দিন, একমাস কামাই-রোজগার করে বাড়ি ফিরতেন। দেশ স্বাধীনের আগে পাশের ভাঙ্গুড়া উপজেলার মিছমেথুইর গ্রামে কৈলাশ দাশের বাড়িতে বছর চুক্তিতে মজুর খাটতেন। বেতন বছরে ২০-২৫ টাকা। তিনি ওই বাড়িতে চালাতেন মূলত মহিষের গাড়ি।

বাকি জীবন কীভাবে কাটাতে চান- প্রশ্নে তিনি বলেন, 'আমি তো চলতে পারি না, গোবিন্দ চালায়। সারাদিন এখানে-ওখানে বসে থাকি, আর মন্দিরে কাটাই। এ ভাবেই জীবন কাইট্যা যাবে।'

গান চালিয়ে যাবেন না? দীর্ঘশ্বাসের পর উত্তর- 'আর সেই গলা নাই, বুক আটকে আসে। সক্কলের ভালোবাসা পাইছি, আর কতো...।'

পরের
খবর

তারা জীবিত তারা 'মৃত'


আরও খবর

রাজশাহী
তারা জীবিত তারা 'মৃত'

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহারুল আলম, কালাই (জয়পুরহাট)

জয়পুরহাটে মাদকের পৃথক তিনটি মামলায় কারাগারে ছিল তিন আসামি। জামিন পেতে জালিয়াতির আশ্রয় নেয় তারা। একজনের বোন, একজনের স্ত্রী এবং আরেকজনের বাবার মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে আদালতে জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। প্রমাণ হিসেবে মৃত্যু সনদও দাখিল করা হয়। অথচ ওই তিন স্বজনই জীবিত। স্বজনের মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। জামিনে মুক্তিও পায় তিন আসামি। পরে জানা যায় জালিয়াতির এ ঘটনা। পৃথক তিন মামলায় আসামিদের জামিন আবেদন করেন একই আইনজীবী।

এই তিন আসামি হলো- জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন (৩০), পাঁচবিবি পৌরসভার বালিঘাটা বাজারের আমির হোসেন ওরফে সোহেল (২৬) এবং বাগজানা ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আতোয়ার হোসেন (৩৫)। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম জয়পুরহাট সদর থানার এক মামলার এবং আমির ও আতোয়ার পাঁচবিবি থানার পৃথক দুই মামলার আসামি। জালিয়াতির ঘটনা জানাজানির পর ধার্য তারিখে উপস্থিত না হওয়ায় আসামি আতোয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পৃথকভাবে মৃত হিসেবে দেখানো তিনজনের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জামিন নেওয়ার সময় আসামি ইব্রাহিমের বোন আনোয়ারা বেগম, আমির হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন এবং আতোয়ার হোসেনের বাবা নাজির উদ্দিনকে মৃত দেখানো হয়। প্রমাণ হিসেবে পাঁচবিবি পৌরসভা, বাগজানা ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের নামে মৃত্যু সনদ নিয়ে আদালতে দাখিল করা হয়। তবে ওইসব সনদ মিথ্যা, জাল ও ভুয়া দাবি করে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমকে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর, আমিরকে ১৯ নভেম্বর এবং আতোয়ারকে ২১ নভেম্বর মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে জেলা জজ আদালতে আসামি আতোয়ারের মামলায় শুনানির ধার্য তারিখ ছিল ৮ জানুয়ারি। কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর তার জীবিত বাবাকে মৃত দেখিয়ে তার আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি জামিন প্রার্থনা করেন। মৃত্যুর প্রমাণপত্র হিসেবে বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হকের স্বাক্ষর করা মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র দাখিল করা হয় আদালতে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে আতোয়ারকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। আমিরের মামলার ধার্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি থাকলেও একই আইনজীবী পাঁচবিবি পৌর মেয়রের দেওয়া আসামির স্ত্রী ইয়াসমিনের মৃত্যুর সনদ দাখিল করে ৩১ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন করে নেন। অপর আসামি ইব্রাহিমের মামলায় ১৪ জানুয়ারি ধার্য তারিখ থাকলেও বোন মারা যাওয়ার মিথ্যা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে ১৯ ডিসেম্বর জামিন করে নেন আইনজীবী জনি।

আসামি আতোয়ারের বাবা নাজির উদ্দিন বলেন, ছেলে হাজতে থাকার পর আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি ও তার সহকারীর কাছে জামিনের জন্য যাই। তারা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। ছেলের জামিনের পর জানতে পেরেছি আমাকে মৃত দেখিয়ে জামিন নেওয়া হয়েছে।

আসামি আমিরের মা আমেনা বেগম বলেন, আমিরের জামিনের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা আইনজীবীকে কোনো কাগজপত্রও দেইনি। পরে শুনছি পুত্রবধূ ইয়াসমিনকে মৃত দেখিয়ে আমিরের জামিন করা হয়েছে।

পাঁচবিবি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমিরের স্ত্রী ইয়াসমিনকে মৃত দেখিয়ে আমার পৌরসভা থেকে একটি জাল প্রত্যয়নপত্র আদালতে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি ওই মৃত্যু সনদ পৌরসভা থেকে ইস্যু করা হয়নি। ইয়াসমিন বেঁচে আছেন।

বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, আতোয়ারের বাবা নাজির উদ্দিন বেঁচে আছেন। তাকে মৃত দেখিয়ে আমার পরিষদের জাল প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আইনজীবী সমিতিকে বিষয়টি জানিয়েছি।

মামলার আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি তিনটি মামলায় জামিন শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও আসামিদের তদবিরকারীদের দেওয়া তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, অবকাশকালীন আদালতে তদবিরকারীদের দেওয়া তথ্য ভুল, না সঠিক তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা সরল বিশ্বাসে তদবিরকারীদের দেওয়া তথ্য আদালতে উপস্থাপন করি।

পাঁচবিবি থানার ওসি বজলার রহমান বলেন, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে জামিন নেওয়া তিনটি মামলার বিষয়ে আদালত থেকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ পেয়ে ইতিমধ্যে দুটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। মৃত দেখানো ব্যক্তিরা সবাই জীবিত আছেন। অন্য মামলার প্রতিবেদনের কাজ চলছে।

জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, জালিয়াতির এসব ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে আইনজীবীসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

পরের
খবর

শেখ হাসিনা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব না: খাদ্যমন্ত্রী


আরও খবর

রাজশাহী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার -ফাইল ছবি

  নওগাঁ প্রতিনিধি

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব না। দেশের উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে উন্নয়নের মাপকাঠিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আগামী ৫ বছর উন্নয়নের ২১ দফা বাস্তবায়িত হলে ৪০ বছর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে কোন শক্তি সরাতে পারবে না। কারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছে বলেই গত ৩০শে ডিসম্বরের নির্বাচনে মানুষ নৌকার পক্ষে গণরায় দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক বড় বিজয়, অনেক বড় আবেগ। আর এই আবেগকে সামলাতে না পারলে অনেক বড় বিপর্যয়ও নেমে আসতে পারে। তাই আমাদের সাবধানে চলতে হবে। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য ময়নুল ইসলাম ময়েন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ভোদন, ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ধলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার মহাদেবপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর