রাজশাহী

আমরা ফাঁকা মাঠে জিততে চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

আমরা ফাঁকা মাঠে জিততে চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বগুড়ায় সরকারি মালিকানাধীন অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সেফালোস্পোরিন ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম -সমকাল

  বগুড়া ব্যুরো

নির্বাচনকে ভয় না পেয়ে বরং তাতে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। 

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গেছে। আপনারা ভয় পান কেন? জনগণকে বিশ্বাস করুন। রায় দেওয়ার মালিক তারা। নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। 

এ সময় আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা ফাঁকা মাঠে জিততে চাই না। প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেই জিততে চাই। সারা বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। জঙ্গি দমন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করেছেন। প্রমাণ হয়েছে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ায় সরকারি মালিকানাধীন অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সেফালোস্পোরিন ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। 

পরে সন্ধ্যায় তিনি জেলার নন্দীগ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বক্তৃতা করেন। নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান। 

নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা বক্তৃতা করেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি নিজেদের ক্ষতি করেছে। তারা নির্বাচন ঠেকানোর কথা বলেছিল, কিন্তু পারেনি। সরকার ঠিকই তার মেয়াদ পার করেছে। কি লাভ হলো? বরং নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি সব সিট (আসন) হারিয়েছে। এমনকি যে বগুড়া তাদের ঘাঁটি ছিল সেটিও হারিয়েছে। দয়া করে নির্বাচন থেকে পালাবেন না। পালিয়ে গেলে বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ইতিপূর্বে জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম ওই দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নেত্রী জেলে আছেন। কিন্তু আপনারা কোন আন্দোলন করতে পারেন না। একটি বড় মিছিলও করতে পারেন না। আপনাদের জন্য দুঃখ হয়, আপনারা মাঠে কোন কর্মীও খুঁজে পান না। আকাশে মেঘ দেখলেই পালিয়ে যান। অথচ বিরোধী দলে থাকার সময় আমরা বার বার জেলে গেছি। মার খেয়েছি কিন্তু মাঠ ছাড়িনি।

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৭০ সালে সামরিক আইনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তখন মার্শাল ল ছিল। মাওলানা ভাসানী নির্বাচনে অংশ নিতে চাননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল। আর ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণেই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

সদ্য সমাপ্ত সংলাপ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন সরকার প্রধান সংলাপ ডেকেছেন এবং তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৫ দিন ধরে সংলাপ চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে হতাশ করেননি, ছোট-বড় সব দলকে ডেকেছেন। তাদের কথা শুনেছেন।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের উত্থাপিত ৭ দফার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা যে সাত দফা উত্থাপন করেছেন তার পক্ষে জনগণের কাছে রায় চান। তারা রায় দিলে তা বাস্তবায়ন করুন। প্রয়োজনে ১০০ দফা বাস্তবায়ন করুন। আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।

বগুড়ায় অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সেফালোস্পোরিন ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বগুড়া-১ আসনের সাংসদ আব্দুল মান্নান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবলু সাহা, ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এহসানুল কবির জগলুল, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন এবং ইডিসিএলের বগুড়া প্লান্টের ডিজিএম এস এম আহসান বক্তৃতা করেন।

মন্তব্য


অন্যান্য