প্রবাস

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর আলোকে শেষ হলো ১৩তম টরন্টো বাংলা বইমেলা

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর আলোকে শেষ হলো ১৩তম টরন্টো বাংলা বইমেলা

  অনলাইন ডেস্ক

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর আলোকে ২০২০ সালের বইমেলা আয়োজনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১৩তম টরন্টো বাংলা বইমেলা ২০১৯।

টরন্টোর সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘটন অন্যমেলার আয়োজনে ৬ জুলাই শনিবার টরোন্টোর বাঙালি পাড়া নামে খ্যাত ড্যানফোর্থে এভিনিউতে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ১৩তম টরন্টো বাংলা বইমেলা ২০১৯ শুরু হয়। এরপর ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও কবি আসাদ চৌধুরী।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অনন্যা প্রকাশের মনিরুল হুক, অন্বয় প্রকাশের স্বত্বাধিকারী শিশু সাহিত্যিক হুমায়ুন কবির ঢালী, সন্দেশ প্রকাশ'র লুৎফুর রহমান, নিউ ইয়র্ক থেকে আগত কবি আব্দুল্লাহ আল হাসান, শেলী জামান, ওয়াশিংটন থেকে আগত লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ, টরন্টো প্রবাসী লেখক জসিম মল্লিক সহ আরো অনেকে।

বইমেলার উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠানের মূলমঞ্চে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। সাঈদা বারী, মেহরাব রহমান, অরুণা হায়দার ও জসিম মল্লিকের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে ফারহানা শান্ত এবং নৃত্য পরিবেশন করে সুকন্যা নৃত্যাঙ্গনের শিল্পীবৃন্দ। এরপর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি আসাদ চৌধুরী, হাসান মাহমুদ, অনন্যা প্রকাশের মনিরুল হক, অন্বয় প্রকাশের হুমায়ুন কবির ঢালী, সন্দেশ প্রকাশনীর লুৎফুর রহমান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাংলা ভাষা পৃথিবীর ষষ্ঠতম ভাষা। এই ভাষাকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই বইমেলার মধ্যে দিয়ে আমাদের নুতুন প্রজন্ম 'জয় বাংলা' স্লোগানে সারাবিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবে।

এরপর প্রদর্শিত হয় ডকুমেন্টারি 'বর্ণে বর্ণে বাঙালি'। ডকুমেন্টারি প্রদর্শন শেষে মূলমঞ্চে শুরু হয় উত্তর আমেরিকার কবিদের স্বরচিত কবিতা আবৃতি পর্ব। এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, দিলারা হাফিজ, কবি ফেরদৌস নাহার ও কবি হাসানাল আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেলিম এইচ চৌধুরী।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিলারা নাহার বাবু ও চয়ন দাসের সঞ্চালনায় এই পর্বে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে নীলাদ্রি নির্ঝরণী কলতান, নিশীথ জোনাকি প্রশান্তি, এবং এম আলিমুজ্জামানের সঞ্চালনায় অলম্পিয়া স্কুল অব মিউজিক এর শিল্পীবৃন্দ। এরপর শুরু হয় অতিথি পর্ব। এইপর্বে অংশগ্রহণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি আসাদ চৌধুরী, ডলি বেগম এমপি, দিলারা হাফিজ, জয়দেব সরকার, শহীদ খন্দকার এবং এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন বইমেলার আয়োজক সাদি আহমেদ।

এরপর মূলমঞ্চে আবারো শুরু হয় কবিতা আবৃতি পর্ব। এই পর্বে কবিতা আবৃতি করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি ফেরদৌস নাহার, লালন নূর, ও রিপা নূর। এরপর লেখক জসিম মল্লিকের সঞ্চালনায় সাহিত্য বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি হাসানাল আব্দুল্লাহ, শেলী জামান খান, অরপি আহমেদ, ও হুমায়ুন কবির ঢালী। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী। আমন্ত্রিত শিল্পী রনি প্রেস্টিস রয়ের সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে বইমেলার প্রথমদিনের সমাপ্তি ঘটে। 

কবিগুরুর উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি 'বাংলাদেশ রবীন্দ্ৰনাথ' এবং এরপর ছোটদের যেমন খুশি তেমন সাজো মধ্যে দিয়ে দুপুরে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও শেষদিনের অনুষ্ঠান। এরপর আশরাফ আলীর সঞ্চালনায় প্রবাসে সাংবাদিকতা আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন জসিম মল্লিক, সুজা রাশিদ, শেখ শাহনেওয়াজ, সোনিয়া হক, বাবুল চৌধুরী। এরপর মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এইপর্বে অংশগ্রহণ করে নৃত্যকলা কেন্দ্র, ও শফিক আহমেদ। এরপর অতিথি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল। 

এরপর শুরু হয় লেখক প্রকাশক আড্ডা। 'প্রবাসে বাংলা বইমেলা' শিরোনামে এই পর্বে অংশগ্রহণ করে ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল, কবি আসাদ চৌধুরী, দিলারা হাফিজ, হাসানাল আব্দুল্লা, শেলী জামান খান, মনিরুল হক, হুমায়ুন কবির ঢালী, অরপি আহমেদ, মেসবাহ আহমেদ, ও লুৎফর রহমান চৌধুরী। এরপর জসিম মল্লিকের সঞ্চালনায় শুরু হয় কথোপকথন। এই পর্বে অংশগ্রহণ করে ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল, কবি আসাদ চৌধুরী, দিলারা হাফিজ, হাসানাল আব্দুল্লা, শেলী জামান খান, মনিরুল হক, হুমায়ুন কবির ঢালী, অরপি আহমেদ, মেসবাহ আহমেদ, ও লুৎফর রহমান চৌধুরী।

এছাড়া বইমেলার শেষদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে নির্মিত মিউজিক ভিডিও 'বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতা' প্রদর্শন করা হয়। 'বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতা' গানটি লিখেছেন লেখক সাংবাদিক অরপি আহমেদ। গানটিতে সুর করেছেন সিফিক তুহিন। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শফিক তুহিন, রুমানা ইতি, ও কিশোর দাস। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন আব্দুল্লাহ চৌধুরী। গানটিতে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ৯ মিনিটের গানে তুলে আনা হয়েছে। গানটি প্রদর্শনের সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। 

সবশেষে শহীদ খন্দকার ও শিক্ষা রউফের সংগীত পরিবেশনার পর 'আলোকে আঁধার হোক চুর্ণ - শ্লোগানে শুরু হওয়া ১৩তম টরন্টো বাংলা বইমেলা ২০১৯  এর সমাপ্তি ঘোষনা করেন সাদী আহমেদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মন্তব্য


অন্যান্য