প্রবাস

নিউ ইয়র্কে বিজয় প্যারেড ও বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

নিউ ইয়র্কে বিজয় প্যারেড ও বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত

  নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

বাংলাদেশের ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৬ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিজয় প্যারেড ও পিএস ৬৯-এ বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১, যুক্তরাষ্ট্র শাখার যৌথ উদ্যোগে ওইদিন সকাল ১১টা থেকে পিএস ৬৯ মিলনায়তনে শুরু হয় বিজয় মেলা।

এতে মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থ প্রদর্শনী ছাড়াও শীতের পিঠা এবং নানান রকমের দেশীয় সামগ্রীর পশরা বসেছিল। দুপুর ২ টায় রানু ফেরদৌসের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’ বিষয়ক শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

পারভীন সুলতানার ব্যবস্থাপনায় এর পরপরই বেলা তিনটায় অনুষ্ঠিত হয় ছোটদের যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা। দুটি প্রতিযোগিতাশেষে প্রতিযোগীদের মধ্যে সারাদিন তুমুল বৃষ্টি থাকায় ডায়ভার্সিটি প্লাজার বদলে বৃষ্টির মধ্যেই ফাহিম রেজা নূরের সঞ্চালনায় এবং হারুন ভুঁইয়া, গোপাল সান্যাল, রেজাউলি বারী, ফাহাদ সোলায়মান, আবদুর রহিম বাদশা, সবিতা দাস, নূরুল আমিন বাবু, নান্টু মিয়া ও আবদুল হামিদের ব্যবস্থাপনায় পিএস ৬৯-এর সামনের রাস্তায় বিজয় প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মেজর (অব) এহসান উল্লাহ, ফেরদৌস নাজমী, রথীন্দ্রনাথ রায়, ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ, নিনি ওয়াহেদ, মেজর (অব) মনযুর আহমেদ বীরপ্রতীক, রাশেদ আহমেদ, রথীন্দ্রনাথ রায়সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা এই ‘বিজয় প্যারেডে’ যোগ দেন। 

প্যারেড শেষে বিকেল ৫টায় পিএস ৬৯ মিলনায়তনে স্থাপিত অস্থায়ী স্বাধীনতা স্তম্ভে ব্যানার নিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিউ ইয়র্কের সকল আঞ্চলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ সকল সংগঠনগুলো।  

সন্ধ্যা সাতটায় কবিতায় বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে ৪৭ জন কবি ও আবৃত্তিকার বিজয়ের কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি  করেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা হলেন- মাহবুব হাসান, শামস আল মমীন, ফকির ইলিয়াস, এবিএম সালেহউদ্দীন, রানু ফেরদৌস, শামসাদ হুসাম, সোনিয়া কাদির, মিনহাজ আহমদ, শাহীন ইবনে দিলওয়ার, সুরীত বড়ুয়া, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, মনিজা রহমান, আনোয়ার সেলিম, সেলিম ইব্রাহিম, শামস চৌধুরী রুশো, খিজির হায়াত, ছন্দা বিনতে সুলতান, সৈয়দ মামুনুর রশীদ, সেলিম ইব্রাহীম, আনোয়ারুল হক লাভলু, গোপন সাহা, এইচ বি রিতা, আহমদ হোসেন বাবু, জুই ইসলাম, মিশুক সেলিম, সহুল আহমদ, মামুন জামিল, শিবলী সাদেক, সৈয়দা সোহানা আকতার, শুক্লা রায়, সবিতা দাস, কানিজ আয়শা, রাজু বিশ্বাস। এর ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইশতিয়াক রূপু। সঞ্চালনা করেন শিরীন বকুল।

রাত আটটায় অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন ‘স্মৃতিতে সংগীতে মুক্তিযুদ্ধ’। এই পর্বে স্মৃতিচারণ করেন মেজর অব মনযুর আহমেদ বীরপ্রতীক, মেজর (অব) এহসান উল্লাহ।

চরমপত্র থেকে পাঠ করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব। এই পর্বটি পরিকল্পনা ও সঞ্চালন করেন জীবন চৌধুরী। দুজন কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসানকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। রাত ১০টায় ছিল ‘সুর ও ছন্দ’ শীর্ষক নৃত্যালেখ্য ও সংগীত।

এতে অংশ্রগহণে ছিলেন নৃত্যে সাদিয়া মোহনা, সামিরা আলম, সুভা গিয়াস, আরিকা আলম; সংগীতে: রাবেয়া, সেলিম মোর্শেদ, রাজু, নাইজার সুলতানা, রুমা, কিষান, জয়া; নৃত্য পরিচালনায়: সামিয়া ও ইনা হক;  সংগীত পরিচালনায়: ইমদাদুল হক; শিল্পী নাজমা আনোয়ারের সংগীত ও নাদিম আহমেদের সুরে এই নৃত্যানুষ্ঠানটি রচিত হয়। রথীন্দ্রনাথ রায়সহ সম্মিলিত কণ্ঠে  জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে রাত পৌনে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


মন্তব্য


অন্যান্য