প্রবাস

নিউ ইয়র্কে ‘বাংলাদেশে একাত্তরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির করণীয়' শীর্ষক আলোচনা

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

নিউ ইয়র্কে ‘বাংলাদেশে একাত্তরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির করণীয়' শীর্ষক আলোচনা

  নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ‘বাংলাদেশে একাত্তরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা ও প্রতিরোধ দিবসে বাঙ্গালির প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসেরম্টসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এ উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বলন ও র‌্যালি এবং তিহাত্তর স্ট্রীটের বাংলাদেশ প্লাজার কনফারেন্স রুমে ওই সেমিনার ও আলোচনা হয়।

সেমিনারে কী নোট স্পিকার ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মিস সাদিয়া ফয়জুননেসা ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রথম প্রেস সচিব নূর এলাহি মিনা। সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন- আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মঞ্জুর চৌধূরী। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ‘জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ’।

আরও অংশগ্রহণ করেন- সৈয়দ মোহম্মদউল্ল্যাহ, রমেশ নাথ, মূলধারার রাজনীতিক মোশেদ আলম, মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান চৌধূরী, মুক্তিযোদ্ধা এম এ আওয়াল, মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্ট (অবঃ) ওয়াজিউল্ল্যা, মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য, মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট্র ডা. টমাস দুলু রায়, আবদুর রহিম বাদশা, শাহ মোঃ বকতিয়ার, মোহম্মদ আলী সিদ্দিকী, শরীফ কামরুল আলম হিরা, মো. কায়কোবাদ খান, মিথুন আহমেদ, শাহানাজ মমতাজ, রুমানা আকতার, ওবায়দুল্লা মামুন, আল আমীন বাবু, আশরাফ আলম, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রবিণী ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ার অধ্যাপক সব্যসাচি দস্তিদার, এ্যাভোকেট মোহম্মদ আলী বাবুল, এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, জলি কর, মোহাম্মদ জামাল, খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের শুভ রায়, একে চৌধূরী, প্রবিণী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সচিব শুভ জি দস্তিদার, মোহাম্মদ কামাল ও মিসেস কামাল, হাকিকুল ইসলাম খোকন ও দেলোয়ার মোল্লা।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পড়ে শোনান জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং কি ডিপ্লোমেটিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বা অব্যহত কাজের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কনস্যাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা বলেন, মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ে বিভিন্ন ডিপ্লোমেটিক কার্যক্রমও অব্যহত রয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রথম প্রেস সচিব নূরএলাহি মিনা উল্লেখ করেন, গত ২৫ মার্চে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিশনের কর্মকতা, রাষ্ট্রদূতবৃন্দ, আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন প্রথিতযশা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের সমন্বয়ে এ ব্যাপারে বড় ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ কিছুটা হলেও প্রশস্ত হবে।

কী নোট পেপার উপস্থাপনায় মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, জেনোসাইড কোনো হালকা বিষয় নয়। এর স্বীকৃতি চাওয়ার আগে ঠিক করতে হবে, কিভাবে এই স্বীকৃতি আদায় করা যায়? এই স্বীকৃতি আদায় করতে গিয়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে? কারণ গত ৪৭ বছরে পৃথিবী বদলেছে, বদলেছে আমাদের বাংলাদেশও! হালকা উদ্যোগে একাত্তরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় কঠিন হবে।

ড. প্রদীপ রঞ্জন কর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ও ভয়াবহ জেনোসাইডের বিচার ও তার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অনীহা ও ব্যর্থতার ফলে বিশ্বে একের পর এক জেনোসাইড অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, র্তমান সরকারের অনেকগুলো পদক্ষেপ একাত্তরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য


অন্যান্য