প্রবাস

হার মানল ব্রিটিশ হোম অফিস

মানবিকতার জয়

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানবিকতার জয়

  সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন

অবশেষে মানবিকতার কাছে হার মানতে বাধ্য হলো ব্রিটিশ হোম অফিস। লন্ডনে মৃত্যুশয্যায় শায়িত স্ত্রী জমিলুন নেসার বাংলাদেশে বসবাসরত স্বামী সৈয়দ হাবিবুর রহমানকে শেষ পর্যন্ত ডেকে নিয়ে লন্ডনের ভিসা দিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন। ব্রিটেনের মিডলসবারা জেইমস কুক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় শায়িত জমিলুন নেসা শেষবারের মতো স্বামীকে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করলে স্বামী সৈয়দ হাবিবুর রহমান ব্রিটিশ ভিসার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ডাক্তারের সুপারিশ থাকার পরও ব্রিটেনে এলে তিনি আর ফেরত যাবেন না- এমন ধারণার কথা জানিয়ে হাবিবুর রহমানের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে হোম অফিস। ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে আরও বলা হয়, হাবিবুর রহমান তার অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ অর্থ দেখিয়েছেন, ব্রিটেন সফরের সময় তা তার ব্যয় মেটাতে যথেষ্ট নয়। ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান চিঠিতে হাবিবুর রহমানকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই আবেদনের আর কোনো আপিলের সুযোগও নেই। একজন মৃত্যুপথযাত্রী নারীর স্বামীকে শেষ দেখার এমন আকুতি হোম অফিস প্রত্যাখ্যান করায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। জমিলুন নেসার বসবাসস্থল হার্টলিপুলের স্থানীয় প্রাচীন সংবাদপত্র 'হার্টলিপুল মেইল' বিষয়টি সংবাদ শিরোনাম করে ফলাও করে প্রচার করে। ওই সংবাদে হার্টলিপুলের স্থানীয় ব্যবসায়ী জমিলুন নেসার বড় ছেলে বাংলা গানের জনপ্রিয় গীতিকার সৈয়দ দুলাল তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, 'আমার বাবা তার মৃত্যুপথযাত্রী স্ত্রীকে দেখুক, হোম অফিস তা চায় না।' 'হার্টলিপুল মেইল' ছাড়াও অনলাইন সংবাদমাধ্যম সত্যবাণী, বাংলাদেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন বাংলা সংবাদমাধ্যমেও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনার ঝড় হার্টলিপুলের স্থানীয় এমপির দৃষ্টিগোচর হলে বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি সুপারিশ করেন হোম অফিসের কাছে। হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন 'হার্টলিপুল মেইলে'র সম্পাদকও। অবশেষে টনক নড়ে হোম অফিসের।

এদিকে, বাবা সৈয়দ হাবিবুর রহমানের ভিসাপ্রাপ্তির খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জমিলুন নেসার ছেলে সৈয়দ দুলাল। ব্রিটেন যে একটি মানবিক রাষ্ট্র, বিলম্বে হলেও ভিসা দেওয়ার হোম অফিসের এ সিদ্ধান্ত সেটিই প্রমাণ করল। তিনি বলেন, 'স্বামীর ভিসাপ্রাপ্তির খবরে আমার অসুস্থ মা খুব খুশি। খুশি আমরাও।' তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই তার বাবা সৈয়দ হাবিবুর রহমান ব্রিটেন এসে পৌঁছবেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ওয়াশিংটনে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত


আরও খবর

প্রবাস
ওয়াশিংটনে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯

  ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন ও বিভিন্ন সংস্কৃতির লোকজনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার লর্টোনে অবস্থিত লরেলহিল এলিমেন্টারি স্কুলে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় ফেয়ার ফ্যাক্স কাউন্টির চিফ প্রসিকিউটর রেই মরো ফিতা কেটে অনুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলা শুরু হয়। মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট গায়ক হৃদয় খানের গান।

মেট্রো ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি’ এই মেলার আয়োজন করে। 

মেলায় বাংলার ঐহিহ্যবাহী তিলের পিঠা, পাটি শাপটা, খেজুর পিঠা, মেড়া পিঠা, মুগপাকন, চিতই, ঝাল পাটি শাপটা, ভাপ পিঠা, সবজির চন্দ্র পুলি, তেলের পিঠা, মুগপাকন, এলেবেলে দুধ চিতই পিঠাসহ হরেক রকম পিঠার স্টল বসে। পিঠা ছাড়াও শাড়ী, জুয়েলারি ও সেলোয়ার কামিজেরও বেশকিছু স্টল বসে।

উৎসবে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়া ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসী আমেরিকানদের বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী হরেক পদের পিঠা খেতে দেখা যায়।

এদিকে কয়েকজন সংগঠক একই ব্যানারে আগামী ২৬ জানুয়ারি পার্শ্ববর্তী উডব্রিজে অপর এক পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে। অন্যান্য বছর একটি পিঠা মেলার আয়োজন করা হলেও এবার সংগঠকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়ায় দু'টি পিঠা উৎসব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের অভিষেক


আরও খবর

প্রবাস

  ইউএই প্রতিনিধি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বর্ণিল অভিষেক আযোজন বিদেশের মাটিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলো। দেশের সমৃদ্ধি ও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এই পেশাজীবী সংগঠন।

দুবাই পার্ল সিটি হোটেল হল রুমে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে আমিরাত প্রবাসী সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সহ সভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক এম আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল সাংবাদিকদের সহযোগিতায় সবসময় উদার উল্লেখ করে তিনি প্রবাসী সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নিজস্বতা প্রকাশেরও আহ্বান জানান। পরে প্রধান অতিথি নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। 

দুই পর্বের অনুষ্ঠানের অভিষেক পর্বে সংগঠনের সভাপতি শিবলী আল সাদিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোণের বার্তা সম্পাদক কলিম সরওয়ার।

প্রধান আলোচক বলেন, দেশের সাংবাদিকরা সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করতে পারে। অসঙ্গতি চোখে পড়লেই কোনরকম ভয় ভীতি ছাড়াই প্রকাশ করে। সাংবাদিকতার এমন একটি সোনালী সময়ে আরব আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই যাত্রায় দেশ ও প্রবাসের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের দূতালয় প্রধান প্রবাস লামারাং বলেন, ‌'সকল প্রবাসী সাংবাদিক একত্রিত হয়ে কাজ করছেন দেখে আনন্দিত। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে প্রেস ক্লাবের বাহিরে যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তাদেরকেও প্রেস ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।'

দ্বিতীয় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নাজমুল হক ও সানজিদা ইসলাম। এসময় সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি সিরাজুল হক ও যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান জনির সম্পাদনায় প্রকাশিত ৭২ পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা থেকে আগত ক্লোজ আপ তারকা শেফালী ও রানা খান। অনুষ্ঠানে আমিরাতের বিভিন্ন স্তরের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ও সামজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ছেলের মা হলেন টিউলিপ সিদ্দিক


আরও খবর

প্রবাস
ছেলের মা হলেন টিউলিপ সিদ্দিক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

  অনলাইন ডেস্ক

এবার ছেলের মা হলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনী টিউলিপ সিদ্দিক।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে হ্যাম্পস্টিডের রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন টিউলিপ। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে রাফায়েল মুজিব সেন্ট জন পার্সি। খবর বাসসের

বৃহস্পতিবার সকালে রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়ার পর হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড কিলবার্নের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক ও তার স্বামী ক্রিশ্চিয়ান পার্সি হাসপাতালের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ধাত্রী ও অন্যান্য কর্মীদের চমৎকার কাজ এবং আমাদের সন্তানকে সুন্দরভাবে দেখাশোনা করার জন্য তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের নেতৃত্বাধীন সরকারের বেক্সিট ইস্যুতে ভোটাভুটিতে অংশ নিতে সন্তানের জন্মদান পিছিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসেন টিউলিপ। মঙ্গলবার ব্রেক্সিট চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিতে হুইল চেয়ারে করে হাউস অব কমন্সে যান তিনি।

এর আগে ২০১৬ সালে টিউলিপ-পার্সি দম্পতির প্রথম সন্তান মেয়ে আজালিয়ার জন্ম হয়।