প্রবাস

যুক্তরাজ্য হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপন

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

যুক্তরাজ্য হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপন

হাইকমিশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম— সমকাল

  লন্ডন প্রতিনিধি

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনেও মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১১টায় হাইকমিশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।

এরপর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার শান্তি এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই পর্বে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

রোববার বিকেল ৩টায় বডেন-পাওয়েল হাউজে আয়োজন করা হয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং 'বাংলাদেশ-একটি দেশের জন্ম: ১৯৫২-১৯৭১ শীর্ষক' এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিংবদন্তি সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভারতের হাইকমিশনার রুচি ঘনশ্যাম, বৃটিশ এমপি পল স্কালি, থেরেসা ভিলারস ও ভ্যালেরি ভাজ এবং টাওয়ার হ্যামলেটস বারার স্পিকার আয়েস মিয়া। রাশিয়া ও শ্রীলংকার কূটনীতিক, বৃটিশ ও বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির বিপুল সংখ্যক মানুষ আলোচনা অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ 'তলাবিহীন ঝুড়ি' থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। সন্ত্রাস দমন ও সামাজিক উন্নয়নের দিক দিয়েও বাংলাদেশ পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আরো আন্তরিক ও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টা, দূরদর্শী ও সত্যনিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে তিনি সবাইকে একযোগে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার রুচি ঘনশ্যাম মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৃটিশ সাংসদরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তারা বর্তমান বাংলাদেশের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে লাঞ্ছিতা ২ লাখ নারী ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বৃটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশী নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ অনুসরণ এবং তা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আমরা আশা করি তার নেতৃত্বে ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম একটি উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

হাইকমিশনার বলেন, দেশ আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তাদের আরো সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উৎসর্গ করে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে লন্ডনস্থ প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত উদ্দীপনামূলক দেশাত্ববোধক সংগীত ও সেই সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বৈকালিক চা-নাস্তা পরিবেশনের মাধ্যমে ৪৮তম মহান বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য


অন্যান্য