প্রবাস

লন্ডনে সাপ্তাহিক 'পত্রিকা'র ২১ বছর পূর্তি উদযাপন

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৮

লন্ডনে সাপ্তাহিক 'পত্রিকা'র ২১ বছর পূর্তি উদযাপন

  সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন

লন্ডন থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষার পত্রিকা সাপ্তাহিক 'পত্রিকা' একুশ বছর পেরিয়ে বাইশে পা দিল এ বছর। এ উপলক্ষে রোববার লন্ডনের রমফোডের মে ফেয়ার ইভেন্টস ভেন্যুতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির এমপি রবার্ট জেমস বাকলেন্ড কিউসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী, হাউস অব লর্ডসের একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন, কেয়ম্যান আইল্যান্ডের সাবেক গভর্নর আনোয়ার চৌধুরী, ব্রিটেনের লেস্টার সিটি ক্লাবের ফুটবলার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা দেওয়ান চৌধুরী, 'পত্রিকা'র প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যানেল 'এস' এর চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ ওবিই, লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলো পত্রিকার সাংবাদিক কামাল আহমেদ এবং বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী।

বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপক ফারহান মাসুদ খানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন 'পত্রিকা'র সম্পাদক ইমদাদুল হক চৌধুরী। সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ।

এমপি রবার্ট জেমস বাকল্যান্ড কিউসি ব্রিটেনে বাংলা সংবাদপত্রের একশ' বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস রয়েছে জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটি এথনিক কমিউনিটি যখন নিজেদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সঙ্গে নিয়ে মূলধারায় অবস্থান নেয়, তখন সেটি শুধু তাদের নয়, মূলধারাকেই সমৃদ্ধ করে। এই ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণেই গড়ে উঠেছে আমাদের মাল্টিকালচারাল সোসাইটি।

ব্রিটেনের বাংলা সংবাদপত্রের সঙ্গে পূর্বপ্রজন্মের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রুশনারা আলী বলেন, বাংলা সংবাদপত্রের সঙ্গে রয়েছে আমাদের পিতৃপ্রজন্মের আবেগী সম্পর্ক। এতে আমরা আমাদের বাবাদের স্পর্শ পাই।

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা ডিজিটাল আগ্রাসনের এই যুগে প্রিন্ট মিডিয়া রক্ষায় নতুন কৌশল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, ব্রিটেনের বাংলা পত্রিকা কমিউনিটিকে অনেক দিয়েছে, এখন কমিউনিটির উচিত আজকের এই ডিজিটাল আগ্রাসন মোকাবেলায় প্রিন্ট মিডিয়ার পাশে দাঁড়ানো।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবিতে নিউইয়র্কে র‌্যালি


আরও খবর

প্রবাস

  এনআরবি নিউজ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্মরণকালের নৃশংস এ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে রোববার নিউইয়র্কে র‌্যালি করেছেন বাংলাদেশিরা। 

এ দিন ছিল জাতিসংঘ ঘোষিত ‘গনহত্যা প্রতিরোধ এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের রেজ্যুলেশন গ্রহণের ৭০তম বার্ষিকী’। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরেও এ উপলক্ষে সেমিনার হয়েছে।

এ দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশিরা জড়ো হন জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায়। ‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন, ইউএসএ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন- নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূর এলাহি মিনা। 

হোস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ড. প্রদীপ করের নেতৃত্বে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা এম এ আওয়াল, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, ঐক্য পরিষদের নেতা টমাস দুলু রায়, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রবিণী ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ার অধ্যাপক ড. সব্যসাচি দস্তিদার, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের শুভ রায়, প্রবিণী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সচিব শুভ জি দস্তিদার প্রমুখ। 

এ দিন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টা এডামা ডিয়েং বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারাবিশ্বে হিংসাত্মক বক্তব্য, বর্ণ-বিদ্বেষমূলক হামলা এবং জাতিগত কারণে সংঘাতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় আমাদের আরও জোরালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। 

এ সময় তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বরতার নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে মামলা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নিউইয়র্কে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে নানা কর্মসূচি


আরও খবর

প্রবাস

  নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ১৪ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা।  এ উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের ঢাকা মিলনায়তনে ওই দিন সন্ধ্যা ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। 

নিউইয়র্কে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার আয়োজনে এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রদীপ প্রজ্বলন, ট্রাফিক পেইন্টিং ‘লাল-অন্ধকারের ম্যুরাল', কবিতা আবৃত্তি, গণসঙ্গীতের আসর ও বুদ্ধিজীবী দিবসের ঘোষণাপত্র পাঠ।  দিবসটির কর্মসূচি সমাপ্ত হবে ডাইভারসিটি প্লাজায় প্রদীপ শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে।

এদিন শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সংহতি-সমাবেশ, গণসংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও বিশেষ পরিবেশনা, ট্রাফিক পেইন্টিং (মুক্ত চিত্রাঙ্কন): লাল-অন্ধকারের ম্যূরাল, গণসংগীত, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের গান, কবির উচ্চারিত স্বপাঠ, নজিব তারেক রচিত কথা ও অংকিত প্রতিকৃতি অবলম্বনে মিথুন আহমেদ গ্রন্থিত পরিকল্পিত ও নির্দেশিত পরিবেশনা 'নয়ন জলে ভাসি’ (শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মকথন), যুদ্ধদিনের কথা ‘স্মৃতিচিহ্নের একাত্তর’, বুদ্ধিজীবী দিবসের ঘোষণাপত্র পাঠ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আলোক শোকযাত্রা (রাত ১২টা ০১ মিনিটে) পালন করা হবে।

বাঙালি জাতির শোকাবহ এই দিনটিকে স্মরণ করার জন্যে গত ২০ বছর ধরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। 



সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নিউইয়র্কে গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত


আরও খবর

প্রবাস

  নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

বাঙ্গালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যোগানো গান ‘শোন একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মজিবরের কণ্ঠে’ গানটির অমর গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারকে নিউইয়র্কে স্মরণ করেছেন বাংলাদেশিরা।

গত গত ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বর্ণিল আয়োজনে নিউইয়র্কে প্রথমবারের তার জন্মবার্ষিকী পালিত হয়।

এদিন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে গান ও কবিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।  আয়োজনে ছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার স্মরণ সংসদ, নিউইয়র্ক’। 

গোপাল সান্যালের সঞ্চালনায় ও সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নিউইয়র্ক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কন্ঠশিল্পী সহ নানা শ্রেনী পেশার প্রবাসী  বাংলাদেশিরা।

 অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শিল্পী মুমু আনসারী শুভেচ্ছা বক্তব্যে অনেকগুলো বিখ্যাত গানের উল্লেখ করে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচয় তুলে ধরেন। আরও বক্তব্য রাখেন  প্রবীণ সংগীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা সব্যসাচী শিল্পী তাজুল ইমাম, শিতাংশু গুহ প্রমুখ।

বক্তারা উল্লেখ করেন, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ১৯২৫ সালে ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্ম নেন। তার গানের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার যে অবদান রেখেছেন তা অনস্বীকার্য। তার অবদানকে স্মরণ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই মহান শিল্পীর অবদানের কথা জানাতে তার জন্মস্থান পাবনায়  স্মৃতি রক্ষা খুবই জরুরী বলেও অভিমত পোষণ করেন বক্তারা।

৭১ এর কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় তার প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ স্মৃতিচারণায় গৌরীপ্রসন্নকে তুলে ধরেন। উনিশ শ' একাত্তরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের  পরিচয়ের সূত্রে স্বল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে গৌরীপ্রসন্ন তাকে স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন, এবং বাংলাদেশের প্রতি তার অসীম ভালবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সঙ্গীত পর্বে যোগ দেন ৭১ এর কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান। তিনি শুরু করেন গীতিকার গৌরী প্রসন্নর ‘শোন একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মজিবরের কণ্ঠে সুরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি' গান দিয়ে আর শেষ করেন ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ দিয়ে। উল্লেখ্য, গৌরী প্রসন্নর গানটি ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানে ঠাঁই পেয়েছিল।
 

সংশ্লিষ্ট খবর