প্রবাস

লন্ডনে কারী লাইফ এওয়ার্ড : রন্ধন শিল্পীরাই কারী ইন্ডাস্ট্রির মেরুদণ্ড

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮

  সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন

রন্ধন শিল্পী বা শেফরাই হলেন ব্রিটেনের কারী ইন্ডাস্ট্রির মেরুদণ্ড। ইন্ডাস্ট্রির মুখপত্রখ্যাত ম্যাগাজিন কারী লাইফের নবম অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ও গালা ডিনার অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও অতিথিরা।

রোববার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় লন্ডনের রয়েল ল্যাঙ্কাস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত জমকালো এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সেলিব্রেটিসহ ব্রিটিশ সোসাইটির উচ্চ পর্যায়ের ব্যাক্তিরা। ছিলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাবসায়ীরা।

অনুষ্ঠানে ছিল অসাধারণ সব পারফরম্যান্স, ছিল মন মাতানো বিনোদন। বিজয়ীদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ছিল কারী শিল্পের সংকট নিরসনে জোরালো দাবি। অনুষ্ঠানে আগতরা নাচ-গানে ভরপুর মন মাতানো এই অনুষ্ঠানে পুরো সন্ধ্যাই ছিলেন বিমোহিত।

ব্রিটেনের অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত চ্যানেল-৪ নিউজের প্রেজেন্টার জন স্নো’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত জমকালো এই গালা নাইটে অঞ্চল ভিত্তিক বাছাইকৃত সেরা রন্ধন শিল্পী শেফদের স্বীকৃতি দেওয়া হয় ক্রেস্ট হাতে তুলে দিয়ে। সেরা শেফদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ব্রিটিশ কারী কেটারিং বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ার পল স্কেলী এমপি, রোশনারা আলী এমপি, রূপা হক এমপি, লর্ড কারেন বিলিমরিয়া এবং কেয়মেন আইল্যান্ডের সাবেক গভর্ণর আনোয়ার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারী লাইফের সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে কারী লাইফ শেফ অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, রন্ধন শিল্পের মেরুদণ্ড হলেন শেফরা। এই শিল্পের আসল শিল্পী এই শেফদের স্বীকৃতি ও তাদের মেধার পরিচয় তুলে ধরতেই আজ থেকে ৯ বছর আগে কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ড শুরু করি আমরা। এই ৯ বছরে অ্যাওয়ার্ডে যোগ হয়েছে নতুন নতুন পর্ব।

তিনি বলেন, প্রতিটি পর্বের পরিকল্পনাই কারী সেক্টরকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়াস থেকেই নেওয়া হয়েছে। শুধু শেফ অ্যাওয়ার্ড নয়, বাংলাদেশি শেফদের তৈরি ব্রিটিশ কারী শিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রমোট করারও প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে কারী লাইফ- এমন মন্তব্য করে কারী লাইফ সম্পাদক বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারী ইন্ডাস্ট্রির আধুনিকায়ন চেষ্টা আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া। পূর্ব প্রজন্মের হাত থেকে আমাদের হাত হয়ে এই ইন্ডাস্ট্রি একদিন যাবে ভবিষ্যত প্রজন্মের হাতে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের গৌরবের উত্তরাধিকার হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যেন এই শিল্প ঠিকে থাকে সেই চেষ্টাই করছে কারী লাইফ।

স্টাফ সংকটসহ কারী সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্রিটিশ সরকারের আরও মনযোগী হওয়া উচিত- এমন মন্তব্য করে কারী লাইফের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অন্যতম যোগানদার এই সেক্টরটি যদি সমস্যার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে ক্ষতি শুধু এই সেক্টরের সঙ্গে জড়িতদেরই নয়, পুরো জাতির। কারী লাইফ এই বিষয়গুলোই বারবার সরকারের নজরে আনার চেষ্টা করছে।

কোবরা বিয়ারের চেয়ারম্যান লর্ড কিরান বিলিমরিয়া কারী শিল্পের প্রতি সরকারের অবহেলার অভিযোগ এনে তার বক্তব্যে বলেন, আমি আশা করেছিলাম সেক্রেটারি অব স্টেইট ফর ফুড মাইক্যাল গোভ আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু তিনি নেই।

কারী শিল্পকে উদ্দেশ্য করে সাবেক ফরেন সেক্রেটারী বরিস জনসনের কোনো এক সময়ের বিতর্কিত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে লর্ড বিলিমরিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্যাক্স নেবেন, ভিএটি নেবেন, এই ইন্ডাস্ট্রির অর্থে রাষ্ট্রীয় কোষাগার মোটাতাজা করবেন, অথচ এটির সংকটে পাশে দাঁড়াবেন না এটিতো হয় না। কারী ইন্ডাস্ট্রির বিকাশ ও উন্নয়নে কারী লাইফের অব্যাহত ভূমিকার প্রশংসা করে লর্ড বিলিমরিয়া সুখে-দুঃখে এই শিল্পের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন তার বক্তৃতায়।

কারী লাইফ অ্যাওয়ার্ডের দীর্ঘ ৯ বছরের পথ চলায় এবার নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে আরও কিছু ব্যাতিক্রমী পর্ব। এরমধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মরহুম আব্দুর রহিমের নামে ‘কারী লাইফ এম এ রহিম স্মৃতি এওয়ার্ড’, কারী লাইফ আন্তর্জাতিক সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড এবং কাস্টমার পছন্দের সেরা ডিস। কারী সেক্টরে বিশেষ অবদান রাখায় এবার কারী লাইফ এম এ রহিম স্মৃতি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বজলুর রশীদ এমবিই এবং কারী লাইফ আন্তর্জাতিক সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড পান হিলটন সিংঙ্গাপুরের চিফ এক্সিকিউটিভ কাজী হাসান।

কাস্টমার পছন্দের ডিসে স্থান করে নেয় চিকেন কুরমা, জালফ্রেজী ও চিকেন টিক্কা মাসালা।

অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ও গালা ডিনারের আগে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড কারী এক্সপো। রন্ধন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহকারীরা নিজেদের পণ্যদ্রব্য প্রদর্শন করেন এই এক্সপোতে। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি সেক্টর যাতে একে অন্যের সহযোগী হতে পারে, এই চিন্তা থেকেই এবার অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড কারী এক্সপো। কারী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা বিক্রেতাদের যুগসূত্র স্থাপনের জন্য এ ধরণের একটি এক্সপো বা মেলার আয়োজন লন্ডনে এবারই প্রথম। এখন থেকে প্রতি বছরই এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে, এমনটিই জানান কারী লাইফ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কারী লাইফ পাবলিকেশনের আরেকটি নতুন প্রকাশনা ‘ওরিয়েন্টাল ফুড লাইফ’-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই প্রকাশনাটি কারী শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেবে কারী পরিবার সদস্যদের।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

'এবারের নির্বাচনও সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ ছিল'


আরও খবর

প্রবাস

  এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতোই গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানে সক্ষম হয়েছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের টেলি-কনফারেন্সে এমন মত প্রকাশ করা হয়।

১২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ঐক্য পরিষদের কেদ্রীয় কমিটির এই কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট দীপঙ্কর ঘোষ।

টেলি-কনফারেন্সের অন্যতম সমন্বয়কারী যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস সোমবার বিস্তারিতভাবে এসব তথ্য জানান।

ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সঞ্চালনায় এই কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কানাডা, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

নির্বাচন পূর্ব টেলি-কনফারেন্সের ধারাবাহিকতায় এই কনফারেন্সের মূল বিষয় ছিল সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বহির্বিশ্ব কমিটিগুলোর সার্বিক ও সার্বক্ষণিক সংযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, যাতে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের চিত্র প্রকাশ পায়, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা যায়, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত নির্বাচন পূর্ব এবং পরবর্তী সংখ্যালঘুদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বহির্বিশ্বের ঐক্য পরিষদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত উলেতখ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির কঠোর পরিশ্রমের ফলে এবার নির্বাচনোত্তর সহিংসতা অনেকটাই কম হয়েছে, আশানুরূপ না হলেও সংসদে মাইনোরিটি প্রতিনিধিত্ত্ব বেড়েছে। এই প্রথম নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন নির্বাচনে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার না করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনো বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখতে সফল হয়েছেন বলেও কনফারেন্সকে জানান রানা দাসগুপ্ত।

রানা দাসগুপ্ত আরও জানান, এই প্রথম সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ঐক্য পরিষদের সাথে যোগাযোগ রেখে নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপদে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সংখ্যালঘুদের জন্য ১৯৭০ এর নির্বাচনের মতোই নিরাপদ ছিল।

তিনি বলেন, 'তবে আমাদের আত্মপ্রসাদ লাভ করার মতো এখনো অবস্থা হয়নি। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। যেমন আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের অঙ্গীকার করেনি, যদিও বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সে অঙ্গীকার করেছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র নাথ টেলিকনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ যারা দেশের বাইরে থেকেও দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের কথা ভুলে যাননি, তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্তের সঠিক, সাহসী ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

কানাডা ঐক্য পরিষদের ড. অনুরাধা বোস কানাডার আইনসভায় পেশ করা মেমোরেন্ডাম এর বিষয় তুলে ধরেন এবং অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, সে কারণে কানাডার হাই কমিশন ঢাকায় ঐক্য পরিষদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে।

আলোচনায় ইউকে ঐক্য পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সমীর দাস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হতে যে অঙ্গীকার করেছে তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে- যাতে সে অঙ্গীকার শুধুমাত্র তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার অস্ত্রই না হতে পারে।

কনফারেন্সে আরও সিদ্ধান্ত হয়, যে বা যারা অতীতে বা ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকবে বলে প্রমাণিত হবে এবং সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নেতা যারা এর সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত হবে, তাদের জাতিসংঘভুক্ত দেশে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ভিসা প্রদান না করা, যাদের ভিসা আছে তা বাতিল করা, এবং জাতিসংঘের কোনো প্রোগ্রামে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও সিদ্ধান্ত হয়, ওইসব চিহ্নিত 'দুস্কৃতিকারী' ও তাদের মদদদানকারী সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের একটা কালো তালিকা প্রকাশ করার প্রয়জনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ইউএসএ ঐক্য পরিষেদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন তিন সম্প্রদায়ের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কবীন্দ্রনাথ সেন, রেভারেন্ড জেমস রায় এবং নয়ন বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস, সহকারী সম্পাদক পার্থ তালুকদার, ট্রেজারার বরম্নন পাল, উমা চক্রবর্তী, গীতা চক্রবর্তী ও অ্যাটর্নি অশোক কে কর্মকার।

কানাডা থেকে ড. অনুরাধা বোস, কিরীট সিনহা রায় ও অলোক চৌধুরী, ইউকে ঐক্য পরিষদের ব্যারিস্টার সমীর দাস, শিপ্রা দাস, তারাপদ সরকার, স্বপন মজুমদার, আয়ারল্যান্ড থেকে সমীর ধর ও বিষ্ণু সরকার, জাপান থেকে সুখেন ব্রহ্ম, অস্ট্রেলিয়া থেকে অমল দত্ত এবং জার্মানি থেকে বিমল মজুমদার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মুক্তিযাদ্ধা কয়সর সৈয়দ আর নেই


আরও খবর

প্রবাস
মুক্তিযাদ্ধা কয়সর সৈয়দ আর নেই

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

  লন্ডন প্রতিনিধি

একাত্তরের রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযাদ্ধা ব্রিটেন প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা কয়সর মাহমুদুল হক সৈয়দ আর নেই (ইন্না... রাজিউন)।

শনিবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে লন্ডনের সেন্ট জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সময় রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন সত্তোরোর্ধ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সিলেটের খুররম খলার অধিবাসী কয়সর সৈয়দ দীর্ঘদিন যাবত লন্ডনের টুটুল এলাকায় বসবাস করছিলেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস বারার প্রাক্তন হাউজিং অফিসার কয়সর সৈয়দ ব্রিটেনে বসবাসরত সিলেটবাসীর বৃহত্তর সংগঠন গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।

মিডিয়াবান্ধব মুক্তিযোদ্ধা কয়সর সৈয়দ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেতার বাংলা রেডিওর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক টক শো 'গৌরবের একাত্তর’ উপস্থাপনা করেন। এছাড়া বিজয়ফুলসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই কয়সর সৈয়দের নামাজে জানাজার সময় অবহিত করা হবে বলে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে লন্ডনে শোক বই


আরও খবর

প্রবাস

  লন্ডন প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে লন্ডনে একটি শোক বই খোলা হয়েছে।

১১ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশ ইয়ুথ মুভমেন্টের (বিওয়াই এম) অফিসে সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা এই বইটি আনুষ্ঠানিক ভাবে খোলা হয়।

আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরউদ্দীন আহমেদ, সেক্রেটারি আনসার আহমেদ উল্লাহ, আলতাফ হোসেন বাইস, রাজন উদ্দিন জালাল, ফানু মিয়া, আবদুল মালিক খোকন, রুহুল আমিন, আলা মিয়া আজাদ, আহাদ, রাজু নাথান, ফজলু মিয়া ও জামাল খান এই বইটিতে স্বাক্ষর করেন।

শোক বইটি বি ওয়াই এম এর অফিসে, ২১ হেনরিকাস স্ট্রিট, ই১ ১এন বি তে থাকবে ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি অফিসের সময় এবং তারপর লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অফিসে, ৩৭ বি প্রিন্সলেট স্ট্রিট, ই১ ৫এল পি থেকে সমবেদনা প্রকাশ করার জন্য।

এ উপলক্ষে আলতাব আলী ফাউন্ডেশন ২০ জানুয়ারি বিকেল ৬ ব্র্যাডিসেন্টারে একটি শোক সভার আয়োজন করেছে।

গত ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মারা যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর