প্রবাস

পরমাণু যুদ্ধবিরোধী চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রশংসা

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৮

পরমাণু যুদ্ধবিরোধী চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রশংসা

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডা. কামরুল হাসান খান। ছবি-এনআরবি নিউজ।

  অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পারমানবিক যুদ্ধ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক চিকিৎসক সমাজের (ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ান্স ফর প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়ার-আইপিপিএনডব্লিউ)৩ দিনবাপী বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রশংসা এবং আঞ্চলিক শান্তির পূর্বশর্ত হিসেবে রাজনৈতিক স্থিতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার সবকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সূচকেও এগিয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা মন্তব্য করেছেন। খবর এনআরবি নিউজের।

এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। তিনি আন্তর্জাতিক এই ফোরামের দক্ষিণ এশিয়া থেকে নির্বাচিত আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট। সম্মেলন থেকে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউ ইয়র্ক ত্যাগের আগে এসব তথ্য জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল এ সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কর্মদক্ষতা, শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মযোগ্যতা অনেক প্রসারিত, জনজীবনে স্বস্তি আনার পাশাপাশি জীবন-মানের উন্নয়নে নিরন্তর প্রয়াস ইত্যাদি উচ্চারিত হয় আমাদের সেই সম্মেলনে। পারমানবিক যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে যে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে, সে প্রসঙ্গে আলোচনাকালে এমন অভিমত পোষণ করা হয়, যা আমাকে অভিভূত করেছে বাংলাদেশি হিসেবে।

১৯৮৫ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই সংস্থার সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন সারা দুনিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সমাজবিজ্ঞানীরা, যারা সকলেই শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার জন্য নিজেদের নিবেদিত রেখেছেন বহুবছর যাবত। 

ডা. কামরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিউক্লিয়ার টেস্টের সময় উভয় দেশ সফর করেছেন এমন মানববিধ্বংসী তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহবানে। এর পরের বছরই জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ ও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের তদারকিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সে স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর এসব সম্ভব হচ্ছে ব্যক্তি শেখ হাসিনা সব ধরনের লোভ-লালসা-ঘুষ-দুর্নীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হওয়ায়। এভাবেই জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম আজ সর্বমহলে অত্যন্ত প্রশংসার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। 

সম্মেলন শেষে নিউইয়র্কে ফিরে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এক সেমিনারেও বক্তব্য দেন ডা. কামরুল। 

'বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচনে পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারে ডা. কামরুল উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত পেশাজীবীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন,  মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসা বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো সরকার গঠনের বিকল্প নেই। তাই, সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শেখ হাসিনার মনোনীতদের জয়ী করতে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিজ এলাকায় যেতে হবে। আর যারা যেতে পারবেন না, তারা যেন ফোন, ইমেলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সকলকে উদ্বুদ্ধ করেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্যে।

 ডা. কামরুল বলেন, সামনের নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে সচেতন সকল প্রবাসীকে।

গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ইত্যাদি গার্ডেনে এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল হক এবং সঞ্চালনা করেন হোস্ট সংগঠনের সেক্রেটারি কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান। এতে আরও অংশ নেন কৃষিবিদ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি আব্দুস সামাদ আজাদ, ড. এনামুল হক, অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান, রুবিনা মান্নান, শিতাংশু গুহ প্রমুখ। 

মন্তব্য


অন্যান্য