প্রবাস

মিসিগানে সর্ববৃহৎ ম্যুরাল

বাংলাদেশ: কামিং টু আমেরিকা

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ: কামিং টু আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান অঙ্গরাজ্যের বাংলা টাউনে রোববার 'বাংলাদেশ :কামিং টু আমেরিকা' ম্যুরালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী ভিক্টর কুইনোনেজের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরা -সংগৃহীত

  সমকাল ডেস্ক

মিসিগান অঙ্গরাজ্যের বাংলা টাউনে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশের লাল-সবুজে আঁকা সর্ববৃহৎ ম্যুরাল- 'বাংলাদেশ : কামিং টু আমেরিকা'।  খবর :এনআরবি নিউজ।

বাংলা টাউন খ্যাত হামট্রামিক ও ডেট্রয়েট শহরের সীমানায় বিশাল দেয়ালজুড়ে  লাল-সবুজে এই বাংলাদেশ। এ টাউনের প্রবেশদ্বারে চোখ আটকে যাবে বিশাল এ চিত্রকর্মে। আর এর মধ্য দিয়েই বহুজাতিক এ সিটিতে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের জয়গান ধ্বনিত হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

এই টাউনের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসীই বাংলাদেশি। কয়েক দশকে এ শহরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের আবাস। শহরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট গড়ে তুলেছেন তারা। স্থানীয় অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বাংলার এ ম্যুরাল বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করবে। অভিবাসনবিরোধী সরকারের সময় আঁকা এই বিশাল ম্যুরাল নিজেদের অধিকার, মর্যাদা ও সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি জীবনচিত্রের এই ম্যুরাল
রোববার দুপুরে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫৫ ফুট বিস্তার ও ৪৬ ফুট উঁচু এটি তৈরি করেছেন মেক্সিকান অঙ্কনশিল্পী ভিক্টর কুইনোনেজ। নিউইয়র্কের 'মার্কা২৭' নামে পরিচিত এ শিল্পী নিয়ো-ইন্ডিজেনাস (নব্য-আদিবাসী) স্টাইল চিত্রাঙ্কনের জন্য বিপুল জনপ্রিয়।

'ওয়ান ডেট্রয়েট' নামের সংগঠনের উদ্যোগে এর খরচের অর্ধেক জোগান দিয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। বাকি অর্থ এসেছে সরকারি কোষাগার থেকে। বাংলাদেশি আমেরিকান দ্বিতীয় প্রজন্মের কিছু তরুণ-তরুণী এ কাজের নেতৃত্বে ছিলেন। সুবহা, ফারহা, তামান্না, ফারহান, মানিশা প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

লাল-সবুজের এই বৃহৎ ম্যুরালের বাম পাশের নিচের অংশে সবুজ চা বাগান। ডান পাশের চা বাগানে এক বাংলাদেশি আমেরিকান রমণী, তার পরনে লাল চাদর। লাল সবুজে বাংলার পতাকার প্রতিচ্ছবি। তার পাশে নিচের অংশে আঁকা হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। রমণীর খোলা চুল, তাতে দুটি শ্বেত শাপলা। এ ছাড়া নকশিকাঁথায় সাজানো চাদর। ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে আঁকা হয়েছে শহীদ মিনার। '৫২-তে বাংলা ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে আঁকা হয়েছে বিশাল আকৃতির অ আ ক খ বর্ণমালা।

অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী নিয়ে দেয়ালচিত্র হলেও বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে এই প্রথম দেশের বাইরে মার্কিন প্রশাসনের সহায়তায় এত বড় ম্যুরাল তৈরি হলো।

ডেট্রয়েট-হামট্রামিক শহরের সীমানায় ৩১০৫ কার্পেন্টার এভিনিউতে অবস্থিত ব্রিজ একাডেমি মাধ্যমিক স্কুলের বিশাল দেয়ালজুড়ে এ চিত্রকর্মের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মিসিগান অঙ্গরাজ্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলা স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা গান পরিবেশন করেন। উদ্বোধনে আগত দর্শনার্থীদের ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, কটন ক্যান্ডি, চা, কফি দ্বারা আপ্যায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ড. দেবাশিষ মৃধা, চিনু মৃধা, ড. জাকিরুল হক (টুকু), জামি খান, ফেরদৌস গাজী, ড. নাজমুল হাসান শাহীন, মিসিগান রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর প্রার্থী গারলিন গিলক্রিস্ট, মোহাম্মদ মুসা, আমান মিয়া, মোহাম্মদ আজিমসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য


অন্যান্য