প্রবাস

নিউইয়র্কে কবর কিনবে দিনাজপুর জেলা সমিতি

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৮

নিউইয়র্কে কবর কিনবে দিনাজপুর জেলা সমিতি

  নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ড শহরের মুসলিম কবরস্থানে কবর কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউইয়র্কস্থ দিনাজপুর জেলা সমিতি।

স্থানীয় সময় রোববার জামাইকার একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার সুবহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে প্রধান বিষয়বস্তু ছিল লং আইল্যান্ড শহরের মুসলিম কবরস্থানে ১০০টি কবর কেনার বিষয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা মতামত প্রকাশের পর নিউইয়র্ক প্রবাসী দিনাজপুরবাসীদের জন্য পর্যায়ক্রমে ১০০টি কবরের জায়গা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কবর প্রতি ১ হাজার ৪’শ ডলার করে এতে মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ৪২ হাজার ডলার।

সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠাতে নানা রকম ঝামেলা পোহাতে হয়। শুধু তাই নয়, মরদেহ পাঠানোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতেও অনেক বিলম্ব হয়। ইসলামী শরিয়া মোতাবেক যত দ্রুত লাশ দাফন করা হয় ততই মঙ্গল। এসব দিক বিবেচনা করে এবং প্রবাসী দিনাজপুরবাসীদের সুবিধার্থে লং আইল্যান্ড শহরের মুসলিম কবরস্থানে ১০০টি কবর কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, ১ হাজার ৪ ডলার জমা দিয়ে সংগঠনের যেকোন সদস্য দিয়ে তাদের নিজেদের কিংবা আত্মীয় স্বজনের জন্য বরাদ্দের কবর কিনতে পারবেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন কবর কেনার জন্য অর্থ জমা দিয়েছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমিতির সহসভাপতি অ্যাড. আব্দুর রশিদ, সাধারনণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী ভুট্টু, কোষাধ্যক্ষ এফ আলম নিউমুন, সদস্য রেজ্জাকুল ইসলাম, তারেক জাহেরি, নার্গিস রহমান ও হায়দার আলী। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

'এবারের নির্বাচনও সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ ছিল'


আরও খবর

প্রবাস

  এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে

১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতোই গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানে সক্ষম হয়েছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের টেলি-কনফারেন্সে এমন মত প্রকাশ করা হয়।

১২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ঐক্য পরিষদের কেদ্রীয় কমিটির এই কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট দীপঙ্কর ঘোষ।

টেলি-কনফারেন্সের অন্যতম সমন্বয়কারী যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস সোমবার বিস্তারিতভাবে এসব তথ্য জানান।

ঐক্য পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সঞ্চালনায় এই কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কানাডা, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

নির্বাচন পূর্ব টেলি-কনফারেন্সের ধারাবাহিকতায় এই কনফারেন্সের মূল বিষয় ছিল সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বহির্বিশ্ব কমিটিগুলোর সার্বিক ও সার্বক্ষণিক সংযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, যাতে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের চিত্র প্রকাশ পায়, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা যায়, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত নির্বাচন পূর্ব এবং পরবর্তী সংখ্যালঘুদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বহির্বিশ্বের ঐক্য পরিষদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত উলেতখ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির কঠোর পরিশ্রমের ফলে এবার নির্বাচনোত্তর সহিংসতা অনেকটাই কম হয়েছে, আশানুরূপ না হলেও সংসদে মাইনোরিটি প্রতিনিধিত্ত্ব বেড়েছে। এই প্রথম নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন নির্বাচনে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার না করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনো বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখতে সফল হয়েছেন বলেও কনফারেন্সকে জানান রানা দাসগুপ্ত।

রানা দাসগুপ্ত আরও জানান, এই প্রথম সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ঐক্য পরিষদের সাথে যোগাযোগ রেখে নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপদে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সংখ্যালঘুদের জন্য ১৯৭০ এর নির্বাচনের মতোই নিরাপদ ছিল।

তিনি বলেন, 'তবে আমাদের আত্মপ্রসাদ লাভ করার মতো এখনো অবস্থা হয়নি। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। যেমন আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের অঙ্গীকার করেনি, যদিও বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সে অঙ্গীকার করেছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র নাথ টেলিকনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ যারা দেশের বাইরে থেকেও দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের কথা ভুলে যাননি, তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্তের সঠিক, সাহসী ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

কানাডা ঐক্য পরিষদের ড. অনুরাধা বোস কানাডার আইনসভায় পেশ করা মেমোরেন্ডাম এর বিষয় তুলে ধরেন এবং অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, সে কারণে কানাডার হাই কমিশন ঢাকায় ঐক্য পরিষদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে।

আলোচনায় ইউকে ঐক্য পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সমীর দাস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হতে যে অঙ্গীকার করেছে তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে- যাতে সে অঙ্গীকার শুধুমাত্র তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার অস্ত্রই না হতে পারে।

কনফারেন্সে আরও সিদ্ধান্ত হয়, যে বা যারা অতীতে বা ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকবে বলে প্রমাণিত হবে এবং সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নেতা যারা এর সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত হবে, তাদের জাতিসংঘভুক্ত দেশে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ভিসা প্রদান না করা, যাদের ভিসা আছে তা বাতিল করা, এবং জাতিসংঘের কোনো প্রোগ্রামে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও সিদ্ধান্ত হয়, ওইসব চিহ্নিত 'দুস্কৃতিকারী' ও তাদের মদদদানকারী সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের একটা কালো তালিকা প্রকাশ করার প্রয়জনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ইউএসএ ঐক্য পরিষেদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন তিন সম্প্রদায়ের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কবীন্দ্রনাথ সেন, রেভারেন্ড জেমস রায় এবং নয়ন বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস, সহকারী সম্পাদক পার্থ তালুকদার, ট্রেজারার বরম্নন পাল, উমা চক্রবর্তী, গীতা চক্রবর্তী ও অ্যাটর্নি অশোক কে কর্মকার।

কানাডা থেকে ড. অনুরাধা বোস, কিরীট সিনহা রায় ও অলোক চৌধুরী, ইউকে ঐক্য পরিষদের ব্যারিস্টার সমীর দাস, শিপ্রা দাস, তারাপদ সরকার, স্বপন মজুমদার, আয়ারল্যান্ড থেকে সমীর ধর ও বিষ্ণু সরকার, জাপান থেকে সুখেন ব্রহ্ম, অস্ট্রেলিয়া থেকে অমল দত্ত এবং জার্মানি থেকে বিমল মজুমদার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মুক্তিযাদ্ধা কয়সর সৈয়দ আর নেই


আরও খবর

প্রবাস
মুক্তিযাদ্ধা কয়সর সৈয়দ আর নেই

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

  লন্ডন প্রতিনিধি

একাত্তরের রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযাদ্ধা ব্রিটেন প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা কয়সর মাহমুদুল হক সৈয়দ আর নেই (ইন্না... রাজিউন)।

শনিবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে লন্ডনের সেন্ট জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সময় রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন সত্তোরোর্ধ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

সিলেটের খুররম খলার অধিবাসী কয়সর সৈয়দ দীর্ঘদিন যাবত লন্ডনের টুটুল এলাকায় বসবাস করছিলেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস বারার প্রাক্তন হাউজিং অফিসার কয়সর সৈয়দ ব্রিটেনে বসবাসরত সিলেটবাসীর বৃহত্তর সংগঠন গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।

মিডিয়াবান্ধব মুক্তিযোদ্ধা কয়সর সৈয়দ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেতার বাংলা রেডিওর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক টক শো 'গৌরবের একাত্তর’ উপস্থাপনা করেন। এছাড়া বিজয়ফুলসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই কয়সর সৈয়দের নামাজে জানাজার সময় অবহিত করা হবে বলে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে লন্ডনে শোক বই


আরও খবর

প্রবাস

  লন্ডন প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে লন্ডনে একটি শোক বই খোলা হয়েছে।

১১ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশ ইয়ুথ মুভমেন্টের (বিওয়াই এম) অফিসে সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা এই বইটি আনুষ্ঠানিক ভাবে খোলা হয়।

আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরউদ্দীন আহমেদ, সেক্রেটারি আনসার আহমেদ উল্লাহ, আলতাফ হোসেন বাইস, রাজন উদ্দিন জালাল, ফানু মিয়া, আবদুল মালিক খোকন, রুহুল আমিন, আলা মিয়া আজাদ, আহাদ, রাজু নাথান, ফজলু মিয়া ও জামাল খান এই বইটিতে স্বাক্ষর করেন।

শোক বইটি বি ওয়াই এম এর অফিসে, ২১ হেনরিকাস স্ট্রিট, ই১ ১এন বি তে থাকবে ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি অফিসের সময় এবং তারপর লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অফিসে, ৩৭ বি প্রিন্সলেট স্ট্রিট, ই১ ৫এল পি থেকে সমবেদনা প্রকাশ করার জন্য।

এ উপলক্ষে আলতাব আলী ফাউন্ডেশন ২০ জানুয়ারি বিকেল ৬ ব্র্যাডিসেন্টারে একটি শোক সভার আয়োজন করেছে।

গত ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মারা যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর