রাজনীতি

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ'তে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তার শরীর প্রতিদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে, অবনতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিহ্ন করতেই তারা (সরকার) এটা করছেন। এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।

সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার আইনগত অধিকার জামিন দেওয়া হোক। তাকে মুক্ত করা হোক। অন্যথায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের যে কোনো অবনতি, যেকোনো পরিণতির জন্যে সম্পূর্ণভাবে এই সরকারই দায়ী থাকবে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ। প্রতিদিনই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। তাকে বিছানা থেকে উঠাতে দুজনকে সাহায্য করতে হয়, বাথরুমে যাওয়ার জন্য দু'জনের সাহায্যে হুইল চেয়ারে করে নিতে হয়। তিনি পা ভাঁজ করতে পারেন না, চেয়ারে বসলে পা সোজা করে রাখতে হয়। রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না, তার দুই কাঁধ ও হাতগুলোর পেশী শক্ত হয়ে যাচ্ছে। তার অসুখটা এমন অসুখ যে, যে ক্ষতিটা হবে তা আর কোনো চিকিৎসাতেই ফিরে আসবে না। তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না উদ্দেশ্যমূলকভাবে। জামিনে মুক্তি পেলে তার সুবিধা মতো দেশে হোক, বিদেশে হোক চিকিৎসা নিতে পারতেন।

খালেদা জিয়া এখন সুস্থ হয়ে গেছেন- বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে আবারও কারাগারে পাঠানোর ক্ষেত্র তৈরি করছে। এসময় তিনি বিএসএমএমইউ'র মেডিকেল প্রতিবেদন পড়ে শোনান;যেখানে তার জটিল রোগের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্যারোলে আবেদন করবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্যারোল চাওয়ার অধিকার তাদের নাই। খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন, তিনি প্যারোল চাইবেন না। ভবিষ্যতে চাইবেন কিনা তা তারা বলতে পারবেন না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইন থেকে রাজনৈতিক বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা জামিনের জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু পদে পদে বাধা, রাজনৈতিক প্রভাব।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস ও চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসক হিসেবে নেওয়া শপথ পালন করা হচ্ছে না। একজন চিকিৎসককে ধর্ম, বর্ণ, রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে তার রোগীর সেবা দেওয়ার শপথ নিতে হয়। কিন্তু এখানে রাজনীতি আর চাকুরির বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স ৭৫ বছর চলছে। তার ব্লাড সুগার ১৪। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটাকে স্বাভাবিক বলছে। যারা বলেন তারা চিকিৎসক। তারা মিথ্যা কথা বলছেন। সরকারের শেখানো বুলি বলছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য


অন্যান্য