রাজনীতি

৫৮৬ কেন্দ্রের সব ভোট নৌকায়: সুজন

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯

৫৮৬ কেন্দ্রের সব ভোট নৌকায়: সুজন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন সুজনের নেতারা- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। এ ছাড়া ৭৫টি নির্বাচনী এলাকার ৫৮৬টি কেন্দ্রের সব ভোট নৌকা প্রতীকে পড়েছে। এসব ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলছে, শত বছরের ইতিহাসেও শতভাগ ভোটের এমন নজির নেই। তাই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে এই অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছে সুজন।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, দুটি আসন ছাড়া একটানা চারটি নির্বাচনে জয়ী আসনগুলোতে ধানের শীষের প্রার্থী অস্বাভাবিক কম ভোট পেয়েছেন। আবার মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভোটের ব্যবধানও স্বাভাবিক নয়।

সুজন জানিয়েছে, ইভিএম ও ব্যালট পেপার ভোটের মধ্যে অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ইভিএম পদ্ধতিতে ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় ভোট হয়। তুলনা করলে দেখা যায়, ৩০০ আসনে গড়ে ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পড়লেও ইভিএমে ভোট পড়ার গড় ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ। রংপুর-৩ আসনে দ্য মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে সবচেয়ে কম ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ইভিএমে এত কম ভোট কেন, সে বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা উচিত ছিল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। এটা কি ব্যালট বাপে আগের রাতে ভর্তি করতে না পারার কারণে এমন হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করেছে সুজন।

লিখিত বক্তৃতায় বলা হয়, তালিকাভুক্ত ভোটারের মৃত্যুবরণ, অসুস্থ থাকা, জরুরি কাজে বাইরে থাকা ইত্যাদি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তাই ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়া যেকোনো যুক্তিতেই স্বাভাবিক নয়। আবার গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের ৩৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৯টিতেই প্রদত্ত শতভাগ ভোট পড়েছে নৌকা প্রতীকে।

ফলাফল বিশ্নেষণ করে সুজন জানায়, ৭৫টি আসনের ৫৮৭টি কেন্দ্রের সব ভোট একটি প্রতীকের প্রার্থীই পেয়েছেন। এরমধ্যে ৫৮৬টি কেন্দ্রের সকল ভোট পড়েছে নৌকা প্রতীকে। একটি কেন্দ্রের ভোট পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী। ধানের শীষে জয়ী ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে অস্বাভাবিক কম ভোট পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, অতীতেও অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচন কমিশন গোজামিলে না গিয়ে সোজামিল অর্থাৎ শতভাগ ভোটে চলে গেছে। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এমন নির্বাচনের জন্য বর্তমান কমিশনকে এখন না হলেও হাশরের দিনে জবাবদিহি করতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নূ্যনতম দক্ষতা ও সততা নেই। জুডিসিয়াল কাউন্সিলে বিচার হওয়ার আগে আর কোনো নির্বাচন যেন এ কমিশন করতে না পারে এমন দাবি জানান তিনি।

আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক বলেন, ফলাফলে নির্বাচন কমিশন জালিয়াতি করেছে। পাগল ছাড়া কেউ এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলবে না। নির্বাচনের অসঙ্গতিপূর্ণ এসব তথ্য বিদেশি কোনো সংস্থা, টিআইবি বা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। এর উৎস হলো খোদ নির্বাচন কমিশন। তাই বলা যায়, গত জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শতভাগ ভোট পড়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন নিতে চায় না। তাহলে দায়িত্বটা কার? তিনি সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ফলাফলের এ অস্বাভাবিকতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এটি রোধ করা না গেলে জনগণ যদি পুরো আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে শাস্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তখন আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।

সভাপতির বক্তৃতায় সুজন সভাপতি হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের দায় কমিশনকেই নিতে হবে। রাষ্ট্রের উচিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তা জাতিকে জানানো।

মন্তব্য


অন্যান্য