রাজনীতি

গৃহবিবাদে স্থবির চট্টগ্রাম জাপা

মাঠে সরব থাকলেও দুর্বল বামপন্থিরা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহবিবাদে স্থবির চট্টগ্রাম জাপা

  আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

গৃহবিবাদে স্থবির চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যক্রম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইফতার মাহফিল ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি দলটির। দশম সংসদে মহানগরীর তিনটি আসনের একটি জাপার দখলে থাকলেও সেখানেও গড়ে ওঠেনি জাপার অবস্থান। বরং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মহানগর জাপার নেতৃত্ব বদল হয় ক'দিন পরপর।

চট্টগ্রামে বাম দলগুলো নানা ইস্যুতে সরব থাকলেও ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান দুর্বল। নেই সাংগঠনিক শক্তিও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যে শুধু সক্রিয় রয়েছে চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। তবে তাদের কার্যক্রমও ধর্মীয় কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ।

বিবাদের ঘর জাপা: দু'ভাগে বিভক্ত চট্টগ্রাম মহানগর জাপা। একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগরের আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ। অন্য অংশের নেতৃত্বে সাবেক এমপি ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মাহজাবীন মোরশেদ ও তার স্বামী মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম। তিনিও জাপার ভাইস চেয়ারম্যান।

মাহজাবীন মোরশেদ ও মুরাদ ইব্রাহিমকে ইঙ্গিত করে সোলায়মান আলম শেঠ সমকালকে বলেন, দলের লোকজনই জাপাকে শেষ করে দিচ্ছে। চট্টগ্রামে তারা নামে আছে, কাজে নেই। দলের জন্য তারা বসন্তের কোকিল। তারা যখন দলের দায়িত্বে ছিলেন তখন ভালোভাবে একটি ইফতার মাহফিলও করতে পারেননি। ব্যাংকের ঋণখেলাপি হিসেবে মামলা চালাতেই তারা ব্যস্ত, দল করবেন কখন?

তবে মাহজাবীন মোরশেদের অনুসারী মহানগর জাপার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা সমকালকে বলেন, কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলছে। দল বাঁচাতে হলে চট্টগ্রাম মহানগরের নেতৃত্ব ও কমিটির পরিবর্তন করতে হবে। নতুন কমিটির এক বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সোলায়মান আলম শেঠের নেতৃত্বে  চলছে চট্টগ্রাম মহানগর জাপা। দীর্ঘ ২১ বছর তিনি নগর জাপার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ৫ জুন তাকে সরিয়ে মাহজাবীন মোরশেদকে আহ্বায়ক করা হয়। পরে তাকে সভাপতি করা হয়। বহিস্কার হন সোলায়মান আল শেঠ। পরের বছর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ ফিরে পান। সিটি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী হন; কিন্তু ভোট পান মাত্র তিন হাজার। তার বিরুদ্ধে কাজ করেন জাপার তৎকালীন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ চট্টগ্রামের নেতারা।

জাপার মহাসচিব পদে পরিবর্তনের পর ফের নগর কমিটির নেতৃত্ব ফিরে পান সোলায়মান আলম শেঠ। গত বছরের জানুয়ারিতে হন আহ্বায়ক। এতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন মাহজাবীন মোরশেদের অনুসারীরা। একাদশ নির্বাচনে খাগড়াছড়িতে হারের পর সোলায়মান শেঠের নেতৃত্বাধীন অংশও নিষ্ক্রিয়।

নগর জাপার সদস্য সচিব মো. এয়াকুব হোসেন সমকালকে বলেন, দলীয় কার্যক্রম টুকটাক চলছে। দলের চেয়ারম্যান হুসেই মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে কে জাপার নেতৃত্বে আসবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা দলীয় কার্যক্রমের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। স্থায়ী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। ঝামেলা এড়াতে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে না।

নানা ইস্যুতে সরব বামপন্থীরা: কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াসহ নানা জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে সরব রয়েছে সিপিবিসহ বাম গণতান্ত্রিক জোট। তবে ভোটের মাঠে দলগুলোর প্রভাব দেখা যায়নি সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচনে।

জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা সমকালকে বলেন, তারা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য