রাজনীতি

খালেদা জিয়ার ১৭ মামলার বিচার কেরানীগঞ্জ কারাগারে

মঙ্গলবার গ্যাটকো মামলার শুনানি

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯

খালেদা জিয়ার ১৭ মামলার বিচার কেরানীগঞ্জ কারাগারে

বেগম খালেদা জিয়া- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া এখন থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকবেন। তার বিরুদ্ধে করা নাইকো মামলাসহ অন্যান্য মামলার বিচার ওখানে আদালত বসিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ঢাকার বিশেষ আদালতে বিচারাধীন থাকা ১৭টি মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে রোববার এ সংক্রান্ত পৃথক ১৭টি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

মামলাগুলো স্থানান্তরের বিষয়ে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মুহাম্মদ জহিরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে মামলাগুলো কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুদকের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় ৭৪ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি বন্দি রয়েছেন। 

এক বছরের বেশি সময় পুরনো কারাগারে বন্দি থাকার পর গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলেই তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে রাখা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, কেরানীগঞ্জ হবে খালেদা জিয়ার বাড়িঘর। সেখানেই তিনি থাকবেন। আজ মঙ্গলবার গ্যাটকো দুর্নীতির মামলা কেরানীগঞ্জ কারাগারের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে শুনানি হবে বলে জানান তিনি। আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোলাম সারোয়ার স্বাক্ষরিত একটি মামলা স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্মুখে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থানান্তর করা হলো।

আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সোমবার বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা ১৭টি মামলা কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরের গেজেট রোববার প্রকাশিত হয়েছে। এখন থেকে মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম সেখানেই চলবে।

১৭ মামলার মধ্যে রাজধানীর দারুসসালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে করা ৮ মামলা, যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা এক মামলা ও মানহানির অভিযোগে করা তিন মামলা। এ ছাড়া নাইকো, গ্যাটকো, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলাসহ ৫টি মামলার বিচার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালত ও বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত আদালতে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য রয়েছে। এখন কেরানীগঞ্জ কারাগারের সামনে এসব মামলা চলবে। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার আরও কয়েকটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে।

ঢাকার জজ আদালতের মূল ভবন থেকে নিয়ে কারাগারের পাশে আদালত বসানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে কারণ দেখিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়।

বিএনপি বরাবরই বাইরে আদালত বসিয়ে বিচারের বিরোধিতা করে আসছে। পাশাপাশি পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রেখে খালেদাকে আরও অসুস্থ করে ফেলা হচ্ছে বলে দলটির নেতারা অভিযোগ করে আসছিল। এর আগে গত বছর জানুয়ারি মাসে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৪টি মামলা ঢাকার আদালত থেকে বকশীবাজার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। নাইকো দুর্নীতির মামলা বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে পুরনো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

প্রতিক্রিয়া : খালেদা জিয়ার মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার অন্যতম আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন। তিনি সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার মামলা নিয়ে 'পুতুল খেলা' চলছে। তার সব মামলা স্থানান্তরের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো সাধারণ মানুষের মতো তিনি ন্যায় বিচার পাবেন না। 

বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার খোকন আরও বলেন, খালেদা জিয়া আবারও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে বিনা চিকিৎসায় হয়রানি করা হচ্ছে। তার মামলা নিয়ে সরকার অহেতুক বাড়াবাড়ি করছে। রাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে মামলা করায় এই সরকারের অনেক মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য