রাজনীতি

ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবি গণতান্ত্রিক জোটের

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯ | আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯

ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবি গণতান্ত্রিক জোটের

  সমকাল প্রতিবেদক

ডাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একই সঙ্গে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার মধ্য দিয়ে যে কলঙ্কজনক অধ্যায় ছাত্রলীগ শুরু করেছিল, এবারের ডাকসু নির্বাচনে তাই ভিন্নরূপে প্রকাশিত হয়েছে। কুয়েত-মৈত্রী হলে ভোট শুরুর আগে আগাম ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে বস্তা ভর্তি করে রাখা বাস্তবে জাতীয় নির্বাচনের মতই এ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির জ্বলন্ত নজির।

অবিলম্বে প্রহসনের ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে ছাত্রসমাজের দাবি অনুযায়ী পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, অতীতে ছাত্রসমাজ বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সামরিক-বেসামরিক সব স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে। তারই পদাংক অনুসরণ করে বর্তমানেও সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সব দুঃশাসনের অবসান ঘটাবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা।

সিপিবি’র নিন্দা: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম আরেক বিবৃতিতে ডাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন,ডাকসু নির্বাচনে সংঘটিত অপকর্মগুলো অদৃষ্টপূর্ব। ডাকসুর ইতিহাসে এমন কলঙ্ক আর কখনো সংঘটিত হয়নি। আর এই নির্বাচনে যা হলো তা গোটা নির্বাচনব্যবস্থাকে ফের কলঙ্কিত করেছে। আইয়ুব, এরশাদ আমলেও ডাকসু নির্বাচনে এমন কলঙ্ক হয়নি। 

পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের যৌথ সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নেতারা বলেন, সরকার যে নির্বাচনী সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে তা রুখে দেওয়া জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্ররা লড়াইয়ের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে নির্বাচন বাতিলে বাধ্য করতে সক্ষম হবে এবং নিজেদের সংগ্রামী ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্ষম হবে বলে আমরা আশা করছি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মাথা সোজা করে বসতে পারছেন না খালেদা জিয়া: ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সময় থাকতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনশন কর্মসূচিতে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, 'এখনও সময় আছে, কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন।'

মঙ্গলবার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব এ সময় বলেন, খালেদা জিয়া এতই অসুস্থ যে মাথা সোজা করে বসতে পারছিলেন না। তার পুরো শরীরে যন্ত্রণা-ব্যথা। তিনি কোনো কিছু খেতে পারছেন না। কিছু খেলেই বমি হচ্ছে। অর্থাৎ কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে এ অনশন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী। এতে বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশরাফ খন্দকার ও মোজাদ্দেদ আলী বাবু।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, 'খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। একমাত্র তিনিই গণতন্ত্রের পাশাপাশি বর্তমান সরকারকেও রক্ষা করতে পারবেন।'

বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার এমন এক বিচার ব্যবস্থার রাষ্ট্র ও সমাজ তৈরি করেছে, যেখানে কোনো বিচার নেই। সর্বোচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত সব কিছুই চলছে সরকারের নির্দেশে।'

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অন্য আসামিদের জামিন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'একই মামলায় অন্য আসামিরা জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়, সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার করে তাদের ক্ষমতায় থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।'

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'এই সংকট বিএনপির নয়, গোটা জাতির।'

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, 'বর্তমান সরকার ভীতসন্ত্রস্ত। তাই পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জাতির জন্য অনিবার্য। যে কোনো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এই অনিবার্য কাজটি করতে হবে।' তিনি এ জন্য নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই খুন-সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুরো বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসের ব্যাধিতে আক্রান্ত। ভোটারবিহীন উপজেলা নির্বাচনের দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেরাই খুনখারাবিতে লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে ভোট সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটের পর বন্দুকধারীদের গুলিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে মধ্যরাতে ব্যালট বাপভর্তি করে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা। বিনা ভোটে স্থানীয় ক্ষমতা আয়ত্তে নেওয়ার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বেই নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নারী সদস্যসহ কয়েকজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় দফার একতরফা উপজেলা নির্বাচনেও জনগণ কোনো সাড়া দেয়নি। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনকে জনগণ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এই সরকার জনগণের আস্থা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বাঘাইছড়ির ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অপর এক বিবৃতিতে তিনি নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট শহরে একটি ট্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী: তোফায়েল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি থেকে যে হারে পদত্যাগ শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে তাদের একদিন বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কঠিন অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। তাদের এ দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী ছিলেন জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু দলের অনেক গোপন বৈঠক করতেন তার বাড়িতে। ভাষা আন্দোলনের এই নেতা ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। তিনি শত্রু-মিত্র সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, দলকে দুর্দিনে এগিয়ে নিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে দৃঢ় হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা দেশবাসী মনে রাখবে। তিনি ছিলেন সততার প্রতীক। তার সাহস ছিল অসীম।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও করুণ হবে। সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের এই দল তাদের পাকিস্তানি প্রভুকে খুশি করার জন্যই রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল আইনের শাসন? কোথায় ছিল তখন মানবতা? প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান স্ত্রী হত্যার বিচারও দেখে যেতে পারেননি দুঃশাসনের কারণে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, রাজনীতির সিংহ পুরুষ জিল্লুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কাণ্ডারি ছিলেন। তিনি মেধা, সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখে গেছেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এমএ করিমের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, রুকুন উদ্দিন পাঠান, সফিকুল বাহার টিপু, আলী আহসান ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর