রাজনীতি

আসছে উপজেলা নির্বাচন

আ'লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি, হতাশা বিএনপিতে

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

আ'লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি, হতাশা বিএনপিতে

  শাহেদ চৌধুরী

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হলেও বিএনপির কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভীষণ উজ্জীবিত। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে মনোনয়নবঞ্চিতরা এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার পাবেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর উপজেলা নির্বাচন নিয়েও হতাশা ভর করেছে বিএনপিতে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নেই কোনো চাঞ্চল্য। এমনকি বিএনপি সমর্থিত বেশিরভাগ উপজেলার চেয়ারম্যানরাও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

চলতি বছরের মার্চে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপজেলা নির্বাচনের জন্য উপযোগী হবে। সেই অনুযায়ী মার্চ কিংবা এপ্রিলের পর ওইসব উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের  কর্মকর্তারা এখন নির্বাচনের প্রাসঙ্গিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্নিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উপজেলা পরিষদের প্রথম সভার তারিখ জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোন উপজেলা পরিষদের মেয়াদ কবে শেষ হচ্ছে সেই তথ্য সংবলিত একটি তালিকা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তৈরি হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের তালিকা অনুযায়ী কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে।

স্থানীয় সরকার আইনে (উপজেলা পরিষদ) বলা রয়েছে, উপজেলা পরিষদ গঠনের পর প্রথম সভা থেকে ৫ বছর মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই হিসাব অনুসারে যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ আগে পূর্ণ হবে, প্রথম পর্যায়ে সেসব উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে। এর আগে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যাপক তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়নি। এ নিয়ে এখনও আলোচনাও হয়নি বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া সমকালকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখনও শুরু হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি। গত শুক্রবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বেশিরভাগ নেতা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ২৫৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে দলটি। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে আগ্রহীদের তালিকা দীর্ঘ। তাই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের অবস্থান সংহত করার লক্ষ্যে ব্যাপক আগ্রহে নবনির্বাচিত মন্ত্রী এবং এমপিদের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন নিয়মিত। পাশাপাশি জেলা-উপজেলা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে টানার লক্ষ্যেও নিরলস পরিশ্রম করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কৌশলী প্রচার শুরু হয়েছে এরই মধ্যে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুতি শুরু না হলেও দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আট সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা নির্বাচনের কার্যক্রম গুছিয়ে আনবেন। পরে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেওয়া হবে। সেই মতামতের ভিত্তিতে ১৮ সদস্যের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ চট্টগ্রাম ও সিলেট, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঢাকা ও ময়মনসিংহ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক রংপুর ও রাজশাহী, আবদুর রহমান বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দায়িত্বে থাকতে পারেন। আট সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে আহমদ হোসেন সিলেট, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অ্যাডভোকেট ময়মনসিংহ, বি এম মোজাম্মেল হক রংপুর, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম চট্টগ্রাম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খুলনা, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রাজশাহী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঢাকা বিভাগের কার্যক্রম দেখভাল করতে পারেন।

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের বেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মনে করছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীর নাম জেলা নেতাদের কাছে পাঠানো হবে। জেলা নেতারা ওই তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠাবেন। সেই তালিকা থেকেই একজনের নাম চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তার ভাষায়, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপির তৎপরতা একেবারেই নেই।

এদিকে দেশের ৪৯৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বলে দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ২৩ জন প্রার্থী দলের মনোনয়ন চাইলেও বঞ্চিত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬২ জন। বঞ্চিত এই প্রার্থীদের প্রায় সবাই উপজেলা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকবেন বলে নানাভাবে আভাস পাওয়া গেছে। তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিয়ে পোস্টার ছেপেছেন। ফেস্টুন লাগিয়েছেন।

বেশ কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে ওই প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইলে বঞ্চিত হবেন না বলে নীতিনির্ধারক নেতারা নিশ্চিত করেছেন। অন্য সব উপজেলায় দলীয় মনোনয়নের বেলায় নানামুখী হিসাব-নিকাশ এবং প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টির চুলচেরা বিচার বিশ্নেষণ করা হবে। সেই ক্ষেত্রে পরপর দুই দফায় বিজয়ীদের আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী উপজেলা নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী থাকবেন। বিদ্রোহী হলেই বহিস্কার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে হবে: ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে হবে। কেউ যদি মনে করেন, এককভাবে সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক বিজয় লাভ করবেন, তাহলে তিনি সত্যটা উপলব্ধি করতে পারছেন না।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত ২৭ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সাবেক এই মন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফল তারা মানেন না। এই নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন হতাশার জন্ম না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, এই সরকারকে পরাজিত করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের সেতুবন্ধ আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিএনপি সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। অবশ্যই এর ঐতিহাসিক প্রয়োজন ছিল। এখন আরও বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন।

ঐক্য নিয়ে সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অনেক প্রশ্ন আছে। রাজনীতি করলে প্রশ্ন থাকবে। কোন পরিস্থিতিতে কোন পর্যায়ে কোন উদ্যোগ সঠিক না বেঠিক সেই বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। সেই আলোচনার জন্য ফোরাম রয়েছে। আশা করি সেসব ফোরামে বিষয়গুলো আলোচনা হবে।

নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হতাশ হবেন না। হতাশাই তো শেষ কথা হতে পারে না। নতুন প্রজন্মের সামনে বিরাট ভবিষ্যৎ। তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে, আরও বেশি দেশকে ভালোবাসবে। দেশকে ভালোবেসে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। সূর্য উদয় হবেই। তাদের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য এএসএমএস আলম, নওয়াব আলী আব্বাস খান, শফি উদ্দিন ভুঁইয়া, প্রয়াত নেতার মেজ ছেলে মইনুল রাব্বি চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত রুখতে মাঠে থাকবে ১৪ দল: নাসিম


আরও খবর

রাজনীতি

মোহাম্মদ নাসিম- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত রুখতে ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে ১৪ দল সব সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কমরেড অমল সেন স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এখন থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। এগুলো হলো- মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চোখের মণির মতো রক্ষা, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তা ধরিয়ে দেওয়া এবং পরাজিত অশুভ শক্তি কোনো চক্রান্ত করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেওয়া।

এ সময় বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিশাল বিজয় অর্জন করলেও স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত এখনও অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ চক্রান্ত মোকাবেলা করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে ১৪ দল সব সময় মাঠে থাকবে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ কুমার রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দলের নেতারা অমল সেনের অস্থায়ী সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

লজ্জা থাকলে ফখরুল আগেই পদত্যাগ করতেন: কাদের


আরও খবর

রাজনীতি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের— ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

'লজ্জা-শরম' থাকলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও আগেই পদত্যাগ করতেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বুধবার মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। কখন যে তিনি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।'

তিনি বলেন, 'গত দশ বছরে বিএনপির যে মহাসচিব ১০ মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি, যার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১০টিরও কম আসন পায়, লজ্জা-শরম থাকলে তিনি আরও আগেই পদত্যাগ করতেন।'

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আন্দোলনে চরম ব্যর্থতা, নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, লজ্জা-শরম থাকলে আপনার আরও অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।'

তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ তার (ফখরুল) ভালো লাগছে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত অভূতপূর্ব ফলাফল ’৭৫ পরবর্তী সময়ে কেউ কখনো দেখেনি। এ বিজয়কে যারা প্রত্যাখান করে জনগণের কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের জন্য পদত্যাগ না করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। নির্বাচনে কারচুপি হলে তিনি  কীভাবে জয়লাভ করলেন?'

নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনকে 'অলীক ও অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'টিআইবি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি বলে অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছে। নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপির কোনো এজেন্ট বা টিআইবি’র একজন প্রতিনিধিও নির্বাচনের দিন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি।'

সেতুমন্ত্রী বলেন, 'নির্বাচনের দিন তারা নির্বাচনের কারচুপির কোনো কারণ খুঁজে পাননি। আর এখন তারা নির্বাচন নিয়ে কেন অলীক রূপকথার গল্প সাজাচ্ছেন তা আমরা জানি। দেশের জনগণই তার জবাব দেবে।'

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ।

যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আওয়ামী যুবলীগ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। আগামী ১৯ জানুয়ারির আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশকেও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।'

১৯ জানুয়ারির সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর