রাজনীতি

আসছে উপজেলা নির্বাচন

আ'লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি, হতাশা বিএনপিতে

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

আ'লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি, হতাশা বিএনপিতে

  শাহেদ চৌধুরী

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হলেও বিএনপির কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভীষণ উজ্জীবিত। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে মনোনয়নবঞ্চিতরা এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার পাবেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর উপজেলা নির্বাচন নিয়েও হতাশা ভর করেছে বিএনপিতে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নেই কোনো চাঞ্চল্য। এমনকি বিএনপি সমর্থিত বেশিরভাগ উপজেলার চেয়ারম্যানরাও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

চলতি বছরের মার্চে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপজেলা নির্বাচনের জন্য উপযোগী হবে। সেই অনুযায়ী মার্চ কিংবা এপ্রিলের পর ওইসব উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের  কর্মকর্তারা এখন নির্বাচনের প্রাসঙ্গিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্নিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উপজেলা পরিষদের প্রথম সভার তারিখ জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোন উপজেলা পরিষদের মেয়াদ কবে শেষ হচ্ছে সেই তথ্য সংবলিত একটি তালিকা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তৈরি হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের তালিকা অনুযায়ী কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে।

স্থানীয় সরকার আইনে (উপজেলা পরিষদ) বলা রয়েছে, উপজেলা পরিষদ গঠনের পর প্রথম সভা থেকে ৫ বছর মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই হিসাব অনুসারে যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ আগে পূর্ণ হবে, প্রথম পর্যায়ে সেসব উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে। এর আগে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যাপক তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়নি। এ নিয়ে এখনও আলোচনাও হয়নি বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া সমকালকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখনও শুরু হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি। গত শুক্রবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বেশিরভাগ নেতা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ২৫৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে দলটি। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে আগ্রহীদের তালিকা দীর্ঘ। তাই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের অবস্থান সংহত করার লক্ষ্যে ব্যাপক আগ্রহে নবনির্বাচিত মন্ত্রী এবং এমপিদের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন নিয়মিত। পাশাপাশি জেলা-উপজেলা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে টানার লক্ষ্যেও নিরলস পরিশ্রম করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কৌশলী প্রচার শুরু হয়েছে এরই মধ্যে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুতি শুরু না হলেও দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আট সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা নির্বাচনের কার্যক্রম গুছিয়ে আনবেন। পরে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেওয়া হবে। সেই মতামতের ভিত্তিতে ১৮ সদস্যের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ চট্টগ্রাম ও সিলেট, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঢাকা ও ময়মনসিংহ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক রংপুর ও রাজশাহী, আবদুর রহমান বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দায়িত্বে থাকতে পারেন। আট সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে আহমদ হোসেন সিলেট, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অ্যাডভোকেট ময়মনসিংহ, বি এম মোজাম্মেল হক রংপুর, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম চট্টগ্রাম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খুলনা, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রাজশাহী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঢাকা বিভাগের কার্যক্রম দেখভাল করতে পারেন।

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের বেলায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে মনে করছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীর নাম জেলা নেতাদের কাছে পাঠানো হবে। জেলা নেতারা ওই তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠাবেন। সেই তালিকা থেকেই একজনের নাম চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামসুল আলম ভূঁইয়া রাখিল শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তার ভাষায়, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপির তৎপরতা একেবারেই নেই।

এদিকে দেশের ৪৯৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বলে দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ২৩ জন প্রার্থী দলের মনোনয়ন চাইলেও বঞ্চিত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬২ জন। বঞ্চিত এই প্রার্থীদের প্রায় সবাই উপজেলা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকবেন বলে নানাভাবে আভাস পাওয়া গেছে। তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিয়ে পোস্টার ছেপেছেন। ফেস্টুন লাগিয়েছেন।

বেশ কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে ওই প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইলে বঞ্চিত হবেন না বলে নীতিনির্ধারক নেতারা নিশ্চিত করেছেন। অন্য সব উপজেলায় দলীয় মনোনয়নের বেলায় নানামুখী হিসাব-নিকাশ এবং প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টির চুলচেরা বিচার বিশ্নেষণ করা হবে। সেই ক্ষেত্রে পরপর দুই দফায় বিজয়ীদের আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী উপজেলা নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী থাকবেন। বিদ্রোহী হলেই বহিস্কার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

মাথা সোজা করে বসতে পারছেন না খালেদা জিয়া: ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

সময় থাকতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনশন কর্মসূচিতে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, 'এখনও সময় আছে, কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন।'

মঙ্গলবার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব এ সময় বলেন, খালেদা জিয়া এতই অসুস্থ যে মাথা সোজা করে বসতে পারছিলেন না। তার পুরো শরীরে যন্ত্রণা-ব্যথা। তিনি কোনো কিছু খেতে পারছেন না। কিছু খেলেই বমি হচ্ছে। অর্থাৎ কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে এ অনশন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী। এতে বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশরাফ খন্দকার ও মোজাদ্দেদ আলী বাবু।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, 'খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। একমাত্র তিনিই গণতন্ত্রের পাশাপাশি বর্তমান সরকারকেও রক্ষা করতে পারবেন।'

বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার এমন এক বিচার ব্যবস্থার রাষ্ট্র ও সমাজ তৈরি করেছে, যেখানে কোনো বিচার নেই। সর্বোচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত সব কিছুই চলছে সরকারের নির্দেশে।'

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অন্য আসামিদের জামিন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'একই মামলায় অন্য আসামিরা জামিন পেলেও খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়, সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা-গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার করে তাদের ক্ষমতায় থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।'

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'এই সংকট বিএনপির নয়, গোটা জাতির।'

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, 'বর্তমান সরকার ভীতসন্ত্রস্ত। তাই পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জাতির জন্য অনিবার্য। যে কোনো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এই অনিবার্য কাজটি করতে হবে।' তিনি এ জন্য নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই খুন-সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুরো বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসের ব্যাধিতে আক্রান্ত। ভোটারবিহীন উপজেলা নির্বাচনের দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেরাই খুনখারাবিতে লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে ভোট সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটের পর বন্দুকধারীদের গুলিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে মধ্যরাতে ব্যালট বাপভর্তি করে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা। বিনা ভোটে স্থানীয় ক্ষমতা আয়ত্তে নেওয়ার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বেই নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নারী সদস্যসহ কয়েকজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় দফার একতরফা উপজেলা নির্বাচনেও জনগণ কোনো সাড়া দেয়নি। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনকে জনগণ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এই সরকার জনগণের আস্থা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বাঘাইছড়ির ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অপর এক বিবৃতিতে তিনি নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট শহরে একটি ট্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী: তোফায়েল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি থেকে যে হারে পদত্যাগ শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে তাদের একদিন বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কঠিন অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। তাদের এ দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী ছিলেন জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু দলের অনেক গোপন বৈঠক করতেন তার বাড়িতে। ভাষা আন্দোলনের এই নেতা ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। তিনি শত্রু-মিত্র সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, দলকে দুর্দিনে এগিয়ে নিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে দৃঢ় হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা দেশবাসী মনে রাখবে। তিনি ছিলেন সততার প্রতীক। তার সাহস ছিল অসীম।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও করুণ হবে। সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের এই দল তাদের পাকিস্তানি প্রভুকে খুশি করার জন্যই রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল আইনের শাসন? কোথায় ছিল তখন মানবতা? প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান স্ত্রী হত্যার বিচারও দেখে যেতে পারেননি দুঃশাসনের কারণে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, রাজনীতির সিংহ পুরুষ জিল্লুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কাণ্ডারি ছিলেন। তিনি মেধা, সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখে গেছেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এমএ করিমের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, রুকুন উদ্দিন পাঠান, সফিকুল বাহার টিপু, আলী আহসান ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর