রাজনীতি

পরস্পরকে দুষছেন বিএনপি নেতারা

নির্বাচনে বিপর্যয়

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরস্পরকে দুষছেন বিএনপি নেতারা

  লোটন একরাম

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিপর্যয়ের নেপথ্যে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের পাশাপাশি নিজেদের ভুল ও দুর্বলতা নিয়েও নানামুখী হিসাব-নিকাশ কষছে বিএনপি। একইসঙ্গে নির্বাচনী কৌশলে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নানা দুর্বলতার জন্য এখন পরস্পরকে দায়ী করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করেও ভূ-রাজনীতি নিজেদের 'অনুকূলে' আনতে পারেননি দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এটিকে এখন বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন একপক্ষের নেতারা। একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত থাকা জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রেখে নির্বাচনে 'ধানের শীষ' প্রতীক দেওয়ার বিষয়টিও ভুল হয়েছে বলে মনে করছেন দলের বেশিরভাগ নেতা। স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে কীভাবে জামায়াত 'ধানের শীষ' প্রতীক পেল- তা নিয়ে দল ও জোটের নেতারাও বিস্মিত।

আবার জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন অনেক নেতাকর্মী। দুর্বল প্রার্থীর পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার মতো সাহসী ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবও ছিল। এজন্য অনেক ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়া যায়নি। এটিকেও একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে মনে করছে দলের হাইকমান্ড। মনোনয়নদানকারী নীতিনির্ধারক নেতা ও মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা- দু'পক্ষকেই দোষারোপ করছেন দলের বড় একটি অংশের নেতারা।

নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপেও দলের ভেতর পরস্পরের বিরুদ্ধে  দোষারোপের বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওই ফোনালাপে দুই নেতাই নির্বাচনে থাকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দোষারোপ করে কথা বলেন। যদিও ফোনালাপটি ভুয়া বলে দাবি করেন ওই দুই নেতা।

এ পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেন।

অবশ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, 'উদ্ভূত' পরিস্থিতিতে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের রাজনৈতিক 'কৌশলে'র প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা দলের নেতাকর্মীদের কারও বক্তব্য-বিবৃতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া দলের নেতাদের 'বিশেষ বার্তা'য় সরকারের নানামুখী চাপের মুখে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে ঐক্যবদ্ধ রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে লড়তে পারায় শীর্ষ নেতাদের ওপর সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে সিনিয়র নেতারা ঝুঁকি নিয়ে দেশি-বিদেশি শক্তির সঙ্গে যে 'লড়াই' ও 'কৌশল' গ্রহণ করেছেন- এর চেয়ে আর বেশি কী করার আছে।

তবে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী বুদ্ধিজীবী দলের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সন্তুষ্টির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাদের দাবি, নির্বাচনে বিএনপি কিছু ইতিবাচক কৌশল নিলেও অনেক ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় নেতাদের দেশে-বিদেশে ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিএনপির সংকটের বড় কারণ বৈশ্বিক রাজনীতি অনুধাবন করতে না পারা। বিএনপির কৌশল প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্ব ইসলামী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ছে। আওয়ামী লীগ সরকার সফলভাবে বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে বিদেশিদের কাছে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বিএনপি ও জোটের নেতারা সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' থাকলে ফলাফলের চিত্র উল্টোটা হতো। দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তারা যে দাবিতে আন্দোলন করছেন তাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। দল ও জোটের নেতারা সবাই বিষয়টি বোঝেন। এ নিয়ে দল ও জোটের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই বলে তিনি দাবি করেন।

বিএনপি নেতারা জানান, 'প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারত জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য বিএনপির প্রতি অনেক আগে থেকেই অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ২০১২ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে ভারত সফরের সময়ও জামায়াতের ব্যাপারে আপত্তি তুলেছিল। জামায়াত পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত অভিযোগ করে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে জানিয়েছিল তারা। এমনকি তাদের কাছে প্রমাণাদি রয়েছে বলেও দাবি করেছিল ভারত। ভারতের বিরোধিতার বিষয়টি আমলে নেওয়া উচিত ছিল মনে করেন দলটির অনেক নেতা।'

বিএনপির ওই অংশের নেতারা আরও দাবি করেন, দেশের ভেতর ও বাইরে নানা পক্ষের বিরোধিতার পরও জামায়াতকে জোটে রাখার কৌশল বিএনপির ভুল ছিল। তার পরও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে ভোটব্যাংকের চিন্তা করে নিবন্ধনহারা জামায়াতকে স্বতন্ত্র প্রতীকে জোটে রেখে স্থানীয়ভাবে ছাড় দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গভীর রাতে জামায়াতকে কেন 'ধানের শীষ' প্রতীক দেওয়া হলো, তা জানেন না বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শীর্ষ নেতারা।

অবশ্য এ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ভারতের একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জামায়াত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে জানলে ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিতেন না। সম্প্রতি তিনজন শুভাকাঙ্ক্ষী বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতার উদ্দেশে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'স্বপ্নের খোয়াবে'র মধ্যে না থেকে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে চিন্তা করুন। নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ভালো ইমেজ ছিল; অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের শক্তি ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর দেখা গেল, ঐক্যফ্রন্ট পেল 'দুটি লাড্ডু' আর ২০ দল পেলে 'শূন্য'। তাদের যুক্তি, নানামুখী বিরোধিতার পরও যে জামায়াতের শক্তি ও ভোটব্যাংককে গুরুত্ব দিয়ে ২২টি আসন দেওয়া হলো- একটিতেও তারা কোনো শক্তি দেখাতে পারল না কেন?

বিএনপির তরুণ একজন নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এবং তরুণ প্রজন্ম মনে করে, জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের দল। তরুণ ভোটাররাও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া এবং বিএনপিদলীয় ধানের শীষ প্রতীক দেওয়াকে ভালো চোখে দেখেননি। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলও তরুণ প্রজন্মের অনুভূতির বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে সুফল নিয়েছে বলে মনে করেন তারা।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ সমকালকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিএনপির উচিত হবে ধৈর্য ধারণ করা। তাদের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা খুঁজে বের করে সংশোধন করা। এ মুহূর্তে কোনো হঠকারী চিন্তা-ভাবনা ও কর্মসূচি গ্রহণ না করাই ভালো। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে এনে তৃণমূল থেকে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে সামনে এগোতে হবে।

যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়া :বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, দলের মনোনয়ন সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে দলের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান খান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসন আলাল, বিশেষ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্য সচিব ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। ছাত্র রাজনীতিতে থেকে জাতীয় রাজনীতিতে আসা নারী নেত্রীদের মধ্যে শিরীন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, রাশেদা বেগম হীরা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম নেতা-নেত্রীদের মধ্যে বেবী নাজনীন, মনির খান, হেলাল খান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে জয়ন্ত কুণ্ডের মতো ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ায় অবমূল্যায়নের 'ভুল' বার্তা পেয়েছেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির ক্ষুব্ধ এক নেতা জানান, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র একজন সদস্যকে দুটি আসনে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি নির্বাচনী এলাকা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ভোটের সময় ঢাকায় থেকে তার পক্ষে দলের কৌশল ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আরেকজন স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা দুটি আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও তাকে না দেওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে নির্বাচনী আসনে ব্যস্ত সময় পার করেন। অথচ তারও নির্বাচনের আগে ঢাকায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলে ভালো হতো। ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে বঞ্চিত করে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে দুটি আসন দেওয়ায় অসন্তুষ্ট হন ছাত্র ও যুবনেতারা।

এ ছাড়া দলের অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে মনোনয়ন দিলেও অন্য দুটি বড় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একজনকেও মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। তারা সক্রিয়ভাবে মাঠে না নামার এটিও একটি বড় কারণ বলে জানা গেছে। যুবদলের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকারী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে মনোনয়ন না দেওয়ায় সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ হয়ে নিষ্ফ্ক্রিয় ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই খুন-সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুরো বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসের ব্যাধিতে আক্রান্ত। ভোটারবিহীন উপজেলা নির্বাচনের দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেরাই খুনখারাবিতে লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে ভোট সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটের পর বন্দুকধারীদের গুলিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে মধ্যরাতে ব্যালট বাপভর্তি করে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা। বিনা ভোটে স্থানীয় ক্ষমতা আয়ত্তে নেওয়ার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বেই নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নারী সদস্যসহ কয়েকজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় দফার একতরফা উপজেলা নির্বাচনেও জনগণ কোনো সাড়া দেয়নি। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনকে জনগণ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এই সরকার জনগণের আস্থা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বাঘাইছড়ির ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অপর এক বিবৃতিতে তিনি নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট শহরে একটি ট্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী: তোফায়েল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি থেকে যে হারে পদত্যাগ শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে তাদের একদিন বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কঠিন অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। তাদের এ দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী ছিলেন জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু দলের অনেক গোপন বৈঠক করতেন তার বাড়িতে। ভাষা আন্দোলনের এই নেতা ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। তিনি শত্রু-মিত্র সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, দলকে দুর্দিনে এগিয়ে নিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে দৃঢ় হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা দেশবাসী মনে রাখবে। তিনি ছিলেন সততার প্রতীক। তার সাহস ছিল অসীম।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও করুণ হবে। সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের এই দল তাদের পাকিস্তানি প্রভুকে খুশি করার জন্যই রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল আইনের শাসন? কোথায় ছিল তখন মানবতা? প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান স্ত্রী হত্যার বিচারও দেখে যেতে পারেননি দুঃশাসনের কারণে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, রাজনীতির সিংহ পুরুষ জিল্লুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কাণ্ডারি ছিলেন। তিনি মেধা, সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখে গেছেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এমএ করিমের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, রুকুন উদ্দিন পাঠান, সফিকুল বাহার টিপু, আলী আহসান ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়াই হবে: দুদু


আরও খবর

রাজনীতি

শামসুজ্জামান দুদু- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একটা লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, দিন-তারিখ দিয়ে এ লড়াই হবে না। যারা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে এ লড়াই হবে। এই লড়াই হবে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য প্রথম কাজ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তাহলে দেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সকল পণ্যের দাম বাড়ার গতি কমিয়ে জনগণকে শান্তিতে থাকার সুযোগ দিন। অন্যথায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল নতুন কর্মসূচি নিয়ে নবউদ্যমে একাত্তরের মতো আবারও আন্দোলন শুরু করবে।

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর