রাজনীতি

‘এমন কলঙ্কজনক নির্বাচন দেশের ইতিহাসে আর হয়নি’

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

‘এমন কলঙ্কজনক নির্বাচন দেশের ইতিহাসে আর হয়নি’

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া বাম জোটের প্রার্থীদের কয়েকজন -সংগৃহীত

  সমকাল প্রতিবেদক

‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক কলঙ্কিত নির্বাচন। এমন কলঙ্কজনক নির্বাচন দেশের ইতিহাসে আর হয়নি। নজিরবিহীন ভুয়া ভোটের এই নির্বাচনের আগের দিনই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশাসনের সহায়তায় ভোট ডাকাতি হয়েছে।’ 

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘ভোট ডাকাতি, জবর দখল ও অনিয়মের নানা চিত্র’ শীর্ষক গণশুনানিতে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরে এসব কথা বলেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাম দলগুলোর প্রার্থীরা।

গণশুনানির শুরুতে সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বহু অভিযোগ আছে। এটি নজিরবিহীন একটি ভুয়া ভোটের নির্বাচন।

এবারের নির্বাচনে কোদাল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন রাতেই কেন্দ্রভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছে। আমরা যারা প্রার্থী ভোট দিতে গিয়েছিলাম, দেখেছি, একটা ভোটকেন্দ্রে ভোটারের তেমন কোনো ভিড় নেই অথচ নয়টা বা সাড়ে নয়টার মধ্যেই ব্যালট বাক্স ভরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর মতো কলঙ্কজনক নির্বাচন আর নেই। এটা আমাদের উপলব্ধি করার কথা। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন হলো, কিন্তু সেই নির্বাচনে জনগণকে অংশ নিতে দেওয়া হলো না। সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের কর্তৃত্ব কাজ করেছে। নির্বাচনের আগে থেকেই পুরো একটা একতরফা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা-মামলা-গ্রেফতার করে এই পরিবেশ তৈরি করা হয়। মানুষ যাতে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারে, ভয় পায় সে জন্য আগে থেকেই একটা পরিবেশ তৈরি করা ছিল। 

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩১ টি আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ১৪৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। দিনব্যাপী এই গণশুনানি অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে ১৩০ জন প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

মন্তব্য


অন্যান্য