রাজনীতি

নতুন নির্বাচন আয়োজনে জাতীয় সংলাপ ডাকুন: ড. কামাল

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

নতুন নির্বাচন আয়োজনে জাতীয় সংলাপ ডাকুন: ড. কামাল

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর স্ব্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ড.কামাল হোসেন- সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

নতুন নির্বাচনের পথ বের করতে জাতীয় সংলাপের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে কেউ অবাধ বলছে না। 

তাই বছরের প্রথম দিকেই সবার সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করুন। এটাই সবচেয়ে ভালো পথ। সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক- কীভাবে সংবিধান মেনে নির্বাচন করে সংসদ ও সরকার গঠন করা যায়।

বঙ্গবন্ধুর স্ব্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, নির্বাচনের দিনে ভোট হয়নি। ৪৮ বছর পরে ৩০ ডিসেম্বরের যে ঘটনা ঘটেছে, তা ভাবতেও পারছি না। এটা হওয়ার কথা নয়। সরলভাবে বলেছিলাম, সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন; কিন্তু ঘটনা তো ২৯ তারিখ রাতেই ঘটে গেছে। কেউ টেরও পেলাম না যে, আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। 

কেন এ রকম অস্বাভাবিক কাজ হচ্ছে? এর থেকে ঘোষণা দিয়ে দিতে পারতেন যে তৃতীয়বারের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, তিনশ' জন সাংসদ হয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে কেউ এসব করতে পারে না। চুপি চুপি রাতে কী হলো আর সকালে বলে দিল- হয়ে গেছে। এটা কোনো স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্র নিয়ে এভাবে খেলা করা চলে না। যারা এসব করছে তারা না বুঝে করছে। এই ধরনের তথাকথিত নির্বাচন কোনো সুস্থ মানুষের করার কথা নয়। মানসিকভাবে কেউ সুস্থ থাকলে এসব করতে পারে না। এটা অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন যে, রাজনীতির পরিবর্তে রাজ-চালাকি হচ্ছে। আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি রাজ-চালাকিতে। আমি বলব, যে নির্বাচন হয়েছে সেটা রাত চালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমরা বলব, রাত চালাকি থেকে বিরত থাকুন, জনগণের সামনে সবকিছু তুলে ধরুন। সংবিধান অনুযায়ী আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা নিন। এ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, অতি ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে, বিবেক ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের ভোট ডাকাতির নির্বাচন আর কোথাও হয়েছে বলে শুনিনি। এভাবে তিনশ' আসনে ঘুষ দিয়ে, দুর্নীতি করে, সব প্রশাসন যন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়ে কোনো সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। 

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজকে প্রতিদিন আওয়ামী লীগ হত্যা করছে, সংবিধানকে হত্যা করছে। তারা অনর্গল মিথ্যাচার আর প্রতারণা করছে। দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, কেউ বলতে পারবে না যে নির্বাচনের দিন সে ভোট দিতে পেরেছে। আর যে দিয়েছে সে একাই ২০০-এর উপরে দিয়েছে। এতে পুরো বিশ্ব হতবাক।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীরপ্রতীক, মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

চিকিৎসার জন্য রোববার সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ


আরও খবর

রাজনীতি

হসেইন মুহম্মদ এরশাদ- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

উন্নত চিকিৎসা নিতে রোববার দুপুরে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আক্তার সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও তিনি শারিরিকভাবে খুব দুর্বল হয়েছেন। তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সাতের কাছাকাছি। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেক।

এরশাদের একান্ত সচিব সমকালকে জানান,  রোববার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি সিঙ্গাপুর যাবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। দেশটির ন্যাশনাল মেডিকেল ইউনিভারসিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। তিনি কবে দেশে ফিরবেন তা নির্ভর করছে চিকিৎসকদের ওপর। এরশাদের সঙ্গে খালেদ আকতারও সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, এরশাদ সাধারণ ফ্লাইটে যেতে রাজি ছিলেন না। তিনি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যেতে চেয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।

এরশাদের অবস্থা গুরুতর কিনা এ প্রশ্নে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, এ প্রশ্নের তিনি দিতে পারবেন না, চিকিৎসা বলতে পারবেন। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, তিনি আশা করছেন সুস্থ হয়ে এরশাদ দেশে ফিরে আসবেন বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদ।

জাতীয় পার্টির সূত্র জানিয়েছে, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন ৮৯ বছর বয়সী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শারিরিক অবস্থা ভাল নয়। স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারছেন না। স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়াও করতে পারছেন না। তার লিভারে বিলোরবিনের পরিমাণও বেড়েছে।

গত কয়েক দিনে এরশাদকে সিএমএইচ হাসাপতালে দেখে আসা জাতীয় পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থা ভাল নয়। কথা বললে সাড়া দেন না। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। খাওয়া দাওয়া একেবারেই করতে পারছেন না।

সামজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অসুস্থ এরশাদের ছবি ছড়িয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি বয়স ও রোগের ভারে নুজ্য। শারিরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব দাবি করেছেন, এরশাদের শারিরিক অবস্থা গুরতর নয়। বয়েসের কারণে নানান বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। তার যেসব শারীরিক সমস্যা তাএ বয়েসে স্বাভাবিক ব্যাপার।

এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির হাল কে ধরবেন- এ প্রশ্নে গত কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন ছিল দলটির অভ্যন্তরে। দলের নেতাদের একাংশ চেয়েছিলেন এরশাদপত্নী রওশন এরশাদকে উত্তারাধিকার মনোনীত করা হোক। কিন্তু এরশাদ বেছে নিয়েছেন তার ভাই জিএম কাদেরকে। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে নিজেই এ পদে বসেছেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদে বসিয়েছেন এরশাদ। গত শুক্রবার নির্দেশনা জারি করেছেন, তার অবর্তমানে কিংবা বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এরশাদ আহ্বান জানান, আগামী কাউন্সিলে যেনো জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান করা হয়।

এরশাদের ঘনিষ্ট এক নেতা বলেছেন, জিএম কাদের বিরোধীরা রওশন এরশাদকে নেতা হিসেবে চাইলেও তার শারিরিক অবস্থা ভাল নয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে থাকতে চাইলেও দলের নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী নন। তাই ৭৬ বছর বয়েসী রওশন এরশাদের পরিবর্তে জিএম কাদেরকে বেছে নিয়েছেন এরশাদ।

গত কয়েক মাস ধরে নানা রোগে ভুগছেন এরশাদ। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তিন দফা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর পাঁচবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। ভোটের আগে দুই সপ্তাহ সিঙ্গাপুর চিকিৎসা নেন। নির্বাচনে পাঁচ দিন আগে দেশে ফিরলেও বাসায় না থেকে সিএমএইচে থাকছেন। একদিনের জন্যও ভোটের প্রচারে নামেননি। নিজের ভোটও দেননি। গত ৬ জানুয়ারি হুইল চেয়ারে করে সংসদে গিয়ে শপথ নেন এরশাদ। এরপর আর জনসম্মুখে আসেননি তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিজয় সমাবেশের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ বিজয় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন।

সকাল ১০টা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লোকারণ্য হয়ে ওঠে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উদ্যান মুখরিত। 

নেতাকর্মীদের মধ্যে নারীদের পরনে লাল ও সবুজ রঙের শাড়ি এবং ছেলেদের বেশিরভাগ লাল ও সবুজ রঙের গেঞ্জি ও টুপি পরে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান


আরও খবর

রাজনীতি

আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে দলে দলে যোগ দিচ্ছেন নেতা-কর্মীরা-ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে বিজয় সমাবেশের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। 

শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ বিজয় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই  নেতাকর্মীরা উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন।

সকাল ১০টা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। ‘জয় বাংলা’  স্লোগানে উদ্যান মুখরিত। 

নেতাকর্মীদের মধ্যে নারীদের পরনে লাল ও সবুজ রঙের শাড়ি এবং ছেলেদের বেশিরভাগ লাল ও সবুজ রঙের গেঞ্জি ও টুপি পরে সমাবেশে যাচ্ছেন। 

বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বিজয়ের এ দিনে মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘বারবার দরকার শেখ হাসিনার সরকার’, ‘যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’ ইত্যাদি শ্লোগান দিচ্ছেন তারা।

এ দিকে এই বিজয় সমাবেশকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিজয় সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় উদযাপন করতেই এই আয়োজন। নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক এই কর্মসূচিকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে চায় ক্ষমতাসীনরা। সেই লক্ষ্যে যথেষ্ট প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছেন তারা। 

সংশ্লিষ্ট খবর