রাজনীতি

গাড়ি ছেড়ে হেঁটেই হেলিপ্যাডে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯

গাড়ি ছেড়ে হেঁটেই হেলিপ্যাডে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

পায়ে হেঁটে হেলিপ্যাডে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- বাসাস

  অনলাইন ডেস্ক

গাড়িতে না চেপে হেলিপ্যাড পর্যন্ত রাস্তাটুকু পায়েই হেঁটে গিয়ে হেলিকপ্টারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টুঙ্গীপাড়ায় তার পৈত্রিক নিবাস থেকে উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে রাখা হেলিকপ্টার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা পায়ে হেঁটেই পাড়ি দেন তিনি। ছোট বোন শেখ রেহানাও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

বুধবার বিকেলে রাজধানীতে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর হেলিপ্যাড পর্যন্ত এই আকস্মিক হেঁটে যাওয়া দেখে তার নিরাপত্তা রক্ষী, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ যারপরনাই বিস্মিত হন। খবর বাসসের

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থল এবং তার প্রৈত্রিক নিবাস টুঙ্গীপাড়ায় এলে শেখ হাসিনা যেন শৈশবের সোনাঝরা দিনগুলোর মাঝে হারিয়ে যেতে চান। প্রটোকল আর বিধি-নিষেধের বেড়াজালটি যেন বার বারই ছিন্ন করে জনগণের নেত্রী মিশে যেতে চান জনতার কাতারে। আর সে কারণেই এখানে এসে এর আগে নাতি-পুতিদের নিয়ে রিকশা ভ্যানেও চড়েছিলেন বিশ্ব মানবতার জননী উপাধিতে ভূষিত বঙ্গবন্ধু কন্যা।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স থেকে বের হয়েই তার সঙ্গে থাকা সরকারি কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তায় নিয়েজিতদের উদ্দেশ্যে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে গাড়ির কোন প্রয়োজন নেই এইটুকু পথতো হেঁটেই যাওয়া যায়।’ শেখ রেহানাকে নিয়ে ততক্ষণে হাঁটা ধরেছেন তিনি। অগত্যা বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই সকলকে তার পিছু নিতে হলো। অথচ গত সেপ্টেম্বরেই কি না ৭২ বছরে পদার্পণ করেছন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন সকালেই জাতির পিতার সমাধিসৌধে কবর জিয়ারতে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গীপাড়া এসেছিলেন শেখ হাসিনা।

তিনি জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়াও, ফাতেহা পাঠ করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধির পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন।

নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা, যারা এদিন জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তারাও এসেছিলেন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, বাসে চড়ে। নিজস্ব পতাকা শোভিত জমকালো গাড়ি নিয়ে নয়।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিপুল বিজয়ের পর গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটানা তৃতীয় বার এবং মোট চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং তাঁর নবগঠিত ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং নতুন মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এই শপথ বাক্য পাঠ করান।



সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই খুন-সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুরো বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসের ব্যাধিতে আক্রান্ত। ভোটারবিহীন উপজেলা নির্বাচনের দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেরাই খুনখারাবিতে লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে ভোট সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটের পর বন্দুকধারীদের গুলিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে মধ্যরাতে ব্যালট বাপভর্তি করে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা। বিনা ভোটে স্থানীয় ক্ষমতা আয়ত্তে নেওয়ার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বেই নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নারী সদস্যসহ কয়েকজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় দফার একতরফা উপজেলা নির্বাচনেও জনগণ কোনো সাড়া দেয়নি। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনকে জনগণ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এই সরকার জনগণের আস্থা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বাঘাইছড়ির ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অপর এক বিবৃতিতে তিনি নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট শহরে একটি ট্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী: তোফায়েল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি থেকে যে হারে পদত্যাগ শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে তাদের একদিন বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কঠিন অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। তাদের এ দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী ছিলেন জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু দলের অনেক গোপন বৈঠক করতেন তার বাড়িতে। ভাষা আন্দোলনের এই নেতা ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। তিনি শত্রু-মিত্র সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, দলকে দুর্দিনে এগিয়ে নিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে দৃঢ় হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা দেশবাসী মনে রাখবে। তিনি ছিলেন সততার প্রতীক। তার সাহস ছিল অসীম।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও করুণ হবে। সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের এই দল তাদের পাকিস্তানি প্রভুকে খুশি করার জন্যই রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল আইনের শাসন? কোথায় ছিল তখন মানবতা? প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান স্ত্রী হত্যার বিচারও দেখে যেতে পারেননি দুঃশাসনের কারণে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, রাজনীতির সিংহ পুরুষ জিল্লুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কাণ্ডারি ছিলেন। তিনি মেধা, সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখে গেছেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এমএ করিমের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, রুকুন উদ্দিন পাঠান, সফিকুল বাহার টিপু, আলী আহসান ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়াই হবে: দুদু


আরও খবর

রাজনীতি

শামসুজ্জামান দুদু- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একটা লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, দিন-তারিখ দিয়ে এ লড়াই হবে না। যারা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে এ লড়াই হবে। এই লড়াই হবে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য প্রথম কাজ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তাহলে দেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সকল পণ্যের দাম বাড়ার গতি কমিয়ে জনগণকে শান্তিতে থাকার সুযোগ দিন। অন্যথায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল নতুন কর্মসূচি নিয়ে নবউদ্যমে একাত্তরের মতো আবারও আন্দোলন শুরু করবে।

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর