রাজনীতি

৩ কর্মসূচি ঘোষণা ঐক্যফ্রন্টের

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯

৩ কর্মসূচি ঘোষণা ঐক্যফ্রন্টের

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১. ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে শিগগিরই জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২. নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা করা হবে। ৩. নির্বাচনি সহিংসতায় যেসব এলাকার নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেসব এলাকা সফর করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বিকেলে বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন জানান, ভোটের দিন সিলেটের বালাগঞ্জে ঐক্যফ্রন্টের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই এলাকা সফরে যাবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে একটি বিবৃতি পাঠ করে শোনান বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে বলা হয়েছে, ‘৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দেশের মালিক জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অপব্যবহার করে এবং সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ফলে জনগণ নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ক্ষমতাসীনরা নিজেরাই খুন-সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পুরো বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসের ব্যাধিতে আক্রান্ত। ভোটারবিহীন উপজেলা নির্বাচনের দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা নিজেরাই খুনখারাবিতে লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে ভোট সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটের পর বন্দুকধারীদের গুলিতে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে মধ্যরাতে ব্যালট বাপভর্তি করে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা। বিনা ভোটে স্থানীয় ক্ষমতা আয়ত্তে নেওয়ার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বেই নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নারী সদস্যসহ কয়েকজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় দফার একতরফা উপজেলা নির্বাচনেও জনগণ কোনো সাড়া দেয়নি। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনকে জনগণ বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। এই সরকার জনগণের আস্থা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বাঘাইছড়ির ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অপর এক বিবৃতিতে তিনি নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখট শহরে একটি ট্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী: তোফায়েল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি থেকে যে হারে পদত্যাগ শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে তাদের একদিন বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কঠিন অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। তাদের এ দুরবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী ছিলেন জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু দলের অনেক গোপন বৈঠক করতেন তার বাড়িতে। ভাষা আন্দোলনের এই নেতা ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকতেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। তিনি শত্রু-মিত্র সবাইকে নিয়ে চলতে পারতেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, দলকে দুর্দিনে এগিয়ে নিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে দৃঢ় হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা দেশবাসী মনে রাখবে। তিনি ছিলেন সততার প্রতীক। তার সাহস ছিল অসীম।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও করুণ হবে। সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের এই দল তাদের পাকিস্তানি প্রভুকে খুশি করার জন্যই রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানের মৃত্যুর সময় কোথায় ছিল আইনের শাসন? কোথায় ছিল তখন মানবতা? প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান স্ত্রী হত্যার বিচারও দেখে যেতে পারেননি দুঃশাসনের কারণে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, রাজনীতির সিংহ পুরুষ জিল্লুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কাণ্ডারি ছিলেন। তিনি মেধা, সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখে গেছেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এমএ করিমের সভাপতিত্বে এ সভায় আরও বক্তৃতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, রুকুন উদ্দিন পাঠান, সফিকুল বাহার টিপু, আলী আহসান ভূঁইয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়াই হবে: দুদু


আরও খবর

রাজনীতি

শামসুজ্জামান দুদু- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একটা লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, দিন-তারিখ দিয়ে এ লড়াই হবে না। যারা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে এ লড়াই হবে। এই লড়াই হবে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য প্রথম কাজ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তাহলে দেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সকল পণ্যের দাম বাড়ার গতি কমিয়ে জনগণকে শান্তিতে থাকার সুযোগ দিন। অন্যথায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল নতুন কর্মসূচি নিয়ে নবউদ্যমে একাত্তরের মতো আবারও আন্দোলন শুরু করবে।

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর