রাজনীতি

লাঙ্গলের চূড়ান্ত মনোনয়ন ক্ষমতা রাঙ্গাঁর হাতে

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

লাঙ্গলের চূড়ান্ত মনোনয়ন ক্ষমতা রাঙ্গাঁর হাতে

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন ক্ষমতা নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে দিয়েছেন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে তাকে নতুন মহাসচিব ঘোষণার পর দলীয় একাধিক প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা তৈরির প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বুধবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্রে এখন থেকে স্বাক্ষর করবেন মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। এ বিষয়ে ইসিতে আবেদন করেছে দলটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলটির 'চূড়ান্ত মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দে' ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নতুন তালিকা পাওয়ার কথা জানিয়ে ইসির উপসচিব আব্দুল হালিম খান সাংবাদিকদের বলেন, এর ফলে আগের মহাসচিবের চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষমতা আর থাকছে না। জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে ক্ষমতা দিয়ে নতুন চিঠিটি কমিশনের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যথাসময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তা জানানো হবে।

মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ সাংবাদিকদের জানান, তাকে চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে এ-সংক্রান্ত চিঠি ইসিতে পাঠানো হয়।

২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইসিতে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন, দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে মহাসচিব (তৎকালীন) হাওলাদারই তার দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

তারপর ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাওলাদারের প্রত্যয়নেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন লাঙ্গল প্রতীকের ২৩৩ প্রার্থী। এর মধ্যেই মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে সোমবার মহাসচিব পদে বসান এরশাদ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ঢাকার পথে শেখ হাসিনার গাড়িবহর


আরও খবর

রাজনীতি
ঢাকার পথে শেখ হাসিনার গাড়িবহর

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টুঙ্গিপাড়া থেকে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারাসহ তার গাড়িবহর ঢাকার পথে রওনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার টুঙ্গীপাড়া থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় ৭টি জনসভা ও পথসভায় ভাষণ দেবেন।

ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার ধামরাইয়ে এসব জনসভা ও পথসভা সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এসব এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক হয়ে রয়েছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ফরিদপুর: প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে দুটি পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করবেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আনন্দে উদ্বেলিত। প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য তারা উৎসুক হয়ে রয়েছেন।

ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর সমর্থনে নির্বাচনী সভা দুটির আয়োজন করা হয়েছে।

সকাল ১০টায় ফরিদপুর-৪ নির্বাচনী এলাকায় ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রামে প্রধান সড়কের পাশে ও সকাল ১১টায় ফরিদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কোমরপুরে আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে জনসভায় শেখ হাসিনা বক্তৃতা দেবেন।

ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এএইচএম ফোয়াদ জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আগমন ও জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে বইছে উৎসবের আমেজ। জনসভা সফল করতে দলের নেতাকর্মীরা এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্র্রস্তুতি নিয়েছে। ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম বলেন, আশা করছি জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে।

ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের সভানেত্রীর আগমন বিষয়ে বলেন, ফরিদপুরবাসী ভাগ্যবান এই কারণে যে, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর একাদশ নির্বাচনের গণসংযোগের দ্বিতীয় দিনে ফরিদপুরে দুটি সভা করবেন। তিনি বলেন, এ সভা দুটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

রাজবাড়ী: বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তার আগমনে এ অঞ্চলের মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠেছে। রাজবাড়ীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রাজবাড়ীকে রক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনালে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করবেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য নুরুজ্জামান মিয়া বলন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পথসভা সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এ পথসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ব্যাপারে ঘোষণা আশা করছি। এই সেতু রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এ ঘোষণা এ অঞ্চলে নৌকার বিজয়কে ত্বরান্বিত করবে।

মানিকগঞ্জে দুই পথসভা: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে দুটি পথসভা করবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন জানান, পাটুরিয়া ঘাটে দুপুর ১২টায় এবং মানিকগঞ্জ বাস টার্মিনালে ১টায় পথসভার সময় নির্ধারিত আছে। পথসভা দুটিকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ শেখ হাসিনার আগমনের অপেক্ষায় আছেন।

ধামরাই: ঢাকার ধামরাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ জনসভার আয়োজন করেছে। ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদের সমর্থনে এ জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া সাভারের জলেশ্বরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় দেশ সেবার সুযোগ এবং উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষায় নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বানের মাধ্যমে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। নানা কর্মসূচি শেষে সেখানেই রাতে অবস্থান করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির ওয়েবসাইট বন্ধ


আরও খবর

রাজনীতি
বিএনপির ওয়েবসাইট বন্ধ

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, দলের ওয়েবসাইট bnpbangladesh.com ব্লক করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ওয়েবসাইটে দলের কর্মসূচি, বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার করা হতো।

রিজভী বলেন, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই বিএনপির ওয়েবসাইটটি সরকার ব্লক করেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সরকার এখন বিরোধী দলের প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারও হরণ করছে। অবিলম্বে ওয়েবসাইটটি খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, গত মঙ্গলবার থেকে তারা ওয়েবসাইটটি বন্ধ পাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আরেকবার ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

রাজনীতি

টুঙ্গিপাড়ায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা- ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পুনরায় দেশ সেবার সুযোগ এবং উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষায় নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বানের মাধ্যমে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বুধবার বিকেলে শেখ লুৎফর রহমান ডিগ্রী কলেজ মাঠে এক জনসভায় শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী, জাতির পিতার খুনী এবং অগ্নি সন্ত্রাসকারীদের নির্বাচনী জোটের বিরুদ্ধে নৌকাকে বিজয়ী করে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। খবর বাসসের

তিনি দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে বলেন, ‘আমি নৌকা মার্কায় যাকেই, যেখানে প্রার্থী করেছি তাদের সবাইকে ভোট দেবার জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আহবান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যারা ঐ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, যাদের সাজা হয়েছে তাদের দোসরকে নির্বাচনে প্রার্থী করেছে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী- স্বাধীনতার শক্রু, গণহত্যা পরিচালনাকারী, অগ্নি সন্ত্রাসকারী-তাদেরকে নিয়ে আজকে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে তাদেরকে উপযুক্ত জবাব আপনাদের দিতে হবে, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তাই কোটালিপাড়াবাসীর মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে আমি আহবান জানাবো- ‘আমরা যেখানে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো সেই সময় যেন ঐ যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী, খুনী, রাজাকার এবং যারা অগ্নিসন্ত্রাসকারী তারা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। তাহলে তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। মুক্তযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে।’

তিনি আশংকা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে আবার এদেশ ক্ষুধার্ত হবে, অশিক্ষিত হবে, মানুষের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।’

‘মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেন আর তারা ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেইজন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণের সেবাকরার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটা আমার প্রথম নির্বাচনী সভা, তাই, এই সভা থেকেই আমি সমগ্র দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাই- ‘নৌকা মার্কায় ভোট চাই। জনগণের সেবা করতে চাই। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, জাতির পিতার স্বপ্ন আমি পূরণ করতে চাই।’

কোটালীপাড়ায় অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার প্রথম নির্বাচনী বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও তার সঙ্গে ছিলেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ জয়ধরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং বিএম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এসএম কামাল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
এছাড়াও চলচ্চিত্রাভিনেতা রিয়াজ এবং ফেরদৌস এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রার্থীগণ বক্তৃতা করেন।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী দুপুরে টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তার এবং দলের নির্বাচনী প্রচারভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। জাতির পিতার খুনীদের বিচার করেছি। বাংলাদেশ আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে, মুক্তযুদ্ধের সেই চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই যে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় তা আজকে আবার প্রমাণ হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন, বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছেন, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ আজকে বাস্তব, আজকে বাংলাদেশ কাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, আজকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ যেন বন্ধ করতে না পারে, এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতি যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেই সুযোগ আমি দেশবাসীর কাছে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, কোটালীপাড়ায় যারা আমার মা-বোনরা আছেন, তাদের কাছে ভোট চাই- তাদেরকে আমি বলবো আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কাজ আমি করে গিয়েছি- আজকে শিক্ষা-দীক্ষা, কর্মসংস্থান- সবদিক থেকে আপনারা সুযোগ পেয়েছেন কারণ নৌকায় ভোট দিয়ে কেউ কখনও বঞ্চিত হয় না, নৌকায় ভোট দিলে সকলেই সুন্দর জীবন পায়, উন্নত জীবন পায়। আমার এই কথাটা আপনারা সকলের কাছে পৌঁছে দেবেন, বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরে বলেন, তার সরকারের প্রতিটি কাজই জনকল্যাণের জন্য নিবেদিত। আর একটি শিক্ষিত জাতি পারে একটি দেশকে দারিদ্রমুক্ত করতে, সেইজন্য শিক্ষাকে তার সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। সেইসঙ্গে সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার নিমিত্তে কারিগরি শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।

তিনি বলেন, তার সরকার চায় বাংলাদেশে আর কেউ গরিব থাকবে না, বাংলাদেশ আর কখনও হাত পেতে চলবে না, যে কারণে তার সরকার নিজস্ব অর্থায়ণে প্রণীত বাজেট ৭ গুণ বৃদ্ধি করে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আজ ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা সরকারে। আজকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছিলাম, খালেদা জিয়া সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আবার তা চালু করেছি। আজকে মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, ঔষধ পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশকে আমি নিরক্ষরতামুক্ত করতে চেয়েছিলাম। সেই প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি। আমরা সরকারে এসে আজ তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশে নিরক্ষরতা দূর করবার পথে আজ আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।’

বিদ্যুতের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে।

তার সরকারের লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি দেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। প্রতিটি গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ-সুবিধা পাবে, অর্থাৎ আমার গ্রাম আমার শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।’ সেজন্য তার সরকার প্রতিটি স্থানে স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, কারিগরি শিক্ষার সুবিধা, রাস্তা-ঘাট, পুল, ব্রীজ নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করে দিচ্ছে।

জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করেই তার রাজনীতি এবং ব্যক্তি জীবনে তাঁর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদেরকে উন্নত জীবন দেওয়াই তার রাজনীতির লক্ষ্য।

এ সময় বিএনপি-জামাতের নির্বাচন বানচালের জন্য ২০১৪ এবং ১৫ সালের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্যের তীব্র সমালোচনা করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন এটা কি ধরনের রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন, আমি জাতির পিতার মাজার জিয়ারত করে প্রথম নির্বাচনী সভা আজকে এই কোটালীপাড়ার মাটি থেকেই শুরু করলাম। কারণ আপনারাই আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আমার মা-বাবাসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এমনকি তাদের বিচার যাতে না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশও জারি করা হয়। খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়। ‘১৯৮১ সালে দেশে ফিরে থানায় গিয়ে মামলা পর্যন্ত করতে পারিনি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, পরে ওই ইনডেমনিটি আদেশ বাতিল করে জাতির পিতার খুনিদের বিচার করা হয়। আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছি এবং করছি। অনেকের বিচারের রায়ও কার্যকর হয়েছে’।

দেশবাপী ৩শ’ আসনের প্রতিই তার খেয়াল রাখতে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হয় যে কারণে অন্য প্রার্থীদের মত নিজের নির্বাচনী এলাকায় তিনি সময় দিতে পারেন না। তাই টুঙ্গীপাড়া এবং কোটালীপাড়ার জনগণ তাঁর এই নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় তিনি এ সময় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আজ আমি পিতা-মাতা, ভাইহারা, আপনারা দায়িত্ব নিয়েছেন এবং প্রতিবার নির্বাচনে সে দায়িত্ব আপনারাই পালন করেন। আপনারাই ভোট দেন এবং আপনাদের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ পাই। এখনও আমি আপনাদের কাছে সেই দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি যে, আমার আপনজন বলতে ঐ একটা ছোট বোন (শেখ রেহানা) আছে আর আছেন আপনারা। আপনারাই আমার আপনজন হয়ে এই কোটালীপাড়া-টুঙ্গীপাড়ায় গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে গিয়ে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের জন্য বলবেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি নৌকা মার্কায় ভোট চাই, কাজেই সেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আর একটিবার দেশসেবার সুযোগ করে দেবেন।
তিনি বিদায় বেলায় কবির ভাষায় উচ্চারণ করেন ‘নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি, দেবার কিছু নাই, আছে কেবল ভালবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’

সংশ্লিষ্ট খবর