রাজনীতি

মাঠ ছাড়ছি না: মান্না

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

মাঠ ছাড়ছি না: মান্না

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যতই মামলা, গ্রেপ্তার আর নির্যাতন চলুক তারা নির্বাচনী লড়াইের মাঠ ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহুমুদর রহমান মান্না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার 'বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকা' বিষয়ে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বলেন।

মান্না বলেন, এখন নানা প্রতিবন্ধকতা আছে এটা ঠিক। কিন্তু প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর তারা এলাকায় যাবেন। সাধারণ মানুষদের নিয়ে রুখে দাঁড়াবেন। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চোখ কানা করে একদিকে তাকিয়ে দেখলেতো নির্বাচন করা যাবে না। তবে তারা ও সরকার মিলে যা-ই করুক না কেনো নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠ ছাড়ছি না। কারণ এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের অংশ হিসাবে নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে সব চক্রান্ত হুমকি ভেসে যাবে।

পুলিশ প্রশাসনে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মান্না বলেন, আপনারাও এই দেশের সন্তান এবং আপনারা নাগরিকদের করের টাকায় বেতন পান। তারা সবাই এমন একটা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তার সেবক হিসাবে পাবে এবং সবাই শান্তিতে সহাবস্থান করবে। কিন্তু সেই সহাবস্থানের জরুরি পূর্বশর্ত হল, পুলিশ বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের যে হয়রানি করছে সেটা এই মুহূর্তেই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের ন্যাক্কারজনক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হলে যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে সেটার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব প্রশাসন এবং পুলিশকে নিতে হবে। সবার মনে রাখা উচিত এই সরকারই শেষ সরকার নয়।

মান্না বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের একাকার হয়ে যাওয়ায় জনগণের মনে এই শঙ্কা তৈরি করছে যে, সরকার একটি নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড'-এর ধারে কাছেও নেই। একদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্র রয়ে গেছে। এই কথাগুলো ব্রিটিশ এমপিদের জন্য তৈরি হাউস অব কমন্সের লাইব্রেরির গবেষণাপত্রের মূল্যায়ণে।

মান্না বলেন, সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা দিয়ে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেককে গুম করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্যভাবে এই গেপ্তারের তালিকায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে। একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে হোটেল রুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার সংবাদও পেয়েছি। নির্বাচনের আর খুব কম সময় বাকি থাকলেও এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো কথা বলছে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সদস্য ফজলুর রহমান, শহিদুলল্গাহ কায়সার প্রমুখ।

মন্তব্য


অন্যান্য