রাজনীতি

আ.লীগের স্বার্থে আইন এক, বিএনপির ক্ষেত্রে আরেক: রিজভী

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

আ.লীগের স্বার্থে আইন এক, বিএনপির ক্ষেত্রে আরেক: রিজভী

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে দুই ধরনের আইনের প্রয়োগ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের স্বার্থে আইন এক ধরনের আর বিএনপির ক্ষেত্রে আরেক ধরনের। ১৩ বছরের সাজা নিয়ে শুধুমাত্র আপিল করে এখনও এমপি হিসেবে বহাল আছেন আওয়ামী লীগের হাজি সেলিম। তার মনোনয়নপত্রও বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দু'টি মামলার বিচারিক আদালতে সাজা হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়, আপিল বিভাগও তা বহাল রাখে। এসব তথ্য তিনি হলফনামায় দেওয়ার পরও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এখন বাতিলের সার্টিফায়েড কপিও তাকে দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন উচ্চ আদালতে নাকচ হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, কারো দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকলেই চলবে না, এমনকি আপিলে মুক্তি পেলেও নিস্তার নেই। কারণ সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তিলাভের পর ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেলের এই ব্যাখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হলে মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং কক্সবাজারের সাংসদ আব্দুর রহমান বদির সংসদ সদস্য পদ অবৈধ হওয়ার কথা।

সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিরোধীদল শুন্য করতে সরকারের এজেন্ডা এখন অ্যাটর্নি জেনারেল বাস্তবায়ন করছেন। মহীউদ্দিন খান আলমগীর, হাজী সেলিম দন্ড প্রাপ্ত হওয়ার পরও তাদের মনোনয়নপত্র কীভাবে বৈধ হয় তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলেও সরকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন জেলায় রিটর্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীকে কথা বলারও সুযোগ দিচ্ছেন না। রাজশাহীতে ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিলের সার্টিফাইড কপি এখনো দেওয়া হয়নি। তার অর্থ হচ্ছে, সরকারের নির্দেশনায় একেবারে পরিকল্পিতভাবে রিটার্নিং অফিসাররা বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এই সব পায়তারা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, মামুন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, মাশুকুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য


অন্যান্য