রাজনীতি

একই আসন থেকে ফরম নিলেন সৈয়দ আশরাফ, তার ভাই ও রাষ্ট্রপতিপুত্র

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

একই আসন থেকে ফরম নিলেন সৈয়দ আশরাফ, তার ভাই ও রাষ্ট্রপতিপুত্র

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম এবং রাসেল আহমেদ তুহিন -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক ও কিশোরগঞ্জ অফিস

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন। তিনজনই আসন্ন নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় সংলগ্ন দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কেনেন তারা। এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দুটি আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।

ঢাকা বিভাগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ বুথের দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত জানান, সকালে ফরম বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণ পর কিশোরগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান সাংসদ জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য ফরম সংগ্রহ করে নিয়ে যান তার ব্যক্তিগত সহকারী তোফাজ্জল হোসেন। পরে সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলামের পক্ষে একই আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসনের দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েক মাস ধরে সরকারের 'উন্নয়ন' তুলে ধরে লাগাতার সভা-সমাবেশ করে আসছেন রাষ্ট্রপতিপুত্র রাসেল আহমেদ তুহিন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে জনসভার মাধ্যমে বড় ধরনের শোডাউনও করেন তিনি।

ওই শোডাউনকে অনেকেই এ আসনে আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রপতিপুত্র তুহিনের প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিতই মনে করেছেন। কিন্তু রাসেল আহমেদ তুহিন তার প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে স্টেটাস দিয়ে শুক্রবার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬৮ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ বর্তমানে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থতার কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ কার্যক্রম থেকে ৯০ কার্যদিবসের জন্য ছুটিও নিয়েছেন তিনি। গত ৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জে এক আলোচনা সভায় তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াত ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ সৈয়দ আশরাফ পরিবারের সদস্যদেরসহ কাউকেই চিনতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এখন রাজনীতি ও নির্বাচনের চেয়ে তার চিকিৎসার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত হওয়ার পর জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্যে চলে যান। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন তিনি। ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে পুননির্বাচিত হন তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

নির্বাচনে ভারতের সাহায্য প্রয়োজন: বিকল্পধারা মহাসচিব


আরও খবর

রাজনীতি

  সমকাল প্রতিবেদক

আসন্ন নির্বাচনে ভারতের সাহায্য প্রয়োজন বলে মনে করছে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা। দলটির মহাসচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। নির্বাচনের আগে তাদের সাহায্য প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর বারিধারায় বি. চৌধুরীর বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বিকল্পধারার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। 

বৈঠক শেষে মেজর (অব.) মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। বিকল্পধারা চায় নির্বাচনের পরও এ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকুক। তাই নির্বাচনের প্রাক্কালে তারা ভারতীয় হাইকমিশনারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

তবে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচনের ব্যাপারে ভারত জড়িত নয়। নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়। তবে বিকল্পধারার আদর্শ ও চিন্তা কেমন, তিনি তা জানতে চেয়েছেন।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ না দিয়ে আওয়ামী লীগের মহাজোটে যোগ দিতে যাওয়া বিকল্পধারার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, একেবারেই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী নেতা শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, তারা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, বিকল্পধারা অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দল। 

বিকল্পধারার আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি. চৌধুরী বলেন, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থানে থেকে গণতন্ত্র রক্ষায় তাদের মহাজোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে: তারেক প্রসঙ্গে কাদের


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, সেটা আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে তারেক রহমান কোনো প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে আলোচনা করে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

'ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি'- নির্বাচন কমিশন সচিবের এমন বক্তব্যের বিষয়ে কাদের বলেন, এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন কী বলেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তাই কমিশন সচিবের বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপি আগামী নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একটি দল নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। সারাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে মনোনয়ন সংগ্রহের নামে সারাদেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের এনে পুলিশের ওপর হামলা করেছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে। ২০ জনের মতো পুলিশ আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। এতদিন যারা নির্বাচনের পরিবেশ পরিবেশ বলে চিৎকার করছিল, তফসিল ঘোষণার পর তারাই পরিবেশ নষ্ট করছে।

কাদের বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রির ভুয়া প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। আওয়ামী লীগের চার হাজার মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এখন বিএনপি তার চেয়ে বেশি বিক্রি দেখাতে চায়। আর এজন্য তারা চিহ্নিত দাগী সন্ত্রাসীদের এক করে ফরম বিক্রি দেখাচ্ছে। তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। চ্যালেঞ্জ করে বলছি, তারা মনোনয়ন ফরম বিক্রির ভুয়া সংখ্যাতত্ত্ব দিচ্ছে।

বিএনপির প্রার্থীদের গ্রেপ্তার কিংবা হয়রানি করা হচ্ছে- দলটির নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের ধরা হচ্ছে তারা অপরাধী। কোনো না কোনো অপরাধ করেছে। বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই অপরাধী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে পত্র-পত্রিকায় যেসব খবর প্রকাশ হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আমরা দলের পক্ষ থেকে এখনও কাউকে মনোনয়ন দেইনি, কাউকে মনোনয়নের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা মনোনয়ন পাওয়ার দাবি করছেন, কিংবা মনোনয়ন পেয়েছেন অথবা বাদ পড়েছেন বলে যেসব খবর আসছে সব ভুয়া ও মনগড়া। আওয়ামী লীগ কাউকে মনোনয়ন দেয়নি, দিয়েছে মিডিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মাহবুবউল আলম হানিফ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আক্তার পপি প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

গণফোরামে সাবেক ১০ সামরিক কর্মকর্তা


আরও খবর

রাজনীতি

  সমকাল প্রতিবেদক

গণফোরামে যোগ দিয়েছেন সেনা ও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ১০ কর্মকর্তা। সোমবার বিকেলে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামে যোগ দেন।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গণফোরামে যোগ দেওয়া সেনা ও বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা হলেন-লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শেখ আকরাম আলী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. শহিদুল্লাহ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ ফ ম নুরুদ্দিন, মেজর (অব.) মাসুদুল হাসান, মেজর (অব.) মো. ইমরান, মেজর (অব.) বদরুল আলম সিদ্দিকী, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) ফোরকান আলম খান, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. হাবিব উল্লাহ ও স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. মাহমুদ।

কামাল হোসেনের চেম্বারে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

এ সময় সুব্রত চৌধুরী এই ১০ জনের উদ্দেশ্যে বলেন, এই যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আপনাদের নতুন যাত্রা শুরু হলো। আমরা এক সাথে কাজ করবো।

লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেশ উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হবে, দেশে নিখুঁত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর