রাজনীতি

কূটনীতিকদের সতর্ক দৃষ্টি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  রাশেদ মেহেদী

সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াটে অবস্থায় রয়েছে কূটনৈতিক মহল। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তাপ আসলে বাড়বে না কমবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট হতে পারছেন না কূটনীতিকরা। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় চলমান পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন তারা। এখন এক থেকে দুই সপ্তাহ সময়কেই রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে তাদের কাছে। তবে সার্বিকভাবে নির্বাচনী রাজনীতি ঘিরে আগেরবারের মতো সহিংস অবস্থার সৃষ্টি না হওয়াকে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছে প্রভাবশালী কূটনৈতিক পক্ষগুলো। সংশ্নিষ্ট একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এশিয়া-সংক্রান্ত একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলংকা, নেপাল ও মালদ্বীপের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ভারত ও চীনের ছায়াযুদ্ধ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সে ধরনের কোনো অবস্থা এখনও দেখা যায়নি; বরং এখনও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে 'কূটনৈতিক তৎপরতায়' পশ্চিমা কূটনীতিকরাই বেশি সক্রিয়। সংশ্নিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, কয়েকদিনের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপকে সব পক্ষের কূটনীতিকরাই ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ ৭ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের পর উভয় পক্ষের বক্তব্য থেকে এর ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্তাপ বাড়বে না কমবে, সে নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে কূটনৈতিক মহল। প্রভাবশালী কূটনৈতিক পক্ষগুলো সতর্কভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

পশ্চিমা একটি সূত্র জানায়, সার্বিকভাবে আগেরবারের নির্বাচনের সময়ের মতো এবার সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়াটা স্বস্তিদায়ক। এ কারণে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে জোরালো মতভেদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এশিয়া-সংক্রান্ত আরেকটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে ভারত ও চীনের অবস্থান নিয়ে ব্যাপক ঔৎসুক্য রয়েছে কূটনৈতিক মহলে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও নেপালের নির্বাচন ঘিরে ভারত-চীনের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই অবস্থা দেখা যাচ্ছে না; বরং ভারত ও চীন দু'পক্ষের সঙ্গেই বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমান সখ্য দেখা যাচ্ছে। আবার মালদ্বীপ কিংবা শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত ও চীন কোনো একটি রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্টও করেনি। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে ভারত ও চীনের অবস্থান মালদ্বীপ, শ্রীলংকা কিংবা নেপালের চেয়ে ভিন্ন বলেই মনে করছে সূত্র।

অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রভাবশালী একাধিক পশ্চিমা দেশের কূটনৈতিক মিশন থেকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে সহিংস পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে দু'পক্ষের প্রতিই চাপ রয়েছে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর। সূত্র আরও জানায়, এসব মিশন মনে করছে, এখন পর্যন্ত বিরোধী পক্ষ নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। এমনকি রাজনৈতিক সংলাপের মধ্য দিয়েও বিরোধী পক্ষের নির্বিঘ্ন সভা-সমাবেশের বিষয়টিতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। ফলে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশ মিশন থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিয়মিত অবহিত করে রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ইসিতে 'গায়েবি' মামলার তালিকা দিল বিএনপি


আরও খবর

রাজনীতি

  সমকাল প্রতিবেদক

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন 'গায়েবি ও মিথ্যা' মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করে সেজন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি। দুই সহস্রাধিক মামলার একটি তালিকা দিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। এর আগে একই তালিকা প্রধানমন্ত্রী বরাবরও পাঠিয়েছিল তারা। বিএনপির চিঠির আলোকে নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক মামলা থেকে বিরত থাকতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠির সঙ্গে মামলার তালিকা নিয়ে রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় মামলা ও তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খানের নেতৃত্বে ইসিতে আসে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। চিঠিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৪৮টি মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৪৮৭ জনকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৭৭৩ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও হুমকির অভিযোগও করেছে দলটি। চিঠিতে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ নভেম্বর এক হাজার ৪৬টি ও পরে ১৩ নভেম্বর এক হাজার দুটি মামলার তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়। তারপর এখনও মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার নেতাকর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। এ অবস্থায় বিএনপি বিষয়টিতে ইসির হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৯০ হাজার ৩৪০টি, আসামির সংখ্যা ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জন, জেলহাজতে থাকা আসামির সংখ্যা ৭৫ হাজার ৯২৫ জন, মোট নিহত এক হাজার ৫১২ জন নেতাকর্মীর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৮২ জন, বিভিন্ন দলের 'গুম হওয়া' এক হাজার ২০৪ জন নেতাকর্মীর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে গ্রেফতার দেখানো হয় ৭৮১ জনকে। বিএনপির গুম ছিল ৪২৩ জন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ৭২ জন নেতাকর্মী গুম রয়েছেন এবং গুরুতর জখম ও আহত হয়েছেন ১০ হাজার ১২৬ জন। এর আগে ৮ নভেম্বর ইসিতে পাঠানো বিএনপি মহাসচিবের আরেকটি চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের পুনঃতফসিলের পর সারাদেশে ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম-পরিচয়সহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের একটি তালিকাও ওই চিঠির সঙ্গে দেওয়া হয়।

এদিকে বিএনপির জমা দেওয়া মামলা ও গ্রেফতারের তালিকা প্রসঙ্গে রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, তালিকাটি তিনি দেখেননি। সত্যিকার অর্থে যদি কোনো হয়রানিমূলক মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেবেন যেন হয়রানিমূলক মামলা না করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আওয়ামী লীগের


আরও খবর

রাজনীতি

তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্স

বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আওয়ামী লীগের

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় দলটি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ। রোববার সন্ধ্যায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসি কার্যালয়ে গিয়ে এই অভিযোগ জমা দেয়।

ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান বিএনপির যারা প্রার্থী তাদের সঙ্গে কথা বলছে স্কাইপি বা অন্য কোনো মাধ্যমে, টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে, এটা দেশবাসী দেখেছে। এই ঘটনাকে নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দুই মাস আগের একটা নির্দেশনা রয়েছে যে, তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য কোনো জায়গায় প্রচার করা যাবে না। সুতরাং এটা আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটা আদালত অবমাননার শামিল। একই সঙ্গে ইসিও বলেছে, গঠনতন্ত্র পরিবর্তন সাপেক্ষে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। নির্বাচন কমিশন যথাযথ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফারুক খান আরও বলেন, দু'দিন আগে ঐক্যফ্রন্ট দিনব্যাপী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নির্বাচনী প্রচার করেছে। এগুলো অব্যাহত থাকলে নির্বাচন আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই ইসিকে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। 'হাসিনা : অ্যা ডটার'স টেল' নামক ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, এটা বাণিজ্যিক ছবি। মানুষ টাকা দিয়ে দেখছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি ও এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত: হাছান


আরও খবর

রাজনীতি

ড. হাছান মাহমুদ -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে রাজনীতি কিংবা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিএনপির অভিযোগ নিন্দনীয়। মূলত বিএনপি নেত্রীকে নিয়ে এ ধরনের কিছু বানানো হয়নি বলেই তাদের গাত্রদাহ।

রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর দলীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির হাঙ্গামা মামলার আসামি রিজভী কীভাবে দলীয় কার্যালয়ে বসে অন্য দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেন? তিনি নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় রিজভীসহ সব আসামির বিরুদ্ধে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'হাসিনা : আ ডটার'স টেল'-এর প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানিয়ে রিজভী শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এটিকে 'নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন' বলে অভিযোগ করেন। এর জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিধায় তাকে ঘিরে রাজনীতির কিছু ঘটনাপ্রবাহে ও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার ওপর চলা নির্যাতন-নিপীড়ন- এই বিষয়গুলো চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে। এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য নিন্দনীয়।

'সরকার একটি অদ্ভুত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে'- রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার নয়, রিজভী আহমেদই একজন অদ্ভূত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। কারণ তার মুখে কোনো সময় হাসি দেখিনি। সকাল-বিকেল মিথ্যা কথা বলেন তিনি। আর গত দশ বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। লবিস্ট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টও মনগড়া।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে হলে একটি হরর মুভি বানাতে হবে। কারণ ভৌতিক ছবিতে নায়িকা মানুষ পুড়িয়ে সেই পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে ঘুমাতে পারে না, তার স্বস্তি হয় না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনো ছবি বানাতে হলে এগুলো উঠে আসবেই।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল ও বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সুপ্রিম কোর্টে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা আচরণবিধির কথা বলেন। অথচ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে রীতিমতো সমাবেশ করে আদালত ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলরা ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। এটা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অসীম কুমার উকিল, সামসুন্নাহার চাঁপা, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর