রাজনীতি

তবুও সমঝোতার আশায় ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

তবুও সমঝোতার আশায় ঐক্যফ্রন্ট

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচন পেছানোর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তফসিল ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই তফসিলের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। 

তারা বলছেন, এটা সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপরও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করবেন জোটের নেতারা। একইসঙ্গে তাদের আন্দোলন-কর্মসূচিও চলবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে কঠোর আন্দোলনে যাবে ঐক্যফ্রন্ট।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এসব কথা বলেন। 

২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ তফসিলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। এতে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। এই তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য একেবারে পরিস্কার- জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান এ দেশের জনগণ গ্রহণ করবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল। সেখানে ইসিকে তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়নি। 

তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সরকার যখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংলাপ অনুষ্ঠান এবং আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে, তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।

জেএসডি নেতারা বলেন, এই তফসিলে ১৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি ছুটি বাদ দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে দলগুলোকে মনোনয়ন আহ্বান, প্রার্থী বাছাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে এ সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে যে কোনো মূল্যে এ তফসিল পেছাতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তারা সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেহায়েতই দলীয় স্বার্থে তা আমলে নেয়নি। এরপরও তিনি মনে করেন, এখনও সংলাপ শেষ হয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, আগেও তফসিল পেছানো হয়েছে। তারা আন্দোলনের পাশাপাশি আলাপ-আলোচনার দরজাও খোলা রাখতে চান। সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে সমাধানে আসেন, না হলে দেশ একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত: সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক না করলেও নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সাত দফা দাবি নিয়ে সরকারের অনমনীয় মনোভাব নিয়ে তারা আলোচনা করছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন শীর্ষ নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত নেন। আগামী রোববার তারা নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এরপরও সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে পর্যায়ক্রমে কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, সরকারের সঙ্গে তাদের সংলাপে যে সাত দফা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার না করা এবং সভা-সমাবেশে বাধা না দেওয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু সংলাপের দিন বিকেল থেকে সারাদেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়, যা উদ্দেশ্যমূলক। বিরোধী দলকে চাপে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার এটা করছে বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়াই হবে: দুদু


আরও খবর

রাজনীতি

শামসুজ্জামান দুদু- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একটা লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, দিন-তারিখ দিয়ে এ লড়াই হবে না। যারা দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে এ লড়াই হবে। এই লড়াই হবে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য প্রথম কাজ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তাহলে দেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সকল পণ্যের দাম বাড়ার গতি কমিয়ে জনগণকে শান্তিতে থাকার সুযোগ দিন। অন্যথায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল নতুন কর্মসূচি নিয়ে নবউদ্যমে একাত্তরের মতো আবারও আন্দোলন শুরু করবে।

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

গ্যাসের দাম বাড়লে যথাসম্ভব প্রতিবাদ: ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। বিএনপিও মানবে না। গ্যাসের দাম বাড়লে যথাসম্ভব প্রতিবাদ করা হবে। 

রোববার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সভায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলো লাভে থাকলেও বাসাবাড়িতে এক চুলার গ্যাসের দাম ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫০ এবং দুই চুলার দাম এক হাজার ৪৪০ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে। তবে শুনানিতে ভোক্তা, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার অনির্বাচিত, তাই জনগণের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে চিন্তিত নয়। আখের গোছাতে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদনকে 'সঠিক' দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার সেল নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা, বিবিসি, গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস প্রত্যেকেই খবর দিয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন হয়নি। তারা ভোটই দিতে পারেনি। ভারতীয় পত্রপত্রিকাগুলোতেও বলা হয়েছে, নির্বাচন হয়নি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একাদশ সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করলেও দেশীয় গণমাধ্যমে তেমন খবর নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে মিডিয়ার ওপর প্রচণ্ড সেন্সরশিপ রয়েছে। তারপরও যতটুকু সম্ভব তারা এ নিয়ে কথা বলছেন। গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিরূপ পরিবেশের মধ্যেও গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপি এখন বধির হয়ে গেছে: নাসিম


আরও খবর

রাজনীতি

মোহাম্মদ নাসিম- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি বধির হয়ে গেছে। ক্ষমতায় থাকতে অনেক অন্যায় এবং ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকীতে খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের নামে উল্লাসের পাশাপাশি বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন। মিথ্যাচারের এই দলের নেতাদের কণ্ঠ এখন স্তব্ধ।

রোববার রাজধানীর বিজয়নগরে ঢাকা সরকারি বধির স্কুল প্রাঙ্গণে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরে এতিম, প্রতিবন্ধী ও অসহায় শিশুদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়।

সংসদে এসে কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার কথা বলতে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও তার জন্য বিএনপি নেতারা এখন কথাও বলতে পারছেন না। তারা এত অন্যায় করেছেন যে, বধির হয়ে গেছেন। তাই বলবো, যে আটজন নির্বাচিত হয়েছেন তারা সংসদে এসে খালেদা জিয়ার কথা বলুন।

নাসিম বলেন, ইতিহাস কখনো থেমে থাকে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কারণেই জাতি এখন সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। শেখ হাসিনা সাহস নিয়ে একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। এখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে। শেখ হাসিনা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেবেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, নিউজিল্যান্ড একটি সভ্য দেশ, সেখানে মসজিদে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আজ সারা দুনিয়ায় যখন জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুজিত রায় নন্দী, কামাল চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর