রাজনীতি

এখনও গৃহীত হয়নি চার মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখনও গৃহীত হয়নি চার মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিলেও প্রধানমন্ত্রী এখনও গ্রহণ করেননি। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রীদের স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাদের অফিস চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি, সেবা ও আইন অধিশাখা থেকে গতকাল বুধবার টেকনোক্র্যাট চার মন্ত্রীর একান্ত সচিবকে (পিএস) জানানো হয়েছে, মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বপদেই থাকবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সমকালকে বলেন, পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়া অবধি তারা কাজ করে যাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ্‌দীন মালিক গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, মন্ত্রী ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেই তা কার্যকর হয়। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার বা না করার কোনো বিধান নেই। এ ছাড়া সংবিধানের ৫৮ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রীর পদ শূন্য হবে- যদি তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।

এদিকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ঢাকার মিরপুরে ঢাকা টেকিনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং মন্ত্রী হিসেবে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযু?ক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার স্বাভাবিক নিয়মেই অফিস করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জনতা টাওয়ারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নবিষয়ক সেমিনারে মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রধান অতিথি হবেন। গতকাল তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন 'আমরা চারজন এখনও আছি।'

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান গতকাল অফিস করেননি। তবে গতকাল সকালে গাড়ি থেকে পতাকা নামিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করে তাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি সেখানে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তখন কিছুটা অসন্তোষের সঙ্গে বলেন, এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। পদত্যাগপত্র তো সরাসরি আমার কাছে দেওয়ার কথা। আপনি দায়িত্ব পালন করতে থাকুন। অন্য তিন মন্ত্রীকেও অফিস চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন সমকালকে জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ধর্মমন্ত্রীকে স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান গতকাল অফিস করেননি এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও তার পরিচয় মুছে ফেলেছেন। এ বিষয়ে স্থপতি ইয়াফেস ওসমান সমকালকে বলেন, তিনি সব সময় আইন মেনে চলেন। আইনের কোনো ব্যত্যয় হোক, সেটা তিনি চান না। তাই তিনি অফিস করেননি এবং মন্ত্রী হিসেবে যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তাও আর নিচ্ছেন না।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযু?ক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দেওয়ায় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি তা চাইলে গ্রহণ করতে পারেন, আবার নাও পারেন। তবে পদত্যাগপত্র দিলেও তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। যদি তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করেন তা হলে তিনি চলে যাবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি, সেবা ও আইন অধিশাখার যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম সমকালকে বলেন, মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে এ কাজের সমন্বয় করে। প্রধানমন্ত্রী তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে এবং রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরবর্তী কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রীদের স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করার জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্ম সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ করা হয়নি। তাই স্বাভাবিক নিয়মে আগের মতোই অফিস করতে হবে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ইসিতে 'গায়েবি' মামলার তালিকা দিল বিএনপি


আরও খবর

রাজনীতি

  সমকাল প্রতিবেদক

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন 'গায়েবি ও মিথ্যা' মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করে সেজন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি। দুই সহস্রাধিক মামলার একটি তালিকা দিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। এর আগে একই তালিকা প্রধানমন্ত্রী বরাবরও পাঠিয়েছিল তারা। বিএনপির চিঠির আলোকে নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক মামলা থেকে বিরত থাকতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠির সঙ্গে মামলার তালিকা নিয়ে রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় মামলা ও তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খানের নেতৃত্বে ইসিতে আসে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। চিঠিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৪৮টি মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৪৮৭ জনকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৭৭৩ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও হুমকির অভিযোগও করেছে দলটি। চিঠিতে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ নভেম্বর এক হাজার ৪৬টি ও পরে ১৩ নভেম্বর এক হাজার দুটি মামলার তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়। তারপর এখনও মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার নেতাকর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি। এ অবস্থায় বিএনপি বিষয়টিতে ইসির হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৯০ হাজার ৩৪০টি, আসামির সংখ্যা ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জন, জেলহাজতে থাকা আসামির সংখ্যা ৭৫ হাজার ৯২৫ জন, মোট নিহত এক হাজার ৫১২ জন নেতাকর্মীর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৮২ জন, বিভিন্ন দলের 'গুম হওয়া' এক হাজার ২০৪ জন নেতাকর্মীর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে গ্রেফতার দেখানো হয় ৭৮১ জনকে। বিএনপির গুম ছিল ৪২৩ জন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ৭২ জন নেতাকর্মী গুম রয়েছেন এবং গুরুতর জখম ও আহত হয়েছেন ১০ হাজার ১২৬ জন। এর আগে ৮ নভেম্বর ইসিতে পাঠানো বিএনপি মহাসচিবের আরেকটি চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের পুনঃতফসিলের পর সারাদেশে ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম-পরিচয়সহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের একটি তালিকাও ওই চিঠির সঙ্গে দেওয়া হয়।

এদিকে বিএনপির জমা দেওয়া মামলা ও গ্রেফতারের তালিকা প্রসঙ্গে রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, তালিকাটি তিনি দেখেননি। সত্যিকার অর্থে যদি কোনো হয়রানিমূলক মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেবেন যেন হয়রানিমূলক মামলা না করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আওয়ামী লীগের


আরও খবর

রাজনীতি

তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্স

বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আওয়ামী লীগের

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় দলটি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ। রোববার সন্ধ্যায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসি কার্যালয়ে গিয়ে এই অভিযোগ জমা দেয়।

ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান বিএনপির যারা প্রার্থী তাদের সঙ্গে কথা বলছে স্কাইপি বা অন্য কোনো মাধ্যমে, টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে, এটা দেশবাসী দেখেছে। এই ঘটনাকে নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দুই মাস আগের একটা নির্দেশনা রয়েছে যে, তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য কোনো জায়গায় প্রচার করা যাবে না। সুতরাং এটা আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটা আদালত অবমাননার শামিল। একই সঙ্গে ইসিও বলেছে, গঠনতন্ত্র পরিবর্তন সাপেক্ষে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। নির্বাচন কমিশন যথাযথ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফারুক খান আরও বলেন, দু'দিন আগে ঐক্যফ্রন্ট দিনব্যাপী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নির্বাচনী প্রচার করেছে। এগুলো অব্যাহত থাকলে নির্বাচন আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই ইসিকে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। 'হাসিনা : অ্যা ডটার'স টেল' নামক ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, এটা বাণিজ্যিক ছবি। মানুষ টাকা দিয়ে দেখছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি ও এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত: হাছান


আরও খবর

রাজনীতি

ড. হাছান মাহমুদ -ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে রাজনীতি কিংবা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিএনপির অভিযোগ নিন্দনীয়। মূলত বিএনপি নেত্রীকে নিয়ে এ ধরনের কিছু বানানো হয়নি বলেই তাদের গাত্রদাহ।

রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর দলীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির হাঙ্গামা মামলার আসামি রিজভী কীভাবে দলীয় কার্যালয়ে বসে অন্য দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেন? তিনি নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় রিজভীসহ সব আসামির বিরুদ্ধে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'হাসিনা : আ ডটার'স টেল'-এর প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানিয়ে রিজভী শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এটিকে 'নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন' বলে অভিযোগ করেন। এর জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিধায় তাকে ঘিরে রাজনীতির কিছু ঘটনাপ্রবাহে ও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার ওপর চলা নির্যাতন-নিপীড়ন- এই বিষয়গুলো চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে। এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য নিন্দনীয়।

'সরকার একটি অদ্ভুত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে'- রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার নয়, রিজভী আহমেদই একজন অদ্ভূত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। কারণ তার মুখে কোনো সময় হাসি দেখিনি। সকাল-বিকেল মিথ্যা কথা বলেন তিনি। আর গত দশ বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। লবিস্ট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টও মনগড়া।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে হলে একটি হরর মুভি বানাতে হবে। কারণ ভৌতিক ছবিতে নায়িকা মানুষ পুড়িয়ে সেই পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে ঘুমাতে পারে না, তার স্বস্তি হয় না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনো ছবি বানাতে হলে এগুলো উঠে আসবেই।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল ও বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সুপ্রিম কোর্টে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা আচরণবিধির কথা বলেন। অথচ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে রীতিমতো সমাবেশ করে আদালত ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলরা ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। এটা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অসীম কুমার উকিল, সামসুন্নাহার চাঁপা, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর