রাজনীতি

সংলাপে ১৪ দলকে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

সংলাপে ১৪ দলকে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট

গণভবনে বুধবার প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা— বাসস

  সমকাল প্রতিবেদক

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

এই প্রস্তাবনা একটি কপি সমকালের হাতে এসেছে, যেখানে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের সমতল ভূমি বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ সরকার গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যজোটের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, 'সংসদ ভেঙে দেওয়া সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও বিধানগুলো সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিবৃত আছে। এছাড়া আমাদের এবং বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রথায়ও সংসদের মেয়াদ পূর্তির পূর্বে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রচুর নজির রয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই সংসদ ভেঙে দেয়া হয়েছিল।'

'বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান ও প্রথার আলোকে এবং বিশেষত ১২৩(৩) (খ) এর আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বর মাসে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ প্রদান করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মত হবে। অনুচ্ছেদ ১২৩(৩) (খ) অনুযায়ী উপরে উল্লেখিত পন্থায় সংসদ ভেঙে দেয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১১তম সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। সেক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী ১১তম সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে অথবা মার্চে অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিভিন্ন দেশের সাংবিধানিক রীতি অনুসারে সংসদে ভেঙে দেওয়া ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৪৫ দিল ব্যবধান থাকা বাঞ্ছনীয়।'

সংসদ ভেঙে দিলে নির্বাচন অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ও প্রার্থীর জন্য 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে'র একটি বড় শর্ত পূরণ হবে বলেও উল্লেখ করা হয় রূপরেখায়।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়ে রূপরেখায় বলা হয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশিদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্তত আংশিক পুনর্গঠন অত্যাবশ্যক। এছাড়া সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে নতুন সচিবও নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে রূপরেখায় উল্লেখ কর হয়।

নির্বাচনের সমতল ভূমি বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের জন্য রূপরেখায় খালেদা জিয়ার মুক্তি, নতুন মামলা দায়ের না করা, জামিনের বিরোধিতা না করা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচনের সময় বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব প্রদান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রূপরেখায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এবং অপর ১০ উপদেষ্টার সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হবে। নিরপেক্ষ সরকার সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবে। নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যভার গ্রহণের তারিখে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বিলুপ্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু রোববার


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে রোববার।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুক্রবার বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী রোববার দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে শুরু হবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে।

রিজভী বলেন, সাক্ষাৎকার শুরু হবে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়-১ আসন দিয়ে। একই দিন রাজশাহী বিভাগের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে।

তিনি জানান, এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকবেন। এছাড়া দলের মহানগর, জেলা, উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি উপস্থিত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন নিয়েও প্রশ্ন তোলো বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচন আয়োজনের দিকেই যাচ্ছে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। তারা সরকারি দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। সরকার প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট গ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেছে।

গত সোমবার থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। মঙ্গলবার থেকে মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া শুরু করে দলটি। চার দিনে ৪ হাজার ১১২ জন নেতা বিএনপির মনোনয়নপত্রের ফরম কিনেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবেন: কাদের


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থীদেরকে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন; এমন প্রার্থীদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। নির্বাচনে প্রতিক্ষপকে কোনওভাবেই দুর্বল ভাবছে না আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছি। নেত্রীর স্বচ্ছতা, সততা ও সাহসী নেতৃত্ব সারাবিশ্বে সমাদৃত। 

মন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ আমরা বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। নৌকা বিজয়ের নৌকা।

তিনি আরও বলেন, আমরা সুসংগঠিত, সুসজ্জিত ও সুশৃঙ্খল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকা প্রতীক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি বিজয়ের বন্দর অভিমুখে।

৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নিজ দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার লক্ষ্যে গত ৯ নভেম্বর থেকে টানা চার দিন মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। চার দিনে বিক্রি হয়েছে চার হাজার ২৩টি মনোনয়ন ফরম।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রতাশীরা ১৪ নভেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

মির্জা ফখরুলকে আলটিমেটাম ছাত্রলীগের


আরও খবর

রাজনীতি

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করেছে ও আগুন দিয়েছে বলে বিএনপি মহাসচিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রলীগ। এ জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগ বলেছে, অন্যথায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ মিছিলপরবর্তী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বক্তব্য দেন।

গোলাম রাব্বানী বলেন, সারা দেশের মানুষ যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিনা উসকানিতে ছাত্রদলের ক্যাডাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করেছে। যানবাহন ভাংচুর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। উল্টো এর দায় চাপানো হয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর। 

তিনি বলেন, যারা হামলা করেছে তারা সবাই ছাত্রদল ও বিএনপির ক্যাডার। অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম তাদের ছাত্রলীগের 'হেলমেট বাহিনী' বলে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন। এ কারণে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। 

সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা তত উচ্ছৃঙ্খল হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

নীল দলের নিন্দা: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল।

বৃহস্পতিবার নীল দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশে আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিবৃতিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর