রাজনীতি

খুলনার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে বিএনপিকে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

খুলনার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে বিএনপিকে: ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সামনে তাদের জন্য আরও বড় বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলাকালে রাত সাড়ে ৮টায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সে সময় পর্যন্ত পাওয়া সিংহভাগ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর তুলনায় অনেক ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়েছে।

এর আগে দুপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালে একই স্থানে আরেক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটাররা সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। ভোটের যে গতিপ্রকৃতি, তা দেখে মনে হয়- বিএনপি তাদের মেয়রপ্রার্থীর পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে এবং সেই পরাজয়কে ঢাকার জন্য এখনই মিথ্যাচার করছে।  

মঙ্গলবার খুলনায় ভোট শুরুর আড়াই ঘণ্টার মাথায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৪০টি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

এর জবাবে নানক বলেন, নয়াপল্টনের স্থায়ী বাসিন্দা রিজভী। আজ সকাল থেকেই এবং তার আগে থেকেই একই কায়দায় তিনি এ ভোটগ্রহণের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। খুলনার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গণমাধ্যমের সামনে নানা গুজব রটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যেখানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে, সেখানে শুরু থেকেই বিএনপি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তেও তারা সেটি অক্ষুণ্ণ রেখেছে। এটা তাদের জন্মগত অভ্যাস। তবে তাদের এই অপচেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলেই আশা করছে আওয়ামী লীগ। একদিকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুরি-ভুরি অভিযোগ আনা, অন্যদিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ তাদের স্ববিরোধী কাজ।

নানক আরও বলেন, খুলনার জনগণ যে স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন, গণমাধ্যমই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। সব গণমাধ্যম বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি সম্প্রচার করছে। দিনশেষে খুলনার জনগণ মেয়র পদে নৌকা মার্কায় তালুকদার আবদুল খালেককে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সকাল থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা ধানমণ্ডি কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। খুলনার নেতাদের কাছ থেকে ভোটগ্রহণের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন তারা। একই সঙ্গে খুলনার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে নানা নির্দেশনাও পাঠান তারা।

দিনভর সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আবদুর রহমান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জনগণ স্বাধীনতার চেতনার পক্ষে ভোট দেবে: তোফায়েল


আরও খবর

রাজনীতি

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ- ফাইল ছবি

  ভোলা প্রতিনিধি

জনগণ স্বাধীনতার চেতনার পক্ষে ভোট দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

মঙ্গলবার ভেলুয়ার পথসভায় বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন অংশ গ্রহণমূলক হতে চলেছে। 

এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ বিজয়ী হবে নাকি স্বাধীনতাবিরোধীরা বিজয়ী হবে। 

আমরা আশা করি, বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধের পক্ষে ভোট দেবে। 

এ সময় ডা. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। আজ নীতি পরিবর্তন করে তার দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়েছে। লজ্জা লাগে ধানের শীষ জামায়াতের প্রতীক এবং ড. কামাল হোসেনেরও প্রতীক।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুস সালাম মাস্টারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি লিটন মাল প্রমুখ। 

পরে তোফায়েল আহমেদ ভেদুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত ব্যাংকেরহাট হাই স্কুল মাঠে পথসভায় বক্তব্য দেন। আগে থেকেই একাট্টা ভোলার আওয়ামী লীগ নৌকার বিজয়ে কাজ করে যাচ্ছে। 

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ওয়ার্ড পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। 

গত সোমবার বিকেলে আলী নগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে তোফায়েল আহমেদ আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন। দুই দিনের প্রচারে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন ভোলা-১ আসনের নৌকার প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এবারের নির্বাচন খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন: মওদুদ


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা মামলায় সরকার তাকে কারাগারে আটকে রেখেছে। কারাগারে তাকে দেখতে গিয়েছি। তার শরীর খুব খারাপ। এবারে নির্বাচন খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন। ধানের শীষের একটি ভোট মানেই খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সুগম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজের সামনে নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, কবিরহাট উপজেলায় তাকে পথসভা করতে দেওয়া হয়নি। ওই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটনসহ অনেক নেতাকর্মী ও নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জেও নির্বাচনী পথসভায় তারা বাধা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি তো বিনা ভোটে এমপি, বিনা ভোটে মন্ত্রী। সোমবার এখানে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে গেছেন। আমি নাকি এই এলাকায় কোনো উন্নয়ন করিনি।

মওদুদ আহমদ দাবি করেন, তার সময়ে এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওবায়দুল কাদের প্রটোকল নিয়ে, পুলিশ বহর নিয়ে এলাকায় এসে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু তাতে রক্ষা হবে না। ধানের শীষের ভারে নৌকা ডুবে যাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসনা জসীমউদ্‌দীন মওদুদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি আবদুল হাই সেলিম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

এদিকে, বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে মওদুদ আহমদের।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবারও আ'লীগের বিজয় হবে: নাসিম


আরও খবর

রাজনীতি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম- ফাইল ছবি

  সিরাজগঞ্জ ও তাড়াশ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, এবারের নির্বাচনেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের অবিস্মরণীয় বিজয় হবে। এ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। 

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। 

মঙ্গলবার বিকেলে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 

পরে তিনি তাড়াশের নিমগাছি ও রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। এর মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হলো। 

এর আগে দিনের শুরুতে নাসিম তার নির্বাচনী এলাকা বহুলীতে আয়শা-রশিদ বিদ্যানিকেতনে ছাত্র-অভিভাবক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মোহাম্মদ নাসিম ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পতাকাবিহীন গাড়ি নিয়ে প্রচারে অংশ নেন।

তাড়াশের জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হক। এতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতা সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ূয়া, জেপি (মঞ্জু) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, সংসদ সদস্য গাজী আমজাদ হোসেন মিলন, জেলা আওয়ামী লীগের সহভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য ও নির্বাচনের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। 

জনসভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার।

নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত শুরু হয়েছে মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। ড. কামাল হোসেন জনগণের সঙ্গে ঐক্য না করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিয়ে ঐক্য করেছেন। এখন চক্রান্ত করছেন। তবে এ দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবে। পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই নির্বাচন ঠেকাতে পারে। জ্বালাও-পোড়াও ও আন্দোলনে ব্যর্থ দলকে আর কোনো দিন জনগণ ভোট দেবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা গত নির্বাচনে আসেন নাই। ভুল করেছিলেন। এবার দলের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সুখের কথা। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কোনো ফাউল গেম খেলবেন না। ফাউল গেম খেললে এ দেশের জনগণ লাল কার্ড দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে বের করে দেবে।'

সংশ্লিষ্ট খবর