রাজনীতি

খুলনার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে বিএনপিকে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

খুলনার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে হবে বিএনপিকে: ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি

   সমকাল প্রতিবেদক

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সামনে তাদের জন্য আরও বড় বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলাকালে রাত সাড়ে ৮টায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সে সময় পর্যন্ত পাওয়া সিংহভাগ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর তুলনায় অনেক ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়েছে।

এর আগে দুপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালে একই স্থানে আরেক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটাররা সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। ভোটের যে গতিপ্রকৃতি, তা দেখে মনে হয়- বিএনপি তাদের মেয়রপ্রার্থীর পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে এবং সেই পরাজয়কে ঢাকার জন্য এখনই মিথ্যাচার করছে।  

মঙ্গলবার খুলনায় ভোট শুরুর আড়াই ঘণ্টার মাথায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৪০টি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

এর জবাবে নানক বলেন, নয়াপল্টনের স্থায়ী বাসিন্দা রিজভী। আজ সকাল থেকেই এবং তার আগে থেকেই একই কায়দায় তিনি এ ভোটগ্রহণের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। খুলনার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গণমাধ্যমের সামনে নানা গুজব রটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যেখানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে, সেখানে শুরু থেকেই বিএনপি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তেও তারা সেটি অক্ষুণ্ণ রেখেছে। এটা তাদের জন্মগত অভ্যাস। তবে তাদের এই অপচেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে বলেই আশা করছে আওয়ামী লীগ। একদিকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুরি-ভুরি অভিযোগ আনা, অন্যদিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ তাদের স্ববিরোধী কাজ।

নানক আরও বলেন, খুলনার জনগণ যে স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন, গণমাধ্যমই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। সব গণমাধ্যম বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি সম্প্রচার করছে। দিনশেষে খুলনার জনগণ মেয়র পদে নৌকা মার্কায় তালুকদার আবদুল খালেককে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সকাল থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা ধানমণ্ডি কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। খুলনার নেতাদের কাছ থেকে ভোটগ্রহণের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন তারা। একই সঙ্গে খুলনার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে নানা নির্দেশনাও পাঠান তারা।

দিনভর সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আবদুর রহমান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব


আরও খবর

রাজনীতি
একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

এ মাসেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  লোটন একরাম ও কামরুল হাসান

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম ও কয়েকটি বাম দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে চলেছে বিএনপি। তবে এ জোটে কোনো একক শীর্ষ নেতৃত্ব থাকছে না, এটি পরিচালিত হবে যৌথ নেতৃত্বে। একক নেতৃত্বের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছেন বিএনপি ও বৃহত্তর ঐক্য গঠনে উদ্যোগী নেতারা।

জোট গঠনে সক্রিয় নেতারা জানাচ্ছেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতো এবারের আন্দোলনও দলগত ও জোটগত নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন- কেউই এককভাবে শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো পদে থাকছেন না। তবে যে কোনো সভা-সমাবেশে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী প্রধান অতিথি ও সভাপতিত্ব করবেন তারা। এরই মধ্যে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের মধ্যে সৃষ্ট টানাপড়েনও খানিকটা কমে এসেছে। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা গতকাল সন্ধ্যায় ড. কামালকে টেলিফোন করে জানিয়েছেন, আগামীকাল শনিবারের ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে যোগ দেবেন।

এ বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনও গতকাল বৃহস্পতিবার সমকালকে বলেন, তিনি কখনও একক নেতৃত্বে বিশ্বাসী নন। তা ছাড়া বৃহত্তর জোটে একক নেতৃত্বের প্রয়োজনও নেই। এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে কোনো টানাপড়েন নেই দাবি করে ড. কামাল বলেন, তিনি (বি. চৌধুরী) অসুস্থতার কারণে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেননি। তিনি (বি. চৌধুরী) আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে টেলিফোন করে শনিবারের সমাবেশে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় একক নেতৃত্বের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। তা ছাড়া একক নেতৃত্বের প্রয়োজনও নেই। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে দল ও জোটগতভাবে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন নেতারা।

একই মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও। গতকাল তিনি সমকালকে বলেন, বৃহত্তর ঐক্য জোটে একক নেতৃত্বের কোনো সুযোগ নেই। অতীতেও জোটভিত্তিক আন্দোলনে একক নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়নি। এরশাদবিরোধী আট দল, সাত দল, পাঁচ দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব গতকাল সমকালকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে তারা একত্র হয়েছেন। এখন তারা কর্মসূচির ভিত্তিতে অন্যান্য দলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছেন। একক নেতৃত্বের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শনিবারের সমাবেশের পর নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সমকালকে বলেন, যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমেই আপাতত জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হচ্ছে। বিএনপি কার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য গড়তে চায় বা না চায়, সেটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়। তাদের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন রয়েছেন। শনিবারের নাগরিক সমাবেশে তারা যোগ দেবেন। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুশাসনের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। হয়তো এ মাসেই তা চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

জোটের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে কারারুদ্ধ থাকায় তার অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে বৃহত্তর ঐক্যের শীর্ষ নেতা করা হবে না। যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হবে ঐক্যজোট। বিশেষ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বৃহত্তর ঐক্যজোটে থাকলে সেখানে অন্য কাউকে শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সম্প্রতি খুলনায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশেও বি চৌধুরীকে প্রধান অতিথি এবং ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অসুস্থতার কারণে বদরুদ্দোজা চৌধুরী খুলনায় যেতে পারেননি।

সূত্র মতে, ভবিষ্যতেও প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বি চৌধুরী ঐক্য জোটে থাকলে তাকেই যথাযথ সম্মানের সঙ্গে রাখা হবে। ড. কামালকে তার উপরে কোনো পদে বসানো হবে না। একইসঙ্গে বিএনপির মতো বড় দলের বাইরে ছোট দলের কাউকে জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের পদ দেওয়ার ব্যাপারটি মানতে রাজি নন দলটির অনেক নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন হলে একটি 'স্টিয়ারিং কমিটি' গঠন করা হবে। ওই কমিটি বিভিন্ন ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেবে। একইসঙ্গে দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে একজন সিনিয়র নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে।

আগামী একাদশ সংসদ তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা ও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে চলেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দল। এই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে বা একই প্ল্যাটফর্মে বিএনপি, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্টে থাকা বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য এবং বাম গণতান্ত্রিক ধারার পৃথক চারটি দল ছাড়াও আট দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার হবে নাগরিক সমাবেশ। রাজধানীতে সরকারবিরোধী এসব রাজনৈতিক দলের এটাই প্রথম কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে সফল করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। পোস্টার আর লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিও করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।

এ পরিস্থিতিতেও সংশয় প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণার স্পিরিট হয়তো তাদের প্রথম সমাবেশে প্রতিফলিত হবে না। ড. কামাল হোসেনের ডাক দেওয়া এই সমাবেশে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও বাম জোটের নেতারা অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি সীমিত পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তবে সব কিছু মিলিয়ে সমাবেশ সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন নেতারা।

সূত্র জানাচ্ছে, বিএনপি বাম জোট নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের পর বৈঠক করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী নেতারা আলোচনা করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করছেন। এর মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অন্যতম। তিনি যুক্তফ্রন্টের তিন রাজনৈতিক দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের নেতাদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করছেন। গতকাল দুপুরে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসভবনে বৈঠক করেছেন আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না। এ বৈঠকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শনিবারের সমাবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্র ও লন্ডন থেকে ফেরার পর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দু'দিন বৈঠক করেছেন। গত বুধবার ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম নেতা জোনায়েদ সাকি। এসব বৈঠক থেকে শুধু সমাবেশ সফল করার জন্য নয়, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে নিশ্চিত করতে একমত পোষণ করেছেন নেতারা। একই সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যসহ নানাবিধ লক্ষ্য নিয়েও তারা ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ সরকারবিরোধী শিবিরে থাকা বাম প্রগতিশীল ঘরানার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদেরও ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সমাবেশ থেকে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে অভিন্ন দাবি ঘোষণারও কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ড. কামাল হোসেন এ ঘোষণা দেবেন।

অবশ্য শনিবারের সমাবেশ থেকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে না। তবে চলতি মাসের মধ্যেই ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন নেতারা। অভিন্ন ইস্যুতে অক্টোবরের শুরুতে যুগপৎ আন্দোলন এবং মাঝামাঝিতে একই মঞ্চ থেকে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাবেশের বিষয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন বলেন, ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশে লোক সমাগমের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনও সমাবেশের জায়গা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। অনেকে এখনও মনে করছেন তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আয়োজন করেছেন। ছোট রাজনৈতিক দলের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব অকপটে স্বীকার করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য ড. কামাল হোসেন সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন তাদের এই সমাবেশ রাজনৈতিক ঐক্যপ্রচেষ্টা নয়, এটা সামাজিক ঐক্য প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ


আরও খবর

রাজনীতি
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অমরেশ রায়

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ) বা জাতীয় জোট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। ৩২টি দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের পক্ষে ৫৭ প্রার্থীর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমাও দেওয়া হয়েছে। তবে 'প্রধানমন্ত্রীর সুবিবেচনা' ও যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে কমপক্ষে ২৫টি আসনে ছাড় পাবে বলে আশা করছে জোটটি।

এই জোটের প্রধান নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তৃণমূল বিএনপি ছাড়াও এ জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। বেশ কিছুদিন থেকেই জোটটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের 'সহযোগী জোট' হিসেবে কাজ করে আসছে। এর আগে থেকে তারা ১৪ দলীয় জোটে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে এলেও ক্ষমতাসীন জোটটির বর্তমান শরিক দলগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে সম্ভব হয়নি। আদর্শগত অমিল থাকায় তাদের সঙ্গে জোট শরিক হিসেবে কাজ করতে আপত্তি রয়েছে ১৪ দল শরিকদের। তবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট হিসেবে মহাজোটে বিএনএকে যুক্ত করা হলে আপত্তি নেই তাদের। এ অবস্থায় গত ১৮ জুলাই তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান নাজমুল হুদাসহ নয়টি দলের নেতারা (যাদের বেশিরভাগ দল বিএনএ জোটেও আছে) ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান।

বিএনপি ছেড়ে ২০১২ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ২০১৩ সালে বিএনএফ ছেড়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) নামে আরেকটি দল গঠন করেন। পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আরও ২৯টি দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনএ জোট গঠন করেন তিনি। নভেম্বরে তৃণমূল বিএনপি গঠন করে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এর চেয়ারম্যান হন। পরে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র হামিদুর রেজা খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল ন্যাপ (ভাসানী) এই জোটে যুক্ত হলে জোটের মোট দলসংখ্যা দাঁড়ায় ৩২টি।

এ ব্যাপারে বিএনএ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সমকালকে বলেন, বিএনএ জোট হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক প্রকৃত জাতীয়তাবাদী জোট, যাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে সাম্প্রদায়িকতাকে সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করে সুস্থ রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চান তারা।

যেসব আসনে সমঝোতা চায় বিএনএ: প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী বিএনএ ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঢাকা-১ ও ঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়ন চেয়েছেন।

একইভাবে বিএনএর কো-চেয়ারম্যান ও বিএলডিপির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ যশোর-৪; মহাসচিব ও বাংলাদেশ জাগো বাঙালির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমান খুলনা-৩ ও খুলনা-৪; সাংগঠনিক সম্পাদক ও তৃণমূল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আক্কাস আলী খান মুন্সীগঞ্জ-১; সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কুমিল্লা-২; খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক ও বিএলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোল্লা মুজিবুর রহমান খুলনা-৩ এবং রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক ও রাজশাহী মহানগর বিএলডিপির আহ্বায়ক অধ্যাপক সরদার সিরাজুল করিম (এবল) রাজশাহী-৪ আসনে নির্বাচন করতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন চাইছেন।

এই জোটের অন্যতম প্রধান শরিক তৃণমূল বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরও মনোনয়ন চাইছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম রাজবাড়ী-১; মহাসচিব ব্যারিস্টার আকবর আমীন বাবুল কুমিল্লা-৩; সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আরিফ মাঈন উদ্দিন চট্টগ্রাম-৯; জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন মানিকগঞ্জ-২; সাবেক সংসদ সদস্য মজহারুল হক শাহ চৌধুরী চট্টগ্রাম-২; ড. জাভেদ সালেহ উদ্দিন ফরিদপুর-১; ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কে এ জাহাঙ্গীর মাজমাদার ঝিনাইদহ-১; আবেদ আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২; চলচ্চিত্রাভিনেতা আহম্মেদ শরীফ কুষ্টিয়া-৩; এল কে চৌধুরী লক্ষ্মীপুর-২; অধ্যাপক শাহজাহান সাজু ফেনী-২; অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম ঢাকা-১৯; যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দিন ছিদ্দিকী (মুন্না শাহ) চট্টগ্রাম-৯; জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এম খালেক কুষ্টিয়া-১; চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক হাসান সিকদার চট্টগ্রাম-৮; চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলু অথবা অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম মাসুদ চট্টগ্রাম-৫ আসন এবং ডা. শাহনাজ আলম চট্টগ্রাম-১ আসন।

আরেক শরিক বিএলডিপির কো-চেয়ারম্যান সোহরাব উদ্দিন ঢাকা-৪; মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খান নরসিংদী-২; উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য আক্তার উজ জামান বাবুল ফরিদপুর-৪; সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি চুয়াডাঙ্গা-১; প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাধীন রাজশাহী-৩; মীর মহি উদ্দিন আলমগীর নওগাঁ-৬; টিপু সুলতান বগুড়া-৫; ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুন সেলিম আর রশিদ (মায়া রাজ) লালমনিরহাট-২; যুগ্ম মহাসচিব শাহ মোহম্মদ মাশরেকুল হারুন (জুয়েল) দিনাজপুর-৬; অতিরিক্ত মহাসচিব এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম কুষ্টিয়া-৩; সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমিরুল ইসলাম মনা কুষ্টিয়া-২; বগুড়া জেলা সভাপতি আইয়ুব আলী বগুড়া-৩; বাগেরহাট জেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন বাগেরহাট-৩; রাজশাহী জেলা সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান রাজশাহী-৫; মোহাম্মদ আবদুল হান্নান রাজশাহী-১; কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ মোরশেদ ময়মনসিংহ-১০; এ কে এম মহিউদ্দিন আযম তালুকদার চট্টগ্রাম-২; খলিলুর রহমান বগুড়া-৬ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইসমাত জেরিন খান পাবনা-২ আসন।

এছাড়া এই জোটের পক্ষে প্রগতিশীল ন্যাপের (ভাসানী) চেয়ারম্যান হামিদুর রেজা খান ভাসানী (পরশ ভাসানী) টাঙ্গাইলের একটি; কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বরিশাল-৩, চাঁদপুর-৪ ও চাঁদপুর-৫; বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্টের চেয়ারম্যান দিলীপ দাশ গুপ্ত ঢাকা-৬; বাংলাদেশ গণজাগরণ পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম হায়দার লালমনিরহাট-২; সম্মিলিত নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ম্যানুয়েল সরকার গাজীপুর-৫; বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টির (বিএমপি) চেয়ারম্যান ডা. আফরোজা বেগম হ্যাপি মুন্সীগঞ্জ-১; দেশরক্ষা আন্দোলনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ওয়ারেসুল হাসান টাঙ্গাইল-৪; বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার পটুয়াখালী-৩; আবদুল মান্নান চৌধুরী কুমিল্লা-১৪; জাতীয় গণতান্ত্রিক দলের (জাগোদল) চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান খান চৌধুরী (লিটন খান চৌধুরী) কুষ্টিয়া-৪; বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ সিকদার ঢাকা-১৮ এবং কৃষক শ্রমিক পার্টির (কেএসপি) চেয়ারম্যান সালাম মাহমুদ পিরোজপুর-১ ও মহাসচিব ড. মোজাহেদুল ইসলাম মুজাহিদের জন্য বাগেরহাট-৩ আসন চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিএনপির কথা-কাজে জনগণের আস্থা নেই: হানিফ


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অপকর্মের কারণেই জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিএনপির কোনো কথা বা কাজের ওপর জনগণের এখন কোনো আস্থা নেই। বিএনপিও জানে, তাদের আন্দোলনের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে ঢাকা মহানগর উওর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হানিফ আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। বিএনপিকে অনুরোধ করবো, জনগণের সঙ্গে অনেক ধোঁকাবাজি, মিথ্যাচার ও ভাওতাবাজি করেছেন- এগুলো বন্ধ করুন। 

তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দু'টি পথ খোলা রয়েছে। একটি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি, আরেকটি নিজের অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো পথ নেই।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হানিফ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দেশের এমন কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তি নেই যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারে। তাই আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে আবারো জয়ী করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব- এটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহর সভাপত্বিতে বর্ধিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- শেখ বজলুর রহমান, নাজিমুদ্দিন, এস এম মান্নান কচি, এম সাইফুল্লাহ সাইফুল প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর