রাজনীতি

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে: ফখরুল

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ফটো

  সমকাল প্রতিবেদক

সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণে তারা সেটা প্রমাণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণে কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের সমর্থনে পুলিশের হামলায় বিএনপি কর্মীরা দাঁড়াতেই পারেনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চেয়েও বিএনপি কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এই সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই জনগণের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নাহলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। 

তিনি বলেন, খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। জনগণ ও বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন। 

ফখরুল বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপি কর্মীদের কেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়াতে দেয়নি। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাপ ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হয়েছে। পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করছে। 

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুপুরের পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হওয়ার পরপরই সিইসিকে ফোন করি। তাকে জানাই, খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। যখন তাকে সংবাদের উৎস বলেছি তখন সিইসি নুরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। পরে তিনি বলেন, তিনি দেখছেন। এখনও তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনও বলেছেন, দেখছি। তিনি শুধুই 'দেখছেন'। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

এখনও মেলেনি অনুমতি


আরও খবর

রাজনীতি

ঐক্যফ্রন্টের সিলেট সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা

এখনও মেলেনি অনুমতি

প্রশাসনকে উকিল নোটিশ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক, ঢাকা ও সিলেট ব্যুরো

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেটে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও তারা ২৩ অক্টোবরের পরিবর্তে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে। তবে এখনও অনুমতি মেলেনি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ২৩ অক্টোবরে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত। তবে ২৪ অক্টোবর করতে পারবে কি-না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, সমাবেশের অনুমতি না পেলেও তারা সিলেট যাবেন। সমাবেশের অনুমতি কেন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে গতকাল শনিবার উকিল নোটিশও পাঠানো হয়েছে সিলেটের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

বিগত সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম কর্মসূচি। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি রাজধানীতে একই দিনে কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩০ সেপ্টেম্বর সমাবেশের অনুমতি পায়।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল  ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বিঘ্নেই সভা-সমাবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী জোটের সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা। তাদের মতে, নিরাপত্তার কারণে সমাবেশ আয়োজনের কোনো বিষয় থাকলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্টভাবে আয়োজকদের অবহিত করা উচিত। অন্যথায় দেশের চলমান নির্বাচনী আবহ বিনষ্ট হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। ইসির পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যকেও তার দায়সারাগোছের বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সমকালকে জানিয়েছেন, কী কারণে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে গতকাল সন্ধ্যায় উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জবাব পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি লড়াইয়ে নামবেন বলে জানান।

এর আগে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সিলেটে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও আয়োজকরা অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সময় পাল্টিয়ে আবেদন জানান। সিলেট বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন আবেদনে আগামী বুধবার ২৪ অক্টোবর নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশের জন্য প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদনের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সিলেটের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদকে জানিয়ে দেন, ২৪ অক্টোবরও নিরাপত্তার কারণে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। সমকালের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ সমকালকে জানান, ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের জন্য সমাবেশের আবেদন তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে এখনও তারা সিদ্ধান্ত নেননি। সিদ্ধান্তের বিষয়টি আবেদনকারীকে পরে জানানো হবে। পরিতোষ ঘোষ জানান, কোতোয়ালি থানার ওসিকে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সিলেট জেলা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম সমকালকে বলেন, মাজার জিয়ারতের যে কর্মসূচি ছিল, তা থাকবে। সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ওপরের নির্দেশের কথা বলা হয়েছে।

তবে ওই দিন সমাবেশ করতে না পারলেও সিলেটে বড় ধরনের গণজমায়েতের ইঙ্গিত দিয়ে কাহের চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে আসার দিনও কোনো সমাবেশ ছিল না। কিন্তু সেদিন লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে রাস্তায় নামতেই পারে।

এদিকে, বিরোধী জোটের নির্বিঘ্নে সমাবেশ করতে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম গতকাল সমকালকে বলেন, সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া বা বাতিলের বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এটা পুরোপুরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে জড়িত। সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক বিষয় এবং আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয়। রাজনীতি বা আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয় ইসির দেখার কথা নয়। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশ দেখার বিষয়টি ইসির ঘাড়ে বর্তাবে। কিন্তু নির্বাচনী সমাবেশ ছাড়া অন্য কোনো দাবি বা ইস্যুতে কেউ কোনো সমাবেশ করতে চাইলে সেটা নিশ্চিত করার দায় ইসির নয়।

তবে ইসির এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, 'দেশে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কি-না, সেটা দেখার বিষয় অবশ্যই ইসির। কমিশন সদস্যদের ভুলে গেলে চলবে না যে তারা সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। পদের মর্যাদা রক্ষা না করে তারা সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার মতো কাজ করছেন। তারা যে কেরানি নন, এটা তাদের মনে রাখতে হবে। '

সৈয়দ আবুল মকসুদ আরও বলেন, সরকারের শরিক দল ও জোটের সবাই সভা-সমাবেশের সুযোগ পেলেও বিরোধীদলীয় জোটকে সমাবেশের সুযোগ না দেওয়ায় সরকারেরই ক্ষতি হচ্ছে। গত আট-দশ বছরে বিরোধী জোটের সভা-সমাবেশে নাশকতার কোনো নজির নেই। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে উন্নয়ন সহযোগীরা নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণে হতাশ হয়ে পড়বেন। এতে বিরোধী দলের নির্দলীয় সরকারের দাবির যৌক্তিকতাও জোরালো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে সভা-সমাবেশের বিষয়ে পুরোপুরি দায়-দায়িত্ব ইসির ওপর বর্তাবে। সেখানে নির্বাচনী সমাবেশ হতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। কারণ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসির দায় রয়েছে।

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সিলেটের সমাবেশের আয়োজকদের কারও কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলার কথা বলা হয়েছে। সেসব কারণে যদি সমাবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়; তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্নিষ্টদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া উচিত। এখানে লুকোচুরির কোনো বিষয় নেই। তবে সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, তা স্বচ্ছ হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, প্রশাসনের এই আচরণ নির্বাচনীকালীন নিরপেক্ষ সরকার-সংক্রান্ত বিরোধী দলের দাবির যৌক্তিকতাকেই জোরালো করছে। কেননা আয়োজকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা দেশের আইন-আদালতে ফয়সালা হবে। মামলার অজুহাতে কারও সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার আটকে দেওয়ার সুযোগ নেই। সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো নিরাপত্তার ইস্যু থাকলে তাও দূর করতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই।

গণজমায়েত করতে চায় বিএনপি :সিলেট ব্যুরো জানায়, সমাবেশের অনুমতি না পেলেও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের আগামী বুধবার সিলেটে আসার কথা। এই সফরে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর কবর জিয়ারতের কথা রয়েছে। গত শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু জানিয়েছিলেন, অনুমতি না পেলেও ২৪ অক্টোবর সিলেট সফরে যাবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এই সফরে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেট নগরীতে সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা দেন তিনি।

গত ১৬ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম বৈঠক শেষে ২৩ অক্টোবর সিলেট সফর ও সমাবেশ দিয়ে ফ্রন্টের যাত্রা শুরুর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই দিন সমাবেশের অনুমতি না মেলায় ২৪ অক্টোবর বুধবার সমাবেশ করার লক্ষ্যে শুক্রবার রাতেই জেলা বিএনপির এক নেতার বাসায় বৈঠক করেন স্থানীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। গতকাল শনিবার সকালে সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতারা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। মহানগর পুলিশ কমিশনার অফিসে না থাকায় বিএনপির নেতারা গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিএনপির এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল গাফফার।

মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা :এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেট সফর সামনে রেখে শুক্রবার রাতে মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকির সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেকের পরিচালনায় সভায় ২৪ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে আজ রোববার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো পতাকা মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ ছাড়া সভায় আগামী ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে 'ফরমায়েসি' রায় প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জনগণের ঐক্য ব্যর্থ হয় না


আরও খবর

রাজনীতি

বিশেষ সাক্ষাৎকার: ড. কামাল হোসেন

জনগণের ঐক্য ব্যর্থ হয় না

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  লোটন একরাম

দেশ ও গণতন্ত্রের প্রয়োজনে জনগণের ঐক্য কখনও ব্যর্থ হয় না- এ অভিমত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। তার দৃঢ় আশাবাদ, এবারও গণতন্ত্রের স্বার্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জনগণের যে ঐক্য হয়েছে, তা সফল হবে। ক্ষমতাসীনদের এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, এ ঐক্য কোনো দলের নয়, আপামর জনগণের। ঐক্যফ্রন্টকে সিলেটে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দলকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে, কাউকে দেওয়া হবে না- এটা অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য প্রমাণ করে, সরকার নির্বিঘ্নে মাজার জিয়ারতের নিশ্চয়তা দিতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি জানান, সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। লিখিত জবাব পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাবেন। অন্যদিকে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকালের মহাসমাবেশে যে সংশয় প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল শনিবার মতিঝিল চেম্বারে সমকালকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন, আন্দোলনের কর্মসূচি, ঐক্যের ভবিষ্যৎসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই কথা বলেন তিনি। কিছু স্পর্শকাতর প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেও সময় হলে সেসব প্রশ্নেরও উত্তর দেবেন বলে জানান তিনি।

নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট' গঠন এবং এর সাফল্যের ব্যাপারে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই ঐক্য জনগণের ঐক্য, কোনো দলের নয়। তারা শুধু উদ্যোক্তা হিসেবে আছেন। ঐক্যের ব্যাপারে সারাদেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এরই মধ্যে এটি জনগণের ঐক্য হয়ে গেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দাবি হচ্ছে- সবার অংশগ্রহণে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সারাদেশের মানুষও এটা চায়। বিগত নির্বাচনের মতো আবারও ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার মতো একতরফা নির্বাচন তারা চায় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জনগণের ঐক্য কখনও ব্যর্থ হয় না। এবারের ঐক্যও যে সফল হবে, সে ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট' গঠনের নামে দেশে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে সরকারপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, এমন মন্তব্য দুঃখজনক। তারা সবকিছুর মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখেন। কথায় কথায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। গণতন্ত্রকে ইতিবাচক হিসেবে এগিয়ে নিতেই এ ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে। আশা করব, তারা ভেবেচিন্তে কথা বলবেন।

ড. কামাল বলেন, ২০০৭ সালে মামলা করে এক লাখ ৪০ হাজার ভুয়া ভোটার বাতিল করেছেন তিনি। সর্বোপরি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে সরাতে ভূমিকা রেখেছেন। এতে দেশদ্রোহ মামলার আসামিও হয়েছেন তিনি। আগামী নির্বাচন নিয়ে নীলনকশা আছে বলেই সরকার জনগণের এ ঐক্যের সমালোচনা করছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন করতে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সবার সঙ্গে আলোচনা করে আরেকটি নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ কথার বরখেলাপ করে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে শুনানির সময় তিনি অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে সরকারি দলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দেন। ওই সময় আদালত বলেছিলেন, সরকারি দল সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে। অথচ আদালতের এ ধরনের বক্তব্যের পরও সরকার নির্লজ্জভাবে পাঁচ বছর ক্ষমতা ধরে রেখেছে।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ এ বক্তব্যের বিষয়টি কেন তিনি এত দিন সামনে আনেননি- তা জানতে চাইলে বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, এটা আমার ব্যর্থতা। বিষয়টি নিয়ে পরে আবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত ছিল। ওয়ান-ইলেভেনের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের অভিযোগ তুলে ন্যাপ ও এনডিপির বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়। ওয়ান-ইলেভেনের সঙ্গে যুক্ত কেউ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নেই।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঐক্যফ্রন্টের কয়েকটি সভায় উপস্থিত থাকায় এ অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক কি-না- এ প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, তিনি আমাদের সঙ্গে ঠিক ওইভাবে নেই। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের কোনো পদ-পদবিতেও নেই।

নির্বাচন সামনে রেখে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বড় দলগুলোর টানাটানি ও ভাঙাগড়ার খেলা চলছে? যাকে 'ছোট দলের বড় কদর' হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল বলেন, বিষয়টি আমি ওইভাবে দেখছি না। নির্বাচন এলে রাজনৈতিক দলের মধ্যে টানাটানি হবেই। দেখতে হবে মূল লক্ষ্য কী? এখন দেখা যাচ্ছে, সবাই আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দাবিতে একমত। গণতন্ত্রের স্বার্থে লক্ষ্য অর্জনে ছোট-বড় সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি আদায় করতে চায়। কাজেই এ দাবিতে আন্দোলনের শরিক হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্যকে সংবিধানপরিপন্থী আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করার ঘটনায় সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, কীভাবে সংবিধানপরিপন্থী হলো- বিষয়টি তাদের যুক্তি দিয়ে পরিস্কার করে বলতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এ দাবি ও লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতেও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে একটি কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছিল। এমনকি সংবিধান সংশোধন করে বর্তমান সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছিল।

দাবি পূরণ না হলে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না- এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে তারা শেষ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলতে চান না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক বি. চৌধুরী স্বাধীনতাবিরোধী দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ককারীদের নিয়ে জোট না গড়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং নির্বাচনে জোটের দেড়শ' আসন চেয়েছিলেন। বর্তমানেও ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো প্রায় ১০০ আসন বিএনপির কাছে দাবি করবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে বিকল্পধারাসহ দেড়শ' আসন চাওয়া 'অমূলক' কোথায়? এ সম্পর্কে ঐক্যফ্রন্টের এ শীর্ষ নেতা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বি. চৌধুরীর পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে অভিযোগ তোলা হয়েছে- তা খুবই দুঃখজনক। সবাইকে জানিয়েই বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি 'অজুহাত' দেখিয়ে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর অভিমান করে আমার বাসার সামনে থেকে চলে যাওয়া উচিত হয়নি। ঐক্যের ব্যাপারে আন্তরিক থাকলে এবং আলোচনায় বসলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যেত। এখনও তিনি (বি. চৌধুরী) যদি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন- আমরা খুশি হব। তিনি একজন সম্মানিত মানুষ, আমরা তাকে স্বাগত জানাব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যত প্রধান নেতা কে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যৌথ নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট পরিচালিত হচ্ছে। আন্দোলনও চলবে যৌথ নেতৃত্বে। জোটের প্রধান নেতার পদটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য খালি রাখা হচ্ছে কি-না- এমন প্রশ্নে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, জোটের কোনো শীর্ষ নেতা নেই। এমনকি শীর্ষ নেতার পদ কারও জন্য খালিও রাখা হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের যৌথ নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি পালিত হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এলে এবং বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- এ প্রশ্নের জবাবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় গণতন্ত্রের পদ্ধতির রীতি অনুযায়ী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে থাকেন। আগামীতে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

সিলেটে জনসভার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে ড. কামাল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। সে অধিকারবলে শনিবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি মহাসমাবেশ হয়েছে। তার কয়েকদিন আগেও বড় একটি দল সেখানে বিশাল জনসভা করেছে। আর ক্ষমতাসীন দলও সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর মাত্র ১০-১২ দিনের মধ্যে কারও দাবি-দাওয়া নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করার প্রয়োজন ও সময় নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, তার এ বক্তব্যে প্রমাণ হয় তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তরিক নন। সরকারি দলের একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে এ ধরনের বক্তব্যে তারা অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন। টালমাটাল পরিস্থিতিতেও '৭০-এর নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছিলেন, সেগুলো পড়ে নেওয়ার জন্য ওবায়দুল কাদেরের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

নির্বাচন হওয়া নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শঙ্কার বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, তার বক্তব্যে আমরাও উদ্বিগ্ন। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাসী আমরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জামায়াত এখন ড. কামালের গলার মালা: নাসিম


আরও খবর

রাজনীতি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম -ফাইল ছবি

   সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ড. কামাল হোসেন নীতিহীন লোক। নীতি-আদর্শের কথা বলে তিনি এখন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। অপছন্দের জামায়াতে ইসলামী এখন তার গলার মালা। জনগণ এ রকম আদর্শহীন ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

শনিবার নাসিম তার নির্বাচনী এলাকা কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের রতনকান্দিতে আয়োজিত পৃথক দুটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর ও একাডেমিক ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে এ দুটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নীতিভ্রষ্ট ও আদর্শহীন ড. কামালকে ভাড়া করেছেন। তিনি নিজে কোনোদিন ভোটে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর কৃপায় একবার এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি এখন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র করছেন। তবে দেশে আর কোনো দিন হাওয়া ভবনের শাসন ফিরে আসবে না।

দুপুরে কাজীপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল কাদের। বিকেলে রতনকান্দি ইউনিয়নের কেসিআর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী। এ সময় বক্তব্য দেন শহীদ এম মনসুর আলী বেসরকারি মেডিকেল পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানু বিথী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবদুস সোবহান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য, কৃষক লীগ নেতা আবদুল লতিফ তারিন, মনসুর আলী কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজাউল করিম রাঙা, কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী, আলমগীর কবির প্রমুখ।

সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সামনে নির্বাচনকে ঘিরে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে ঐক্য না করে ড. কামাল গং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন, চক্রান্ত করেছেন। কিন্তু এ দেশের জনগণ তাদের চক্রান্ত ভোটের মাধ্যমে প্রতিহত করবে। পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই নির্বাচন ঠেকাতে পারে।

তিনি বলেন, জ্বালাও-পোড়াও ও আন্দোলনের ব্যর্থ দলকে আর কোনোদিন জনগণ ভোট দেবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে এবং নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়ে ভোট হবে। নির্বাচনের নামে কোনো ফাউল গেম দেখতে চাই না।

সংশ্লিষ্ট খবর