রাজনীতি

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে: ফখরুল

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ফটো

  সমকাল প্রতিবেদক

সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণে তারা সেটা প্রমাণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণে কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের সমর্থনে পুলিশের হামলায় বিএনপি কর্মীরা দাঁড়াতেই পারেনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চেয়েও বিএনপি কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এই সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই জনগণের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নাহলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। 

তিনি বলেন, খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। জনগণ ও বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন। 

ফখরুল বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপি কর্মীদের কেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়াতে দেয়নি। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাপ ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হয়েছে। পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করছে। 

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুপুরের পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হওয়ার পরপরই সিইসিকে ফোন করি। তাকে জানাই, খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। যখন তাকে সংবাদের উৎস বলেছি তখন সিইসি নুরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। পরে তিনি বলেন, তিনি দেখছেন। এখনও তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনও বলেছেন, দেখছি। তিনি শুধুই 'দেখছেন'। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জনগণকে সেবা করতে পারলেই খুশি : আইনমন্ত্রী


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তিনি জনগণের সেবক এবং জনগণের সেবা করাই তার কাজ। তিনি মনে করেন, সেবার মাধ্যমে জনগণকে খুশি করতে পারলেই তিনি ধন্য।

শুক্রবার রাজধানীর রমনা এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন মিলনয়তনে এক ইফতার মাহফিলে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ কসবাবাসীর সম্মানে আইনমন্ত্রী ইফতারের এই আয়োজন করেন।

কসবাবাসীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, কসবা উপজেলার যদি একটা উন্নয়নও হয়ে থাকে তার অংশীদার আপনারা সকলেই। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যে সহমর্মিতা, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্ব রয়েছে তা অক্ষুণ্ণ রেখে দলমত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়ন করতে হবে। ইফতারের আগে আইনমন্ত্রী ইফতার মাহফিলে আগত অতিথিবৃন্দের সামনে ঘুরে ঘুরে তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। 

এ সময় দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্ত্মি ও অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারে কসবা উপজেলা সমিতি, ঢাকার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সরকারি- বেসরকারি পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

অমীমাংসিত ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা জাতি জানতে চায়: মির্জা ফখরুল


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কী, জাতি তা জানতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গেছেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করেছেন। অত্যন্ত ভালো কথা। তবে জনগণ এও জানতে চায়, বাংলাদেশের সঙ্গে যে সমস্যাগুলো ঝুলে আছে, সেগুলো সম্পর্কে সেখানে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন কি-না? 

রাজধানীর গুলশানে শুক্রবার আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে এ ইফতারের আয়োজন করে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)।

মির্জা ফখরুল বলেন, যেদিন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছিল, তখন তারা বলেছিল, এটা শুধু সময়ের ব্যাপার-তিস্তার পানি চুক্তি করতে পারব। কিন্তু প্রায় নয় বছর হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত তিস্তার এক ফোঁটা পানির ব্যাপারেও চুক্তি হয়নি। 

ফখরুল বলেন, শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন ১৫৮টা নদীর রয়েছে। সেগুলোর পানি বণ্টনের চুক্তি এখনও হয়নি। অথচ সামরিক চুক্তি হচ্ছে, সীমান্তে মানুষ হত্যার বিষয় বাদ দিয়ে ট্রানজিট চুক্তি হচ্ছে এবং বিভিন্ন বন্দর নির্মাণ হচ্ছে। বিএনপিও এসব কানেকটিভিটির পক্ষে। কিন্তু এসবের বিনিময়ে দেশ কী পাচ্ছে, সেটাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। 

নির্বাচন কমিশনের সংশোধনীর বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই ইসি আওয়ামী লীগের দাবির কাছে নতিস্বীকার করে সংসদ সদস্যদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারণায় নামার অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু ইসির এ পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। সংসদ সদস্যদের প্রচারণায় নামতে দেওয়া হলে কিছুতেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে না।

জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে দলের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরোয়ার, আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমদসহ জোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

নির্বাচনের আগে সংসদ ভাঙার দাবি বি. চৌধুরীর


আরও খবর

রাজনীতি

সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া নিরপেক্ষ সরকার ও প্রমাণিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনেরও দাবি করেছেন তিনি।

রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে  শুক্রবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিকল্পধারা আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে এই আহ্বান জানান তিনি। বি. চৌধুরী বলেন, সব বাধা দূর করে আগামী সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে আগে দরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে বাধা থাকলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে না। এ জন্য সংসদ ভেঙে দিতে হবে, যাতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনে ব্যবহার করতে না পারেন।

অনুষ্ঠানে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, তারাও মাদকের বিরুদ্ধে; কিন্তু বিনাবিচারে হত্যার সমর্থক নয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মাদক দমনের নামে বিনাবিচারে যারা হত্যা করেছে, একদিন তাদেরও বিচার হবে। 

ঢাকা মহানগর উত্তর বিকল্পধারার সভাপতি মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর