রাজনীতি

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে: ফখরুল

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮

নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ফাইল ফটো

  সমকাল প্রতিবেদক

সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণে তারা সেটা প্রমাণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণে কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের সমর্থনে পুলিশের হামলায় বিএনপি কর্মীরা দাঁড়াতেই পারেনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চেয়েও বিএনপি কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এই সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই জনগণের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নাহলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। 

তিনি বলেন, খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। জনগণ ও বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন। 

ফখরুল বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপি কর্মীদের কেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়াতে দেয়নি। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাপ ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হয়েছে। পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করছে। 

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুপুরের পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হওয়ার পরপরই সিইসিকে ফোন করি। তাকে জানাই, খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। যখন তাকে সংবাদের উৎস বলেছি তখন সিইসি নুরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। পরে তিনি বলেন, তিনি দেখছেন। এখনও তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনও বলেছেন, দেখছি। তিনি শুধুই 'দেখছেন'। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অস্বস্তিতে বিএনপি


আরও খবর

রাজনীতি

আসছে ভোট :ঢাকা-৫

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অস্বস্তিতে বিএনপি

প্রকাশ : ১৬ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কামরুল হাসান

ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলী আংশিক) আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন অন্তত পাঁচজন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মিসভা, গণসংযোগ এবং দলের সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন তারা।

মনোনয়ন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরোধে বিএনপিতে চরম কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এ আসন থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অবশ্য নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ২০০৮ সালে হাতছাড়া হওয়া এ আসন পুনরুদ্ধারের জন্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে নতুন কাউকে বেছে নিতে পারে বিএনপি।

সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ। এবারও তিনি এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০০১ সালের নির্বাচনে অবিভক্ত ঢাকা-৪ আসন থেকে (বর্তমান ঢাকা-৫ আসনভুক্ত এলাকাসহ) তিনি এমপি নির্বাচিত হন। সাবেক এই এমপির সঙ্গে এবার মনোনয়ন দৌড়ে আছেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবীউল্লাহ নবী ও সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন রতন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের ঘিরে এই আসনে বিএনপির রাজনীতিতে কোন্দল ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইছেন না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি ঘটতে পারে। তাই কোন্দল সামাল দেওয়া না গেলে এ আসনে খালেদা জিয়া নিজেই প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, স্থানীয় নেতাদের কোন্দল ঠেকাতে চেয়ারপারসন প্রার্থী হবেন বলা হচ্ছে।

পুরান ঢাকার প্রাচীন শিল্পনগরী হিসেবে খ্যাত ঢাকা-৫ আসনভুক্ত এলাকা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দূষণ আর জলাবদ্ধতায় জর্জরিত। জলাবদ্ধতার কারণে সুপেয় পানি সংকট নিত্যদিনের। সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আকারে আসনটি ছোট হয়ে এলেও সমস্যার তীব্রতা কমেনি। ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে তৎকালীন এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ নাগরিক সেবাবঞ্চিত এলাকাবাসীর রোষের মুখেও পড়েছেন। আগামী নির্বাচনে এসব সমস্যার সমাধানই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগে তিনি ঢাকা-৪ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ব্যাপক কাজ করেছেন। মানুষের সঙ্গে কখনও তার কোনো বিরোধও হয়নি। বর্তমানে ঢাকা-৪ আসন ভেঙে ঢাকা-৫ আসন করায় এই আসন থেকে নির্বাচন করতে চান তিনি। দল ও নেত্রী (খালেদা জিয়া) তাকে বঞ্চিত করবেন না বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।

অবশ্য সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন পার্শ্ববর্তী ঢাকা-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাবা ও ছেলের যে কোনো একটি আসন ছাড়তে হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি থেকে নতুন কাউকে প্রার্থী করা হবে বলে দাবি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের।

ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দলকে গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। মনোনয়ন পেলে এলাকার নেতাকর্মী ও জনগণের সহযোগিতায় বিজয়ীও হতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস। তবে দলীয় হাইকমান্ড তাকে এই আসনের বদলে অন্য যে কোনো আসনে মনোনয়ন দিলে সেখান থেকেই নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছেন তিনি।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, নিরবচ্ছিন্নভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোনো সন্ত্রাস-অন্যায় ও চাঁদাবাজিতে তার সম্পৃক্ততা নেই। এলাকার মানুষ এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে তার। তাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে আসনটি দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবেন বলেই তার বিশ্বাস।

নবীউল্লাহ নবীর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা থাকায় আগের মতো দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে তার তেমন সক্রিয়তা নেই। তবে এলাকার অলিগলিতে ঢাকা-৫-এর মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তার ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার শোভা পাচ্ছে। সমকালকে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। আর মনোনয়ন পেলে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন- এমন বিশ্বাস তার রয়েছে।

জয়নাল আবেদিন রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করে আসছেন তিনি। তাই এলাবাকাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রত্যাশা, তাকেই এই আসনের বিএনপি প্রার্থী করা হোক। আর দলীয় মনোনয়ন পেলে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

পরের
খবর

আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা নিয়ে বাড়ছে বিরোধ


আরও খবর

রাজনীতি

আসছে ভোট :ঢাকা-৫

আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা নিয়ে বাড়ছে বিরোধ

প্রকাশ : ১৬ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অমরেশ রায়

ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলী আংশিক) আসনে বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নেমেছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না এবং ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ।

নির্বাচনের সময় যত এগোচ্ছে, প্রার্থিতা নিয়ে এমপির সঙ্গে এই তিন নেতার দ্বন্দ্বও তত বাড়ছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতা এলাকায় নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের প্রচার-প্রচারণায় বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরছেন তারা। তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম অনেকাংশে এমপি বিরোধিতায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনবারের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা নিজে মনোনয়ন না পেলে তার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলকে প্রার্থী করার ব্যাপারে আগ্রহী। সজল মোল্লাও প্রার্থিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়ে আওয়ামী লীগের সৃষ্ট কোন্দলের সুযোগ নিয়ে আগামী নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ। এ ছাড়া ১৪ দলের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রশিদ সরকার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন কমলও জোটের মনোনয়ন চান। তাদের মধ্যে আবদুর রশিদ সরকার ও মনির হোসেন কমল গত নির্বাচনে নিজ দল থেকে প্রার্থী হয়ে সামান্য ভোট পান। শহীদুল ইসলাম গত দুটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েও ১৪ দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হলেও ভোটের তিন দিন আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান তিনি। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এখানে (তৎকালীন ঢাকা-৪) জাসদ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাসদের এই মুক্তিযোদ্ধা নেতা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনভুক্ত ডেমরা থানা, যাত্রাবাড়ী থানার ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ড, মাতুয়াইল, সারুলিয়া ও দনিয়া ইউনিয়ন এবং কদমতলী থানার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের দুই নির্বাচনে হাবিবুর রহমান মোল্লা বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে অবিভক্ত ডেমরা-শ্যামপুর (তৎকালীন ঢাকা-৪) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এমপি হন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে অবশ্য সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছেই হেরে যান তিনি।

আগামী নির্বাচনে এলাকার নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশই বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ এনে সোচ্চার হয়েছে। দু'পক্ষের দ্বন্দ্বে এলাকায় প্রায়ই নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা হাবিবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে অন্তত ৫০টি উঠান বৈঠক ও সভা-মিছিল করেছেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে এমপিকে অবাঞ্ছিত করা ছাড়াও গত বছরের ১৮ মে আরেকটি সমাবেশে নেতারা প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এমপিবিরোধী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর থেকে নানা অপকর্মের মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। দলীয় নেতাকর্মীদের বদলে নিজের পরিবার ও বিএনপি-জামায়াত-ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন তিনি। জনগণ ও এলাকার উন্নয়ন না করে গত নয় বছরে এমপি ও তার পরিবার বাড়ি-গাড়ি-জমিসহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। এমপির দুই ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল ও মাহফুজুর রহমান মোল্লা শ্যামল এবং মেয়ে জামাই বকুলে বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এলাকার স্কুল-কলেজগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদও এমপির ঘনিষ্ঠরা দখল করেছেন। বেশিরভাগ দলীয় নেতাকর্মীর অবস্থান তাই এমপির বিরুদ্ধে। এলাকায় এমপি সমর্থিত কয়েকটি দলীয় কার্যালয় থাকলেও বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।

বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাবিবুর রহমান মোল্লার আগামী নির্বাচনের মনোনয়নপ্রাপ্তি অনিশ্চিত বলে দাবি এমপিবিরোধী অংশের। অশীতিপর হাবিবুর রহমান মোল্লা অবশ্য নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। সমকালকে তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়নে চারবার প্রার্থী হয়ে জনগণের ভালোবাসায় তিনবারই জিতেছেন তিনি। এর মধ্যে একবার জেলে থেকে নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন। এবারও প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন, না দিলে না-ই। তার ছেলে সজল মোল্লার প্রার্থী হওয়াটাও প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে। তবে তাকে প্রার্থী করা হলে ভোটের মাঠেই জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেবেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এসব অভিযোগ করা হলেও একটি অভিযোগের প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। আর মুষ্টিমেয় যেসব নেতা তাকে (হাবিব মোল্লা) জনবিচ্ছিন্ন বলছেন, এলাকায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু ও তাদের সঙ্গে কতজন নেতাকর্মী আছেন- সেটিও দেখা দরকার।

কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনীতি ও কমিশনার থাকার সুবাদে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন তিনি। ২০০৮ এর নির্বাচনে প্রার্থী হলেও মহাজোটগত সমঝোতার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এবার নেত্রী (শেখ হাসিনা) তাকে নিরাশ করবেন না বলে তার বিশ্বাস।

হারুনুর রশিদ মুন্না বলেন, বর্তমান এমপি ও তার পরিবারের অপকর্মের কারণে নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। এলাকার দলীয় রাজনীতি এখন দুই ধারায় বিভক্ত। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির সঙ্গে আছেন দাবি করে মুন্না আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, বার্ধক্যজনিত কারণে বর্তমান এমপির পক্ষে উদ্যম নিয়ে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষিত, সচেতন, বিবেকবান ও আদর্শিক ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা উচিত। এই বিবেচনায় তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেন তিনি।

মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, বয়সের কারণে তার বাবা হাবিবুর রহমান মোল্লা নির্বাচন করতে না পারলে তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। এটা এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদেরও প্রত্যাশা। তারসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এই অপপ্রচার যারা করছেন, সৎ সাহস থাকলে তারাই এসবের প্রমাণ দিন।

জাতীয় পার্টির মীর আবদুস সবুর আসুদ বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাজনৈতিক পরিচয়সহ এলাকার সমস্যা সমাধানে মেধা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তার অবস্থান অনেক ভালো। তাই মহাজোট থেকে তার মনোনয়ন না পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

ন্যাপের আবদুর রশিদ সরকার বলেন, তার দল ও ১৪ দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। তবে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থী হওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। এমপির দায়িত্ব উন্নয়ন নয়, সংসদে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও আইন পাস করা। সেই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই এমপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

জাসদের শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা ও কল্যাণের লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি করেন তিনি। আরও বৃহত্তর পরিসরে জনসেবার সুযোগ পেতেই ১৪ দলের মনোনয়ন চাইবেন তিনি।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মনির হোসেন কমল বলেন, এখানে আওয়ামী লীগে চারটি গ্রুপ থাকায় তৃতীয় পক্ষকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে কারও পক্ষেই জিতে আসা সম্ভব নয়। তাকে (কমল) প্রার্থী করা হলে আওয়ামী লীগের চার গ্রুপের সমর্থনে জিতে আসতে পারবেন তিনি।

পরের
খবর

সংলাপের অপেক্ষা না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: নাসিম


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সংলাপের অপেক্ষায় বসে না থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। আপনাদের সঙ্গে সংলাপ হবে না, সংলাপের প্রশ্নই আসে না। কারণ সংলাপের নামে নাটক হয়। তাই এমন নাটকের কোনো মানে হয় না। সংলাপ হবে জনগণের সঙ্গে, অন্য কারও সঙ্গে নয়।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ খেলে গোল দিতে চায়। আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনের মাঠে আসুক। পেছনের দরজা দিয়ে নয়, জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো উন্নয়নশীল দেশে যুগ যুগ ধরে একই সরকার দেশ পরিচালনা করায় তারা অনেক এগিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর চলছে। এখন সবক্ষেত্রে শতভাগ উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য আরও সময় প্রয়োজন। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আগামীতে জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দেবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে তারাই সংবিধান ছিন্নভিন্ন করে ইনডেমনিটির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। ইতিহাসের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধের পাশাপাশি আত্মস্বীকৃত খুনিদের যারা সংসদে বসার সুযোগ করে দিয়েছিল তাদের মুখে আইনের শাসন ও মানবাধিকার শব্দগুলো মানায় না। 

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জিএম সালেহউদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তৃতা করেন।

এর আগে এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাভুক্ত অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মন্ত্রী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দেন। পরে বিকেলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় যোগদান করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর