রাজনীতি

তিনগুণ বেশি টাকায় স্যাটেলাইট তৈরি করা হয়েছে: আমীর খসরু

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮

তিনগুণ বেশি টাকায় স্যাটেলাইট তৈরি করা হয়েছে: আমীর খসরু

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তিনগুণ বেশি টাকা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই যুগে একটা প্রাইভেট কোম্পানিও স্যাটেলাইট পাঠাতে পারে। স্যাটেলাইট নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করছে। এই স্যাটেলাইটে দেশের কত টাকা ক্ষতি হবে, সেটা তারা (সরকার) বলছে না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার বাংলাদেশ প্রভাষক সমিতির উদ্যাগে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও আইনের শাসনের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণে সরকারের পরিসংখ্যান সঠিক নয় দাবি করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নিজের সুবিধামতো পরিসংখ্যান তৈরি করছে। প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, সরকার বলছে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। 

সভায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: কাদের


আরও খবর

রাজনীতি

ফাইল ছবি

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি তাদের সাম্প্রদায়িক দোসরদের নিয়ে দেশে বিদেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’ 

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‌‘জনগণকে খুশি রাখবেন, জনগণের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন, যারা ভুল করেছেন তারা সংশোধন হয়ে যান। অন্যথায় অপকর্মে জড়িতদের সাথে আমি সম্পর্ক রাখব না। আমি জানি কারা এখানে কি করছে, সবাই এক থাকুক এবং ঐক্যবদ্ধ হোন। ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই।’

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‌‘বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন দুঃস্বপ্ন দেখছে’। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই সরকার পরিবর্তনের একটা উপায় নির্বাচন। বিরোধী দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করবে। সরকারের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন নেই। সংলাপ যদি তারা চাইতো তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় তার সন্তানের মৃত্যুতে শোক জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাওয়ার পর মওদুদ আহমদ ও বিএনপির নেতারা দরজা বন্ধ করে দিতেন না। আমাদের বিশ্বাস জনগণ আমাদের পাশে আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সেখানেও তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তাদের ইস্যু হচ্ছে বিদেশিদের কাছে নালিশ করা।

এরপর তিনি ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বসুরহাট পৌর স্বপ্নপুরী মার্কেট উদ্বোধন করেন এবং তার বাড়িতে পিতা মাতার কবর জিয়ারত করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুলের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাদল প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বিপুর বিকল্প নেই আওয়ামী লীগে


আরও খবর

রাজনীতি

আসছে ভোট: ঢাকা-৩

বিপুর বিকল্প নেই আওয়ামী লীগে

প্রকাশ : ১৪ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  অমরেশ রায় ও মোহাম্মদ রায়হান খান

ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ আংশিক) আসনের আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান এমপি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ২০০১ সাল থেকে টানা তিন নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রথমবার পরাজিত হলেও পরবর্তী দুই নির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। তার বিকল্প না থাকায় আগামী নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত। এর পরও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন দলের প্রবীণ নেতা হাজি আতাউর রহমান। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের এই সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচনী এলাকায় প্রচারের পাশাপাশি হাইকমান্ডেও লবিংয়ের চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন চান জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার সাবেক সভাপতি রমজান ভূঁইয়া। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি  পোস্টার ও ব্যানার টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন।


ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোণ্ডা ও শুভাঢ্যা নিয়ে ঢাকা-৩ আসন। ২০০৮ সালের আগে পুরো কেরানীগঞ্জ উপজেলা এই আসনে ছিল। সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে উপজেলার একটি অংশ ঢাকা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত হয়।


আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে এই এলাকায় বর্তমান এমপি নসরুল হামিদ বিপুর ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার বাবা হামিদুর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। স্বাধীনতার আগে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন হামিদুর রহমান। বিপুর মা হাসনা হামিদও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিপু নিজেও তৃণমূল থেকে ওঠে আসা রাজনীতিবিদ। ১৯৯৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলার সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাে র পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। বিপু আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি।


২০০১ সালে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির আমানউল্লাহ আমানের কাছে পরাজিত হন বিপু। সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে হারিয়ে এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন তিনি। মহাজোট সরকারের বর্তমান মেয়াদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন বিপু।


তার সমর্থকদের দাবি, সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণে নেতাকর্মীদের কাছে বিপুর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেন তিনি। নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিচ্ছেন তিনি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল না থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি।


শিল্পপতি হাজি আতাউর রহমান ২০০৮ সালেও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে তোড়জোড় চালাচ্ছেন তিনি। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য থাকাকালে কেরানীগঞ্জকে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় এই নেতার মিছিলে গুলি করে তাকে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়েছে।


স্থানীয় রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির অবস্থান অত্যন্ত নাজুক। এর পরও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রমজান ভূঁঁইয়া মহাজোটের মনোনয়ন পেতে সাধ্যমতো তৎপরতা চালাচ্ছেন। যদিও এ আসনের অধিকাংশ এলাকায় জাপার কমিটিও নেই।


নসরুল হামিদ বিপু আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, তিনি এমপি হয়ে এ এলাকার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এ অঞ্চলকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ নেই। সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার এবং বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বিপু। মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকে মনোনয়নের জন্য ঘুরঘুর করেন। তারা আগেও সফল হননি, এবারও হবেন না।


হাজি আতাউর রহমান বলেন, কেরানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুর্দিনে তার নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন এবং বিজয়ী হবেন বলে বিশ্বাস করেন। 


জাতীয় পার্টির রমজান ভূঁঁইয়া বলেন, ২০০৮ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েও জোটগত সমঝোতার কারণে সরে দাঁড়ান। গত নির্বাচনে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান জাপার মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা করে সরে দাঁড়ান। গত দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েও সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ। এবার তারা দলীয় প্রার্থী চান, তাই দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান রমজান ভূঁইয়া। প্রার্থী হলে বিজয়ী হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

গয়েশ্বরকে নিয়ে একাট্টা বিএনপি


আরও খবর

রাজনীতি

আসছে ভোট: ঢাকা-৩

গয়েশ্বরকে নিয়ে একাট্টা বিএনপি

প্রকাশ : ১৪ আগষ্ট ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কামরুল হাসান ও মোহাম্মদ রায়হান খান

ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ আংশিক) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনেও আলোচনায় আছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। হেভিওয়েট এ নেতাকে ঘিরেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। বিকল্প না থাকায় গয়েশ্বরের পক্ষে একাট্টা স্থানীয় বিএনপি। তবে আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার পুত্রবধূ অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। 


এর আগে এ আসনে প্রার্থী হয়ে টানা চারবার এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান। বারবার মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েও প্রার্থিতার সুযোগ পাননি গয়েশ্বর। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে আমান ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী হন। এ সুযোগে  ঢাকা-৩ আসনে  প্রার্থিতার সুযোগ পান গয়েশ্বর। অবসান ঘটে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার। কিন্তু প্রথম  নির্বাচনেই অংশ নিয়েই তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে পরাজিত হন। এ আসনটি গয়েশ্বরের জন্য বরাদ্দ হওয়ার খুশিতে প্রথমবারের পরাজয় নিয়ে খুব একটা গ্লানি নেই তার কর্মী-সমর্থকদের। অবশ্য দলীয়  সিদ্ধান্তে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেননি গয়েশ্বর। 


আগামী নির্বাচনেও তিনি বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী। সাংগঠনিকভাবে এলাকায় শক্ত অবস্থানের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের। কেরানীগঞ্জের সল্ফ্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের সন্তান গয়েশ্বর শুরুতে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘদিন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বারবার মনোনয়নবঞ্চিত হলেও ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর টেকনোক্র্যাট কোটায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পেলেও দলের যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। এরপর প্রায় এক দশক ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গয়েশ্বর। 


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজ এলাকার তৃণমূলে শক্ত সাংগঠনিক ভিত গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পুত্রবধূর পাশাপাশি তার মেয়ে অ্যাডভোকেট অপর্ণা রায়ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। গয়েশ্বরের বিকল্প হিসেবে এ আসনে তাই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের নামই আলোচনায় উঠে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজি নাজিম উদ্দিন মাস্টারের নামও শোনা যাচ্ছে। 


২০০৮ সালের আগে একাধিকবার বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়। সীমানা পুনর্বিন্যাস করে এ আসনের আয়তন কমিয়ে আনা হলেও সাংগঠিনকভাবে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের। তবে বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে। পুলিশের ভয়ে তাই নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মামলা-হামলার ভয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ক্ষমতাসীন দলে ভিড়েছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও এলাকায় মিছিল-মিটিং করতে পারেন না। এমন প্রেক্ষাপটেও আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, বিএনপি থেকে যাওয়া নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগে অসন্তোষ রয়েছে। 'হাইব্রিড' ওই নেতারা ক্ষমতাসীন দলে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। বিএনপির তৃণমূলও দলত্যাগীদের ওপর ক্ষুব্ধ। কিন্তু সুযোগ পেলে ওই নেতারা আবার বিএনপির দিকে ঝুঁকবেন। নির্বাচনে আগে এমন কিছু ঘটলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আবারও চাঙ্গা হবে এবং ক্ষমতাসীন দল চাপে পড়বে। 


নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমকালকে বলেছেন, আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হলে এ নিয়ে কথা বলবেন। এর আগে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, এ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিকল্প নেই। তার বিরুদ্ধে এমন কোনো মামলা নেই, যে কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারলে বিএনপির পক্ষে নীরব ভোটবিপ্লব ঘটবে। 


হাজি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন। এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। 


অন্যান্য প্রার্থী :  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সভাপতি ব্যবসায়ী হাজি সুলতান আহমেদ খানকে এ আসনে দলের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে ধর্মভিত্তিক এ দলটির অবস্থান মোটামুটি ভালো। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকার গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন সামনে রেখে সুলতান আহমেদ খান মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি সমকালকে বলেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য দলের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের নিদের্শনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার বিজয় সুনিশ্চিত। 

সংশ্লিষ্ট খবর