সংসদ

দশম সংসদে ৭১ শতাংশ বিল পাস ১ থেকে ৩০ মিনিটে: টিআইবি

প্রকাশ : ২৮ আগষ্ট ২০১৯

দশম সংসদে ৭১ শতাংশ বিল পাস ১ থেকে ৩০ মিনিটে: টিআইবি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান— সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

দশম সংসদের ২৩টি অধিবেশনে কোরাম সংকটে ১৯৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় অপচয় হয়, যার আর্থিক মূল্য ১৬৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সংসদের শুধু ১২ শতাংশ সময় ব্যয় হয় আইন প্রণয়নে। ৭১ শতাংশ বিল পাস হয় ১ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত 'পার্লামেন্টওয়াচ' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ধানমণ্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক নিহার রঞ্জন রায়, মোরশেদা আক্তার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল। সংবাদ সম্মেলনে একাদশ সংসদ নিয়ে কোনো কথা বলেনি টিআইবি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি ছাড়াই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয় দশম সংসদ। সে বছরের ২৯ জানুয়ারি অধিবেশন শুরু হয় এবং চলে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী ন্যূনতম ৬০ জন এমপি উপস্থিত না থাকলে কোরাম পূর্ণ হয় না; সংসদের কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দশম সংসদে দৈনিক গড়ে কোরাম সংকট ছিল ২৮ মিনিট; পাঁচ বছরে ১৯৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে অষ্টম ও নবম সংসদের চেয়ে কম কোরাম সংকট হয়েছে।

দশম সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে ছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দলটি সরকারেও ছিল। তাদের এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে দশম সংসদে প্রকৃত বিরোধী দল ছিল না বলে মনে করে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিরোধী দল বলতে যা বোঝায়, সে ভূমিকায় ছিল না জাতীয় পার্টি। তারা আত্মপরিচয়ের সংকটে ছিল। বলা যায়, মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান জানান, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি কমেছে। তবে সরকারি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য বেড়েছে। দশম সংসদে ২৩টি অধিবেশনের একটিও বর্জন করেনি বিরোধী দল। প্রধান ও অন্যান্য বিরোধী দল ১৩ বার ওয়াকআউট করে। দশম সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি ছিল ৮২ শতাংশ। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের উপস্থিতি ছিল ৫৯ শতাংশ।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, দশম সংসদে ১৯৩টি বিল পাস হয়। সংসদের কার্যক্রমে ১২ শতাংশ সময় ব্যয় হয় আইন প্রণয়নে। যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে আইন প্রণয়নে ব্যয় হয় ৪৮ শতাংশ সময়। ভারতের লোকসভায় এই হার ৩২ শতাংশ। দশম সংসদে প্রতিটি বিল পাসে গড়ে সময় লাগে ৩১ মিনিট। ভারতের লোকসভায় বিল পাসে গড়ে লাগে ১৪১ মিনিট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের সংসদগুলোর মতোই বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, সড়ক পরিবহন বিল, সংবিধানে ষোড়শ সংশোধনীসহ কয়েকটি আলোচিত বিলে অংশীজনের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।

প্রতিবেদনে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ না থাকায় দশম সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। ফলে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হয় এবং সংসদীয় কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা বৃদ্ধি পায়। কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ও স্পিকারের জোরালো ভূমিকার ঘাটতিতে সংসদ প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ছিল না।

গবেষণায় বলা হয়, দশম সংসদে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও অশ্লীল শব্দের ব্যবহার অব্যাহত ছিল। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী অধিবেশন চলাকালে গ্যালারিতে শৃঙ্খলা রক্ষায় স্পিকারের কার্যকর ভূমিকারও ঘাটতি দেখা যায়।

টিআইবি জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে সংসদ সদস্য আচরণ আইন প্রণয়ন, সরকারি দলের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে কার্যকর বিরোধী দলের অংশগ্রহণের সুযোগের নিশ্চয়তা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনসহ ১১টি সুপারিশ করেছে।

মন্তব্য


অন্যান্য