সংসদ

সংসদীয় কমিটির সভা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুপারিশ

প্রকাশ : ২২ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ২২ আগষ্ট ২০১৯

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুপারিশ

বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে তা হয়নি— সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং এবং কারা রোহিঙ্গাদের ফিরতে নিরুৎসাহিত করছে তাদের চিহ্নিত করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম দিনে কেউ ফিরতে রাজি না হলেও তাদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে বলছে সংসদীয় কমিটি। এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রোহিঙ্গা নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলকে আগে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এসব সুপারিশ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে এদিনের বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ ও নিজাম উদ্দিন জলিল (জন)।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে অনাগ্রহের পেছনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রভাব রয়েছে। কমিটি রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটর করে কারা প্রভাব খাটাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম দিনে ২০০ থেকে ৩০০ জন ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফেরত নিতে রাজি হওয়ার তালিকায় তিন হাজার ৪৫০ জনের নাম রয়েছে। বাকিদের ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরার বিষয়ে আস্থা ফিরে পায়, সেজন্য তাদের নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল আগে পাঠানো যেতে পারে বলে সংসদীয় কমিটি মনে করে।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি 'সেফ জোন' সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানি রোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

মন্তব্য


অন্যান্য