সংসদ

আবার আসিব ফিরে এই সংসদে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৮

আবার আসিব ফিরে এই সংসদে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে...। তার ভাষায় বলতে চাই, আমি আবার আসিব ফিরে এই সংসদে। 

আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে  তিনি বলেছেন, দেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি- বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয় আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ, আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন। আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে।

সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদও সমাপনী বক্তব্য রাখেন।  

দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে আমার আবেদন, আমরা দেশকে যে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে এসেছি, যে মেগাপ্রজেক্ট (প্রকল্প) গ্রহণ করেছি, তা সমাপ্ত করার জন্য আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতেও আরও কিছু সময় আমাদের প্রয়োজন। আর সেই সুযোগটি দিতে পারে একমাত্র দেশের জনগণ। আমি বিশ্বাস করি দেশের মানুষ নিশ্চয়ই সেই সুযোগ আমাদের করে দেবেন। 

সংসদ নেতা বলেন, যদি কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ না হয়, এটাই হচ্ছে সংসদের শেষ অধিবেশন। বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিয়ে। তা হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, উন্নত জীবন দেওয়া। 

শত বাঁধার মুখেও ২০১৪ সালে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য জনগনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা মানুষের দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি, মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন হয়েছে। বাজেট সাতগুণ বৃদ্ধি করেছি। নিজস্ব অর্থায়নেই আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। উন্নয়ন প্রকল্পও ৯০ ভাগই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি, কারও কাছে হাত পাততে হয় না। সেই আত্মমর্যাদা আমাদের গড়ে উঠেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করছি। এগুলোও এখন দৃশ্যমান। 

বঙ্গবন্ধুর উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা পাওয়া যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা আরও কষ্টকর। পাওয়া যত কষ্টকর, তা ধরে রাখা আরও কষ্টকর। দেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও সৎ পথে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। সেই পরিশ্রমের ফসল দেশের জনগণ এখন ভোগ করছে। 

বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি টেলিভিশনসহ সবকিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যত কী হবে, জীবনমান কেমন হবে? কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সেটাই একমাত্র চিন্তা। টানা ১০ বছরে আমাদের শাসনমালে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর জীবন দিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করেছি শুধুমাত্র আইসিটি খাত থেকেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবো। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে এখন দ্বিতীয়। ৬ লাখেরও বেশি দেশের তরুণ-তরুণী দেশে ঘরে বসেই আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ব্যাংকিংও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। 

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারি, তবে বিশ্ব স্বীকৃতি পাবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় সরকারের ধারাবাহিকতা একান্তভাবে প্রয়োজন। জনগণ ভোট দিলে আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলবো। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, কর্মসংস্থানের কোন অভাব হবে না। রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথ সচল করবো যাতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিলে আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সেটি আমরা অবশ্যই গড়ে তুলব। ২০২০-২১ বর্ষকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলবো। আগামী একশ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে, সেজন্যও ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করেছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিসয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলতে পারবে, সেটা আমরা করতে পারব সেই দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে। 

বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগে সংসদের যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, কত নোংরা কথা শুনতে হয়েছে। টিভি ক্যামেরা, ফাইল, চেয়ার, ফোল্ডার কোনকিছুই রেহাই পায়নি। দশম জাতীয় সংসদে বর্বরতা, অসভ্যতা কাউকে শুনতে হয়নি। সংসদ যে জাতি, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে, দশম জাতীয় সংসদ তা প্রমাণ করেছে। গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস বেড়েছে। গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, তাও প্রমাণিত হয়েছে। 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের কবিতাটি উদ্ধৃত করে বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলবো, 'চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।' তাই আবার দেশ সেবার সুযোগ পেলে অবশ্যই দেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলবো। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ১৫ জানুয়ারি


আরও খবর

সংসদ

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ১৫ জানুয়ারি

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ জানুয়ারি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

ওইদিন সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। শনিবার দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২৫৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। সে হিসাবে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৪৩টি পাবে ক্ষমতাসীন দলটি। 

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি দল ও জোট একজন করে সংরক্ষিত নারী এমপি পাবে।

পরের
খবর

এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে স্পিকারের অনুমতি


আরও খবর

সংসদ

স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণের সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কার্যপ্রণালি বিধি ও এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাদের এ অনুমতি দেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে রিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ভোট হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি এবং জোটসঙ্গীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি আসন পায়।

জাতীয় সংসদে কারা বিরোধী দল হবে এ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে সংসদে এবারও বিরোধী দল হওয়ার ঘোষণা দেন।

দল নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না জানিয়ে এরশাদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে জাতীয় পার্টি।  তিনি হবেন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং দলের কো চেয়াম্যান জি এম কাদের হবেন উপনেতা।


পরের
খবর

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি


আরও খবর

সংসদ

  সমকাল প্রতিবেদক

আগামী ৩০ জানুয়ারি বেলা ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ওই দিনই নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। আর গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। 

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদের পাঁচ বছর পূর্তি হবে ২৮ জানুয়ারি।

সংশ্লিষ্ট খবর