সংসদ

‌'ড. কামাল-রব-মান্নারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন'

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৮

‌'ড. কামাল-রব-মান্নারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন'

  সমকাল প্রতিবেদক

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানিয়ে সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, এই দুর্নীতিবাজ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, মানুষ হত্যাকারী, স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নামে ড. কামাল হোসেন-মান্না-রবরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। 

তবে তাদের এই ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনেও প্রত্যাখান করবে।

সোমবার দশম জাতীয় সংসদের শেষ দিনের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে কয়েকজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখেন।

প্রথমেই ফ্লোর নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন সেনা বাপ্পি বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে প্রমাণিত হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ লেনদেন করেছিলেন। যার জন্য তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এতিমের টাকা আত্মসাতের আরেক মামলায় খালেদা জিয়া ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে সাজা ভোগ করছেন।

তিনি বলেন, এসব দুর্নীতিবাজ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, মানুষ হত্যাকারী, একাত্তরের দালাল, যুদ্ধাপরাধী বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ফ্রন্টের নামে ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও আ স ম রব দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এই রব যিনি কি-না চিড়িয়াখানার পশুদের খাদ্য নিজের বাড়িতে নিয়ে খেতেন। আর আওয়ামী লীগের উচ্ছিষ্ট সুলতান মুনসুর এরা সবাই একত্রিত হয়েছেন। তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। 

বাপ্পি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা বাঙালি জাতির ললাটে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে বাংলাদেশকে একটি আইনানুগ রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। যে কারণে আজ সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর জয়গান। সব বিকল্পের বিকল্প আছে। কিন্তু শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, হতে পারে না।

পরিবহণ ধর্মঘট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবী: একই দিন অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান ধর্মঘটের নামে দেশজুড়ে পরিবহন শ্রমিকদের নৈরাজ্য বিষয়ে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন। তিনি বলেন, ধর্মঘটের নামে পরিবহন শ্রমিকরা সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। অথচ এ বিষয়ে সরকারের পুলিশ ও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, এই সংসদে পাস করা সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা পরিবর্তনের দাবিতে গত দুইদিন থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করছেন। এই অবরোধের নামে শ্রমিকদের কেউ কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও চালকদের মুখে পোড়া মোবিল মেখে দেওয়া হয়েছে। একটি অসুস্থ শিশুকে হাসাপাতালে নেওয়ার সময় এ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ায় শিশুটি মারা গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে পীর ফজলুর রহমান বলেন, এই অবরোধে সারাদেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অবরোধের নামে মানুষের আত্মমর্যাদায় যারা আঘাত করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরব রয়েছে। এই ঘটনা আমাদের আহত করেছে। আমি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করছি।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ১৫ জানুয়ারি


আরও খবর

সংসদ

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ১৫ জানুয়ারি

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ জানুয়ারি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

ওইদিন সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। শনিবার দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২৫৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। সে হিসাবে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৪৩টি পাবে ক্ষমতাসীন দলটি। 

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি দল ও জোট একজন করে সংরক্ষিত নারী এমপি পাবে।

পরের
খবর

এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে স্পিকারের অনুমতি


আরও খবর

সংসদ

স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণের সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কার্যপ্রণালি বিধি ও এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাদের এ অনুমতি দেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে রিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ভোট হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি এবং জোটসঙ্গীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি আসন পায়।

জাতীয় সংসদে কারা বিরোধী দল হবে এ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে সংসদে এবারও বিরোধী দল হওয়ার ঘোষণা দেন।

দল নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না জানিয়ে এরশাদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে জাতীয় পার্টি।  তিনি হবেন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং দলের কো চেয়াম্যান জি এম কাদের হবেন উপনেতা।


পরের
খবর

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি


আরও খবর

সংসদ

  সমকাল প্রতিবেদক

আগামী ৩০ জানুয়ারি বেলা ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ওই দিনই নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। আর গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। 

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদের পাঁচ বছর পূর্তি হবে ২৮ জানুয়ারি।

সংশ্লিষ্ট খবর