সংসদ

'রাজধানীর ২৫৫টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ'

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৮

'রাজধানীর ২৫৫টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ'

ফাইল ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে বর্তমানে ২৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

রোববার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম. আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। খবর বাসসের

মন্ত্রী জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক ২০১০ সালে ৩২১টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হলেও বর্তমানে ২৫৫টি ভবন বিদ্যমান। ২৮টি ভবন মালিকপক্ষ পুনঃনির্মাণ করেছেন। অবশিষ্টগুলো ভেঙে ফেলেছেন।

তিনি জানান, বিদ্যমান ২৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বিশেষজ্ঞ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করে ভবন মালিকদের সাথে আলোচনা করে ভাঙা বা অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বিতর্কে শুরু হলেও স্বস্তিতে শেষ


আরও খবর

সংসদ

শেষ হলো দশম সংসদ অধিবেশন

বিতর্কে শুরু হলেও স্বস্তিতে শেষ

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মসিউর রহমান খান

চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় শুরু হওয়া দশম সংসদের যাত্রা শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে সরকার ও বিরোধী দল। গতকাল সোমবার ৪১০তম কার্যদিবস শেষ করার মধ্য দিয়ে পাঁচ বছর পূর্ণ করল এই সংসদ। যদিও শুরুতে এই সংসদের যাত্রা নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছিল। সরকারি দল ও বিরোধী দলের চিফ হুইপরা মনে করছেন, সংসদ নেতা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই সফল পরিসমাপ্তি ঘটেছে এই সংসদের।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে প্রথম বছরে ৩৬ কার্যদিবসে মাত্র ১৯টি বিল পাস হলেও সর্বশেষ ২৩তম অধিবেশনে ৮ কার্যদিবসে পাস হয়েছে ১৯টি বিল। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই সংসদের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সংবিধানের ষোড়শতম সংশোধনী বিল পাস। বিচারপতিদের জবাবদিহি সংসদের  কাছে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এই সংশোধনী আদালত অবৈধ ঘোষণা করেন। এর জের ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

দশম সংসদকে কার্যকর দাবি করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তরে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণও ছিল। এসব প্রক্রিয়াতেই নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, দশম সংসদে কোনো মুলতবি প্রস্তাব নেওয়া হয়নি, কারণ যে নোটিশগুলো পাওয়া গেছে তা গ্রহণের মতো কোনো বিষয় ছিল না।

এ ছাড়া সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির গত পাঁচ বছরে চারবার সংসদের বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করলেও তাদের পরিচয় সংকটে ভুগতে হয়েছে। এমনকি বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ নিজেই সংসদের বৈঠকে নিজেদের পরিচয় সংকটের কথা তুলে ধরে এ থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্বতন্ত্র সদস্যদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি ইস্যুতে সংসদের বৈঠক মুলতবি করে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এমন কোনো নোটিশ পাওয়া যায়নি বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় পার্টির ওয়াক আউটের ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল- ব্যাংক কোম্পানি আইন পাসের প্রতিবাদ, বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রতিবাদ, বিমানের তৎকালীন চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের অপসারণের দাবি এবং বিচারপতিদের বেতন-ভাতা বাড়ানো সম্পর্কিত বিলের প্রতিবাদ।

বিশ্নেষকরা অবশ্য বলছেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পরস্পরকে প্রশংসা ও সহায়তার এমন নজির সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিরল। সংসদীয় কার্যক্রমের অন্যতম মৌলিক কার্যক্রম বিতর্ক ছিল এই সংসদে পুরোপুরি অনুপস্থিত। সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সমালোচনার বদলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়েছে বিরোধী দল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একে অপরকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে।

সরকারি দলের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বর্তমান সংসদের শুরুতে নানা অনিশ্চয়তা ছিল- এটা সত্য। কিন্তু সফলভাবে পাঁচ বছর পার করে সেই অনিশ্চয়তার কথা এখন আর কেউ বলবেন না। এই সংসদের পুরো মেয়াদে বিরোধী দল তাদের গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রমকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর বলেন, এই সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি জাতিকে একটি ইতিবাচক রাজনীতি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অতীতে সংসদের বিরোধী দলগুলোর আচরণকে দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সংসদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, জাপার সদস্যরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এটা নির্ভর করছে সরকার কীভাবে এই আলোচনাকে গ্রহণ করেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দীর্ঘদিনের সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও তার বিনিময় কি মূল্য দিতে হয়েছে সেটাও দেখতে হবে। কারণ এটা পেতে গিয়ে সংসদের একটি মৌলিক দায়িত্ব বিসর্জন দিতে হয়েছে। সংসদের মৌলিক দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে তারা কতটা ভূমিকা পালন করেছে সেই বির্তক থেকেই যাবে। তিনি বলেন, যদিও গণমাধ্যমসহ অন্যদের সমালোচনার মুখে শেষের দিকে বিরোধী দল কিছুটা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে শুরু থেকেই বিরোধী দলকে আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগতে দেখা গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অধিকাংশ দলের বর্জনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছিল দশম জাতীয় সংসদ। ওই ভোটে ১৫৩ জন সাংসদ নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। শুরুতে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও এইচএম এরশাদের দল জাপা বিরোধী দলের আসনে বসে। একই সঙ্গে তারা সরকারেরও শরিক। এরশাদ নিজেও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হন। দলের আরও তিনজন নেতা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হন।

জানা গেছে, দশম সংসদে মোট ২৩ বার অধিবেশন বসেছে। আর কার্যদিবস ছিল ৪১০টি। এই সময় বিল পাওয়া গিয়েছিল ১৯৮টি। যার মধ্যে পাস হয়েছে ১৯৩টি। প্রত্যাহার হয়েছে চারটি। আর একটি নিষ্পন্ন হয়নি।

এর আগে নবম সংসদের বিরোধী দল ৩৪২ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র উপস্থিত ছিল ৭৬ কার্যদিবস। অন্যদিকে দশম সংসদের বিরোধী দল কোনোদিনই বর্জন করেনি। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ সংসদে ছিলেন ২৪২ কার্যদিবস। গত নবম সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০ কার্যদিবস। দশম সংসদে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন ৩৩৮ কার্যদিবস। এই পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশিদিন সংসদের বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন কুমিল্লার সরকারি দলের দুই সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফ এবং সুবিদ আলী ভূঁইয়া। তারা দু'জনই গত ২২তম অধিবেশন পর্যন্ত ৩৭৮ কার্যদিবস সংসদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় সংসদে বেশ কয়েকটি ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস হয়। এর মধ্যে 'সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড,' 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার', আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) 'আইসিটি টেকসই উন্নয়ন' পুরস্কার এবং প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন অ্যান্ড এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলাদা আলাদা চারটি ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয় ২০১৫ সালে।

বিতর্কিত আইন : দশম সংসদের শেষ সময়ে আইন প্রণয়নের হিড়িক পড়ে। মোট ১৮ কার্যদিবসের দুটি অধিবেশনে ৩৭টি আইন পাস করা হয়। এর মধ্যে ১০ কার্যদিবসের ২২তম অধিবেশনে ১৮টি এবং ৮ কার্যদিবসের শেষ অধিবেশনে ১৯টি আইন পাস হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনীর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ দেওয়া হয় দশম সংসদে।

ফৌজদারি অপরাধে সরকার বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার করা যাবে না এমন বিধান রেখে করা হয় সরকারি চাকরি আইন। এই বিধানটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেছেন একাধিক সাংসদ।

হেফাজতে ইসলামের দাবি পুরোপুরি মেনে নিয়ে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তরের শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইন পাস হয় এই সংসদে। অন্যদিকে সম্পাদক পরিষদ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ আপত্তি উপেক্ষা করে এই সংসদে পাস হয় বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করবে বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ।


File:- বিতর্কে শুরু হলেও স্বস্তিতে শেষ

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আবার আসিব ফিরে এই সংসদে: প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

সংসদ

ছবি: ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে...। তার ভাষায় বলতে চাই, আমি আবার আসিব ফিরে এই সংসদে। 

আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে  তিনি বলেছেন, দেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি- বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয় আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ, আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন। আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে।

সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদও সমাপনী বক্তব্য রাখেন।  

দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে আমার আবেদন, আমরা দেশকে যে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে এসেছি, যে মেগাপ্রজেক্ট (প্রকল্প) গ্রহণ করেছি, তা সমাপ্ত করার জন্য আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতেও আরও কিছু সময় আমাদের প্রয়োজন। আর সেই সুযোগটি দিতে পারে একমাত্র দেশের জনগণ। আমি বিশ্বাস করি দেশের মানুষ নিশ্চয়ই সেই সুযোগ আমাদের করে দেবেন। 

সংসদ নেতা বলেন, যদি কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ না হয়, এটাই হচ্ছে সংসদের শেষ অধিবেশন। বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিয়ে। তা হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, উন্নত জীবন দেওয়া। 

শত বাঁধার মুখেও ২০১৪ সালে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য জনগনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা মানুষের দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি, মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন হয়েছে। বাজেট সাতগুণ বৃদ্ধি করেছি। নিজস্ব অর্থায়নেই আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। উন্নয়ন প্রকল্পও ৯০ ভাগই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি, কারও কাছে হাত পাততে হয় না। সেই আত্মমর্যাদা আমাদের গড়ে উঠেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করছি। এগুলোও এখন দৃশ্যমান। 

বঙ্গবন্ধুর উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা পাওয়া যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা আরও কষ্টকর। পাওয়া যত কষ্টকর, তা ধরে রাখা আরও কষ্টকর। দেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও সৎ পথে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। সেই পরিশ্রমের ফসল দেশের জনগণ এখন ভোগ করছে। 

বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি টেলিভিশনসহ সবকিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যত কী হবে, জীবনমান কেমন হবে? কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সেটাই একমাত্র চিন্তা। টানা ১০ বছরে আমাদের শাসনমালে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর জীবন দিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করেছি শুধুমাত্র আইসিটি খাত থেকেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবো। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে এখন দ্বিতীয়। ৬ লাখেরও বেশি দেশের তরুণ-তরুণী দেশে ঘরে বসেই আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ব্যাংকিংও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। 

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারি, তবে বিশ্ব স্বীকৃতি পাবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় সরকারের ধারাবাহিকতা একান্তভাবে প্রয়োজন। জনগণ ভোট দিলে আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলবো। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, কর্মসংস্থানের কোন অভাব হবে না। রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথ সচল করবো যাতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দিলে আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সেটি আমরা অবশ্যই গড়ে তুলব। ২০২০-২১ বর্ষকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলবো। আগামী একশ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে, সেজন্যও ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করেছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিসয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলতে পারবে, সেটা আমরা করতে পারব সেই দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে। 

বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগে সংসদের যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, কত নোংরা কথা শুনতে হয়েছে। টিভি ক্যামেরা, ফাইল, চেয়ার, ফোল্ডার কোনকিছুই রেহাই পায়নি। দশম জাতীয় সংসদে বর্বরতা, অসভ্যতা কাউকে শুনতে হয়নি। সংসদ যে জাতি, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে, দশম জাতীয় সংসদ তা প্রমাণ করেছে। গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস বেড়েছে। গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, তাও প্রমাণিত হয়েছে। 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের কবিতাটি উদ্ধৃত করে বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলবো, 'চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।' তাই আবার দেশ সেবার সুযোগ পেলে অবশ্যই দেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলবো। 


File:- দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে...। তার ভাষায় বলতে চাই, আমি আবার আসিব ফিরে এই সংসদে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সংসদ ভবনের মূল নকশা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী


আরও খবর

সংসদ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা- ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবনের লুই আই কানের মূল নকশা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। সোমবার সংসদের বৈঠকে মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় দক্ষিণ প্লাজায় এই নকশা প্রদর্শন করা হয়। 

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা নকশার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ভবনের স্থাপত্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবনের নকশা এবং নির্মাণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি নকশা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, মূল নকশায় সংসদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে তার আকার খুবই ছোট। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই স্থানে প্রতিবন্ধীদের জন্য রক্ষিত স্কুলের জমি অন্য স্থান থেকে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই সেখানে বড় আকারেই মসজিদ করা যেতে পারে।

লুই আই কানের মূল নকশা আনার আগে সংসদের বৈঠকে পূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, মূল নকশা আসার পরই সংসদ ভবনসংলগ্ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে গতকাল বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জিয়ার কবর সরানো হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত তার জানা নেই। কারণ এটা সংসদের ভেতরের কোনো বিষয় নয়। 

এদিকে সোমবার নকশা প্রদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সামনে জিয়ার কবরের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে সেখানে উপস্থিত একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

এদিন মূল নকশা প্রদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, সংসদের সিনিয়র সচিব ড. আবদুর রব হাওলাদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহিদুল্লাহ খন্দকার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিমসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


File:- জাতীয় সংসদ ভবনের লুই আই কানের মূল নকশা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। সোমবার সংসদের বৈঠকে মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় দক্ষিণ প্লাজায় এই নকশা প্রদর্শন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর