একাদশ সংসদ নির্বাচন

হলফনামার তথ্য ৩

আয় ও সম্পদ বেড়েছে বীর বাহাদুরের

বাড়ি নেই, তবু ভাড়া পান জাহিদ ফারুক

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

আয় ও সম্পদ বেড়েছে বীর বাহাদুরের

  মসিউর রহমান খান ও রাজীব আহাম্মদ

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং গত পাঁচ বছর একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গত নির্বাচনের আগে রাবার ব্যবসা থেকে বান্দরবানের এই এমপির বার্ষিক আয় ছিল ৪৫ লাখ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে এবার তার আয় বেড়েছে চারগুণ। বেড়েছে আয়ের উৎসও। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় এক কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

এদিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের নেই কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা দোকান। অথচ বছরে তিনি ভাড়া বাবদ আয় করেন সাড়ে চার লাখ টাকা! ভাড়া পাওয়া ছাড়া বরিশাল-৫ আসনের এই এমপির আয়ের আর কোনো উৎসও নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া  হলফনামা ঘেঁটে এমন আরও নানা তথ্য পাওয়া গেছে। মিলেছে নানা অসঙ্গতিও। আবার অনেক তথ্যের ব্যাপারে পাওয়া যায়নি যথাযথ ব্যাখ্যাও। এ ছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার সময় জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে এবারের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিদায়ী মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যের আয় বেড়েছে। কয়েকজনের নিজের আয় না বাড়লেও তাদের স্ত্রী ও তাদের ওপর নির্ভরশীলদের আয় বেড়েছে কয়েক গুণ।

আয় সম্পদে বাড়বাড়ন্ত বীর বাহাদুরের :পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং গত পাঁচ বছর একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গত নির্বাচনের আগে রাবার ব্যবসা থেকে বান্দরবানের এই এমপির বার্ষিক আয় ছিল ৪৫ লাখ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে এবার তার আয় বেড়েছে চারগুণ। বেড়েছে আয়ের উৎসও। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় এক কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা। রাবার ব্যবসায় তার বর্তমান আয় ৯৫ লাখ টাকা। অন্যান্য খাতের মধ্যে এখন কৃষি থেকে বছরে ২১ লাখ ও বাড়িভাড়া বাবদ ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় করেন বীর বাহাদুর। চাকরি থেকে পান ২১ লাখ ৪১ হাজার টাকা। আগে তার গাড়ি ছিল দুটি, এখন পাঁচটি। এর মধ্যে দুটি বাসও রয়েছে। আয়ের পাশাপাশি ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণও বেড়েছে বীর বাহাদুরের। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তার ব্যাংকে ছিল এক কোটি ৩৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, এখন রয়েছে চার কোটি ৩৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

গত পাঁচ বছরে বীর বাহাদুরের পরিবারের সদস্যদের স্থাবর সম্পদও বেড়েছে। তার স্ত্রীর জমির পরিমাণ চারগুণ বেড়েছে। আগে ছিল ২৫ একর, এখন তার মালিকানাধীন জমি শত একর। এর মধ্যে ২৫ একর লিজ নেওয়া। বাকি ৫০ একর নাকি পেয়েছেন দান হিসেবে!

আয় ও অন্যান্য সম্পদ বাড়লেও বীর বাহাদুরের নামে থাকা কৃষি জমির পরিমাণ এবার কমেছে। গতবার তিনি ৯৮ একর জমির মালিক ছিলেন। এবার জমির পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৮৫ একর।

হলফনামায় আয়ের ঘর ফাঁকা বাণিজ্যমন্ত্রীর :আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক টিপু মুনশি এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া রংপুর-৫ আসনের এই এমপি পেশা হিসেবে 'পোশাক শিল্প ও অন্যান্য' খাতের কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় বার্ষিক আয়, অস্থাবর সম্পদ ও স্থাবর সম্পদের ঘর ফাঁকা রেখে এ-সংক্রান্ত তথ্যাদি তিনি আলাদা কাগজে সংযুক্ত করেছেন। হলফনামায় সংযুক্তির তথ্য উল্লেখ করা হলেও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত সেই কাগজটি পাওয়া যায়নি।

আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে জানা যায়, টিপু মুনশির বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৪ টাকা। এর মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ও ভাতা ১০ লাখ ২০ হাজার ১২০ টাকা এবং অংশীদারি ব্যবসার ৫০ ভাগ মালিকানা থেকে আয় তিন লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪ টাকা। টিপু মুনশি তার নিট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ছয় কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ২০ টাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রীর স্ত্রীও বছরে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ ৩৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৬ টাকা; ব্যাংকে জমা ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৪৭ টাকা; বন্ড ও শেয়ার খাতে বিনিয়োগ রয়েছে চার কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন টিপু মুনশি। তবে স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদের উল্লেখ নেই তার হলফনামায়।

ভূমিমন্ত্রীর সঞ্চয় কমেছে, স্ত্রীর বেড়েছে :চট্টগ্রাম-১৩ আসনের এমপি সাইফুজ্জামান চৌধুরী গত মন্ত্রিসভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এবার পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল এক কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ টাকা। এবারের হলফনামা অনুযায়ী তার আয় কমে এখন ৪৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আয়ের পাশাপাশি সঞ্চয়ও কমেছে ভূমিমন্ত্রীর। বর্তমানে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও পুঁজিবাজারে তার ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগে এর পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

মন্ত্রীর নিজ নামে সঞ্চয় কমলেও পাঁচ বছরে তার স্ত্রীর সঞ্চয় বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ। ২০১৩ সালে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও পুঁজিবাজারে মন্ত্রীর স্ত্রীর আমানত ছিল ৬৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে ৫ কোটি ১ লাখ টাকা হয়েছে। তবে আগেরবারও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রীর নিজস্ব কোনো আয় ছিল না। এবারও নেই। তারপরও কীভাবে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে তার উল্লেখ নেই হলফনামায়।

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর 'মূল্যহীন' বাগান :তৃণমূল থেকে উঠে আসা নুরুজ্জামান আহমেদ এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। লালমনিরহাট-২ আসনের এই এমপি এবার পদোন্নতি পেয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হয়েছেন। তার পেশা কৃষি, ব্যবসা ও মৎস্য চাষ। কৃষি থেকে বছরে এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, মাছ চাষ থেকে আয় করেন ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬০ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৯২ হাজার ৪০০ টাকা এবং তামাক ব্যবসা ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সুদ হিসেবে তিনি সাত লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৫ টাকা আয় করেন। সম্মানী ভাতা পান ১১ লাখ চার হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদে তার নগদ টাকার পরিমাণ এক কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ২১০ টাকা। ব্যাংকে জমা এক কোটি চার লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৩ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে ২৫ বিঘা কৃষি জমি, সাত লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি ও তার ওপর নির্মিত স্থাপনা এবং ৩০ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য দিয়েছেন নুরুজ্জামান। এ ছাড়া ৩৫ বিঘা জমির একটি বাগানের তথ্য উল্লেখ করেছেন। তবে বাগানের আর্থিক মূল্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি।

বিপুল ভূমির মালিক কামাল মজুমদার :নবনিযুক্ত শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের অস্থাবর সম্পদের মূল্য আট কোটি ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনি 'অন্যান্য পিস্তল ও শটগানসহ' বিভিন্ন খাতে সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন পাঁচ কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা! হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৫ আসনের এমপি কামাল মজুমদারের বার্ষিক আয় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী ও খামারি। দুটি বাড়ি থেকে বছরে ভাড়া পান ৭৪ লাখ ৩ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় করেন ২৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। কামাল মজুমদারের শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্রে আমানত রয়েছে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ৬১ দশমিক ৬১ একর জমি রয়েছে তার নামে। এর অর্জনকালীন মূল্য ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬০ টাকা। এ ছাড়া স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের আয় ও সম্পদের পরিমাণ তার হলফনামায় নেই।

পাঁচ বছরে আয়-সম্পদে স্থিতাবস্থা স্বপন ভট্টাচার্যের :২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যশোর-৫ আসনে জয়ী হয়েছিলেন। এবার নৌকার টিকিটে এমপি হয়ে পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। ২০১৩ সালে দেওয়া হলফনামায় স্বপন ভট্টাচার্য বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩২ লাখ টাকা। এবারের হলফনামায় তার আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। গত পাঁচ বছরে সম্পদও বাড়েনি তার। পাঁচ বছর আগে কৃষি জমি ছিল চার বিঘা এবং রাজধানীর উত্তরায় ছিল একটি ফ্ল্যাট। পাঁচ বছর পর এ তালিকায় রাজউকের একট প্লট যুক্ত হয়েছে।

তবে পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রীর কোনো আয় না থাকলেও এখন তিনি ব্যবসা থেকে বছরে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে সাত লাখ ৯ হাজার টাকা আয় করেন।

বাড়ি নেই, তবু ভাড়া পান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী :২০০৮ সালের নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও ভোটে হেরে যান সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক। পরের নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। এবার আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারের মতো এমপি হয়েছেন। একই সঙ্গে পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার আয়ের একমাত্র উৎস বাড়িভাড়া। বছরে এ খাত থেকে ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা ভাড়া পান তিনি। ভাড়াকে আয়ের একমাত্র উৎস দেখালেও তার নিজ নামে কোনো বাড়িঘর, দোকানপাট, অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তার স্ত্রীর নামেও নেই কোনো বাড়ি বা জমি। প্রতিমন্ত্রীর ওপর নির্ভর বা তার সন্তানদের নামেও স্থাবর সম্পদ নেই। ভোটের আগে জাহিদ ফারুকের হাতে নগদ টাকা ছিল ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো টাকা জমা নেই। নেই পুঁজিবাজার বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর আয় ১০ গুণ :প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন ময়মনসিংহ-২ আসনের এমপি শরীফ আহমেদ। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া এই নেতা ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথম এমপি হন। ২০১৩ সালে ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আয়ের পুরোটাই আসত ব্যবসা থেকে। ২০১৮ সালে তার বার্ষিক আয় বেড়ে ২৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা হয়েছে। এর মধ্যে এমপি হিসেবে সম্মানী পেয়েছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাকি ১৯ লাখ টাকার ১৫ লাখ টাকা এসেছে ব্যবসা থেকে।

২০১৩ সালে ব্যাংকে এক টাকাও ছিল না শরীফ আহমেদের। এবার তিনি হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে এক কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী শরীফ আহমেদের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ ছিল না। এবার তিনি ৯ শতাংশ অকৃষি জমি এবং ২৪ তলা ভিত্তির ওপর পাঁচতলা ভবনের মালিক। জমি ও ভবন পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন বলে হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

পেশা নির্মাণ ও শেয়ার ব্যবসা, খালিদের আয় কৃষি থেকে :হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ নির্মাণ ও শেয়ার ব্যবসায়ী। কিন্তু ব্যবসা থেকেই তার কোনো আয় নেই। বার্ষিক ২৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি থেকে। এ খাত থেকে তিনি বছরে আয় করেন ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও পুঁজিবাজারে তার আমানত ও বিনিয়োগ রয়েছে এক কোটি ১১ লাখ টাকা।

কৃষি থেকে বছরে সবচেয়ে বেশি আয় করলেও ময়মনসিংহ-৫ আসনের এমপি কে এম খালিদের নিজ নামে কৃষি জমি নেই। তার স্ত্রী, সন্তান ও পারিবারিক যৌথ মালিকানায়ও নেই কৃষি জমি।

আয় বেড়ছে, সম্পদ কমেছে :ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ডা. এনামুর রহমান হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন তার বার্ষিক আয় ৩০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে তার আয় ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ওই বছরে তার তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকা শেয়ার, বন্ড ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থাকলেও এ খাত থেকে তিনি আয় দেখাননি। এবার ব্যবসা ও স্থায়ী আমানত থেকে আয় দেখিয়েছেন। আয় বাড়লেও সম্পদ কমেছে। ২০১৩ সালে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এবার তা কমে হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এমপি হয়ে ব্যবসায় আয় এসেছে :৫ জানুয়ারির নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রথম এমপি হন মাহবুব আলী। সেবার হলফনামায় তথ্য দিয়েছিলেন তিনি পেশায় আইনজীবী। ২০১৩ সালে আইন ব্যবসা থেকে তার আয় ছিল ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। কৃষি খাত থেকে আয় ছিল ৫৫ হাজার টাকা। ভাড়া পেতেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এবার পুনর্নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন মাহবুব আলী। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাঁচ বছরে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে প্রায় সাতগুণ। ২০১৩ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে মাহবুব আলীর বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে তিনি আয় করেছেন ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

মন্তব্য


অন্যান্য