একাদশ সংসদ নির্বাচন

'নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়'

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯

'নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়'

  সমকাল প্রতিবেদক

মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথের আগে বিদায়ী মন্ত্রীরা সোমবার শেষ কর্মদিবসে নিজ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। এ সময় তারা বলেছেন, নতুনদের জন্য পুরনোদের জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। একই সঙ্গে তারা নতুন মন্ত্রিসভার সফলতা কামনা করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

এ সময় সদ্য বিদায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জোট গঠনের সময় আন্দোলন, নির্বাচন আর সরকার নিয়ে কথা হয়েছিল; কিন্তু শরিকদের এবার বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা করব। ১৪ দলের সমন্বয়কের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

মন্ত্রিসভার আকার শিগগিরই বড় করা হলে ১৪ দলের শরিকদের রাখা হবে কি-না জানতে চাইলে মেনন বলেন, সেটা তো অপমান করা। নতুন মন্ত্রিসভা ভালো করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জানান, তার মনে হয় এক-দেড় বছরের মধ্যে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে না।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, যারা নতুন এসেছেন, তারা আরও ভালো করবেন। দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন। নতুনদের জন্যে চিরায়ত নিয়মেই পুরনোদের চলে যেতে হয় বলে জানান তিনি।

সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, গত পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্ব সাধ্যমতো পালনের চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এ বিরল সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি শিল্পের জগতের মানুষ। এ জগতে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।

বিদায়ী সংবর্ধনায় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবকাঠামো সুবিধা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে- সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এসব সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে কি-না এবং এসব অবকাঠামো ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত মানুষ তৈরি হচ্ছে কি-না। 

তিনি বলেন, সংস্কৃতিমনস্ক ও শিল্পরসিক মানুষ যত বাড়বে, ততই দেশের জন্য মঙ্গল। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন প্রতিমন্ত্রী এ কাজটি আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশা করেন তিনি।

সদ্য বিদায়ী নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, পুরনো মন্ত্রীদের জন্য এটা বিদায় নয়। এটা মন্ত্রণালয়ের শেষ কার্যদিবস। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খুব বাস্তবমুখী। তার এই অগ্রযাত্রায় সবাই সাহসী ভূমিকা পালন করবেন। 

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শাজাহান খান বলেন, অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এখনও কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব অসমাপ্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। আর দক্ষ রাষ্ট্রপরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচক্ষণতার সঙ্গে নতুন এ মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। নতুনদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। কর্মউদ্দীপনা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, নতুনদের স্থান দেওয়ার জন্যে পুরনোদের জায়গা করে দিতে হয়। এবারের মন্ত্রিসভা আরও ভালো হয়েছে। আশা করছি, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য


অন্যান্য