একাদশ সংসদ নির্বাচন

শপথ নেননি ঐক্যফ্রন্টের ৭ বিজয়ী

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯

শপথ নেননি ঐক্যফ্রন্টের ৭ বিজয়ী

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেও শপথ নেননি বিএনপির পাঁচ বিজয়ী প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার কিছু সময় পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথমে নিজে নিজের শপথ গ্রহণ করেন; এর নির্বাচিতদের শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের বিজয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এসময় বিএনপির নির্বাচিত পাঁচ সংসদ সদস্যের কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; দেখা যায়নি দলটির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের দুই বিজয়ী প্রার্থীকেউ।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ইসিতে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানানো হবে।

শপথের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এর আগে সমকালকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি মাত্রই ঢাকায় এসেছেন। জোটের সঙ্গে আলাপ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংসদ সচিবালয়ের আমন্ত্রণ তার হাতে এখনও পৌঁছায়নি জানিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, শপথ নেওয়ার সময় তো আর পেরিয়ে যাচ্ছে না। পরেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন বিএনপির ও দু'জন গণফোরামের। মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে জোটের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সিলেট-২ আসন থেকে নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে মোকাব্বির খান বিজয়ী হয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ এবং শপথ নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে বা স্পিকারকে না জানালে বিজয়ীদের আসন শূন্য হওয়ার বিধানও রয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ২৯৮ জনের নাম-ঠিকানাসংবলিত ওই গেজেট প্রকাশের পর নতুন এমপিদের শপথের আয়োজন করতে বুধবার সকালে সংসদ সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় ইসি।

দশম সংসদের নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশ নিলেও দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের তুলনায় আসন সংখ্যা কম হওয়ায় তারা প্রধান বিরোধী দল হতে পারছে না। তবে জাতীয় পার্টি পুরোপুরি সরকারের সঙ্গে থাকলে সে ক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে পারে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ আসনে ভোট হয়। তার মধ্যে একটি আসনে কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকায় নির্বাচন কমিশনের গেজেটে ২৯৮টি আসনের বিজয়ীদের নাম ও ঠিকানা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮টি। বিপরীতে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আসন মাত্র সাতটি।

মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাসদ দুটি, বিকল্পধারা দুটি এবং বাংলাদেশ জাসদ, তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি করে আসন পেয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি পাঁচটি, গণফোরাম দুটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসন পেয়েছেন।

মন্তব্য


অন্যান্য