একাদশ সংসদ নির্বাচন

দুই জোটে আসন ভাগাভাগি

শরিকদের আসন কমাচ্ছে আওয়ামী লীগ

নির্বাচন ২০১৮

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

শরিকদের আসন কমাচ্ছে আওয়ামী লীগ

  অমরেশ রায় ও রাজীব আহাম্মদ

আওয়ামী লীগ শুরুতে বলেছিল, মহাজোটের শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছাড়বে। কিন্তু জয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী না পাওয়ায় শরিকদের ৫০ থেকে ৫৫টির বেশি আসন ছাড়তে এখন আর রাজি নয় আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দল বলছে, সব দল অংশ নেওয়ায় এবারের নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফলে শরিকদের অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীকে মহাজোটের মনোনয়ন দিয়ে আসন হারাতে চায় না আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আপিল শুনানির ফয়সালার মধ্য দিয়ে ৮ ডিসেম্বর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর মহাজোটের প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরিকরা ৪৯ আসনে জয়ী হয়। পরে তাদের আসন সংখ্যা হয় ৫১। এর মধ্যে এবার ২০টিতেই প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টির জন্য ২৫, ওয়ার্কার্স পার্টির জন্য ৪, জাসদের জন্য ৩, জেপি ও তরীকতের জন্য একটি করে আসন ফাঁকা রেখে সেখানে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ।

মহাজোটের নতুন শরিক বিকল্পধারার জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে দুটি আসন। সব মিলিয়ে ৩৬টি আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালে সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৩৬টি আসন ছেড়েছিল আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিকে ২৯টি, ওয়ার্কার্স পার্টিকে চারটি ও জাসদকে তিনটি আসন ছেড়েছিল তারা।

২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে শরিকদের আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে উদার মনোভাব ছিল তাদের। ৬০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয় শরিকদের। এবার তা হচ্ছে না। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া মহাজোটের প্রার্থীদের আপিল প্রক্রিয়ার ওপরও নজর রাখছে।

আওয়ামী লীগ শরিকরাও রয়েছে দুশ্চিন্তায়। যেসব আসনে গত নির্বাচনে তারা জয়ী হয়েছিল, সেখানেও প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যেগুলোতে ছাড় দিয়েছে, সেখানে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আওয়ামী লীগ অবশ্য শরিকদের ছাড় দেওয়া আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়া হবে বলে কথা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের আসন সমঝোতার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হওয়ার আগেই আসন বণ্টন প্রক্রিয়া শেষ করার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে সিদ্ধান্ত বদল হয়। তা হওয়ায় বাছাইয়ের পরপরই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও শরিকদের কয়েকজন প্রার্থী বাছাইয়ে বাদ পড়ায় নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। আপিল প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই আসন বণ্টন সুরাহা করতে চায় আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে, নানা হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ থেকে 'বিদ্রোহী প্রার্থী' হওয়ার প্রবণতা এবারও কমানো যায়নি। দেশের প্রায় ৭৩টি আসনে কমপক্ষে ৯৫ জন মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থিতার আড়ালে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। যদিও ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইকালে প্রায় ৫০ জনের মতো বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এরপরও অনেক আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহ প্রার্থী রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পাঁচ শীর্ষ নেতা তাদের ঢাকায় ডেকে এনে অথবা টেলিফোনে কথা বলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে সম্মত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহাজোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন দলটিকে এখন পর্যন্ত ২৫ আসন ছেড়েছে আওয়ামী লীগ। জাপার দখলে থাকা ৩৬ আসনের ১৪টিতেই প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাপা চায় অন্তত ৪৭ আসন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলটিকে ৪৮ আসন ছেড়েছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে নির্বাচনে ছেড়েছিল ২৯ আসন। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে 'ঝুঁকি' নিয়ে অংশ নেওয়ার 'পুরস্কার' হিসেবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পাওয়া আসনগুলো আবারও চায় জাপা।

জাপার নয় নেতা আসন বণ্টনে দরকষাকষির দায়িত্বে রয়েছেন। তারা গত দু'দফা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, জাপাকে এবার ৩০ থেকে ৩২টির বেশি আসন দিতে রাজি হচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

জাপাকে ছাড়া আসনগুলো হলো- নীলফামারী-৩, নীলফামারী-৪, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-১, রংপুর-৩, কুড়িগ্রাম-২, গাইবান্ধা-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, বরিশাল-৬, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-৮, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৪, ঢাকা-৬, নারায়ণগঞ্জ-৫, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, লক্ষ্মীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-৫। এর মধ্যে ২২টি আসনে জাপার দলীয় এমপি রয়েছেন।

জাপার এমপি নেই এমন তিনটি আসনও ছেড়েছে আওয়ামী লীগ। এগুলো হলো নীলফামারী-৩, লালমনিরহাট-৩ ও ফেনী-৩ আসন। এই ২৫ আসনের বেশিরভাগকে বিএনপি অধ্যুষিত বলছেন জাপার নেতারা।

জাপার দখলে থাকা ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসনগুলো হলো- কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-৩, পটুয়াখালী-১, জামালপুর-৪, ময়মনসিংহ-৫, ময়মনসিংহ-৭, ঢাকা-১, নারায়ণগঞ্জ-৩, সিলেট-৫, হবিগঞ্জ-১, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৮, চট্টগ্রাম-৯ ও কক্সবাজার-১। এ আসনগুলোর মধ্যে শুধু কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মহাজোটের মনোনয়নের আশ্বাস পেয়েছে জাপা। এরশাদের জন্য ঢাকা-১৭ আসনে মহাজোটের মনোনয়নের নিশ্চয়তা মিলেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ ও ৭ আসনে প্রার্থী। তার সমর্থনে ময়মনসিংহ-৪ আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। রওশনের জন্য ময়মনসিংহ-৭ আসনটি আদায়ের চেষ্টা করলেও নিশ্চয়তা পায়নি জাপা। দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আপিলে যদি প্রার্থিতা ফিরেও পান, তবুও তার মনোনয়ন নিশ্চিত নয়।

বরিশাল-২ আসনে জাপার প্রার্থী চিত্রনায়ক সোহেল রানার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনি আপিল করেছেন। প্রার্থিতা ফিরে পেল তিনি মহাজোটের মনোনয়ন পেতে পারেন। এই ৩১ আসন ছাড়াও রংপুর-২ ও রংপুর-৪ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জাপা।

জাপার নবনিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ গত সোমবার বলেছিলেন, কয়টি আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পওায়া যাবে, তা দু-একদিনের মধ্যে জানা যাবে। তিনি গতকাল বুধবার সমকালকে একই কথা বলেন। তিনি বলেন, আলোচনা চলছে। তারা আশা করছেন, ৫৪ থেকে ৫৫টি আসন পাওয়া যাবে।

১৪ দল শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদের দুই অংশ, জেপি ও তরীকতের দখলে রয়েছে ১৫টি আসন। তবে এ পাঁচটি দল এখন পর্যন্ত নয়টি আসনের নিশ্চয়তা পেয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টি চারটি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশ জাসদ দুটি, তরীকত ও জেপি একটি আসনে ছাড় পেয়েছে। তাদের দখলে থাকা ছয়টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেখানকার জেপির এমপির মহাজোটের মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে দলীয় সভাপতি রাশেদ খান মেননের ঢাকা-৮, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার রাজশাহী-২, ইয়াসিন আলীর ঠাকুরগাঁও-৩ ও টিপু সুলতানের বরিশাল-৩ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে। এসব আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। গত নির্বাচনে দলটির জয়ী হওয়া সাতক্ষীরা-১ ও নড়াইল-২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

জাসদ গত নির্বাচনে জিতেছিল পাঁচটি আসনে। জাসদের হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন অংশে এমপি তিনজন। তাদের সবারই মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত। হাসানুল হক ইনুর কুষ্টিয়া-২, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের ফেনী-১ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের বগুড়া-৪ আসনে ছাড় পেয়েছে দলটি।

জাসদ ভেঙে গঠিত বাংলাদেশ জাসদের বর্তমান দুই এমপির মধ্যে দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদলের চট্টগ্রাম-৮ আসনের আশ্বাস দেওয়া হলেও সেখানে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়েছে। নাজমুল হক প্রধান সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া শরিফ নূরুল আম্বিয়াকে নড়াইল-১ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

গত নির্বাচনে জেপি ও তরীকত ফেডারেশন দুটি করে আসন পেয়েছিল। এবার পিরোজপুর-২ আসনে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মনোনয়ন নিশ্চিত। চট্টগ্রাম-২ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত তরীকতের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি এম আউয়াল এবার তরীকতের মনোনয়ন পাননি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে তরীকতে যোগ দিয়ে আনোয়ার খান মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে।

বিকল্পধারার জন্য মুন্সীগঞ্জ-১ ও মৌলভীবাজার-২ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরী, মৌলভীবাজারে বিএনপি ছেড়ে আসা এম এম শাহীন। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রার্থী বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলেও আবদুল মান্নানের মনোনয়ন নিশ্চিত বলে জানিয়েছে সূত্র।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই আসন বণ্টন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। কয়েকটি আসনে মহাজোটের শরিক এবং আওয়ামী লীগ উভয়ের প্রার্থী থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর কোথাও এ ধরনের প্রার্থী থাকলে আওয়ামী লীগ থেকে তাদের বহিস্কার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

বৈঠকে ইসি


আরও খবর

একাদশ সংসদ নির্বাচন
বৈঠকে ইসি

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে এ বৈঠকে শুরু হয়।

এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বাহিনী সদস্যদের মোতায়েন সম্পর্কিতসহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বৃহস্পতিবারের এ বৈঠকে।

এদিকে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা জানিয়েছে ইসি। 


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জমছে ভোটের প্রচার বাড়ছে সহিংসতা


আরও খবর

একাদশ সংসদ নির্বাচন
জমছে ভোটের প্রচার বাড়ছে সহিংসতা

নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের মিছিলে পেট্রোল বোমা হামলা, গুলি - চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা আমীর খসরুর গণসংযোগে হামলা - নোয়াখালীতে খোকনের গাড়ি ভাংচুর - সিরাজগঞ্জে আ'লীগ নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একদিকে যেমন প্রচার জমে উঠেছে, অন্যদিকে চলছে সহিংসতাও। গতকাল বুধবার রাজধানীর সদরঘাটে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেত্রকোনার আটপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলে পেট্রোল বোমা হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার কেন্দুয়ায় মিছিল বের হলে তাতে বিএনপি প্রার্থী গুলি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ম্ফোরণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মহাজোট-ঐক্যফ্রন্ট সংঘর্ষে দু'পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি, সম্পাদকসহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৭ জন। এ ছাড়া খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। এগুলোসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা-সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন শতাধিক। সমকাল প্রতিবেদক, ব্যুরো, অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

ঢাকা :বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীরবিক্রম লঞ্চযোগে নিজ এলাকায় যাওয়ার পথে পুরান ঢাকার সদরঘাটে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ৮-১০ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হন। পরে বাধ্য হয়ে মেজর হাফিজসহ অন্যরা সদরঘাট থেকে ফেরত আসেন। হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা মামুন আহমেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীসহ মেজর হাফিজ তাসরিফ-৪ লঞ্চে ওঠেন। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা এবং লঞ্চ ভাংচুর করে। এ বিষয়ে সদরঘাট নৌ পুলিশের ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, লঞ্চযোগে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ভোলা যাচ্ছেন এমন সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ এলাকায় মিছিল করেছেন। তবে কোনো ভাংচুর হয়েছে কি-না তা তিনি জানেন না।

নেত্রকোনা :বুধবার সন্ধ্যায় আটপাড়ার ব্রজের বাজার ব্রিজে আওয়ামী লীগের মিছিলে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নিজাম ইয়ার খান, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুফল খান, ছাত্রলীগ নেতা শিবলী, মোহন, তুহিন, হৃদয় ও লিমন আহত হন। তাদের আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. খায়রুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রানা আনজু এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের দায়ী করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী অসীম কুমার উকিলের স্ত্রী যুবমহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আটপাড়া উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক অপু উকিল সংবাদ পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুল কবির তালুকদার বলেন, ইটাখলা বাজারে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা চলছিল। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্র্মীরা আমাদের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। তারা নিজেরা পেট্রোল বোমা বিস্ম্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

আটপাড়া থানার ওসি অভিরঞ্জন দেব জানান, বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা পেট্রোল বোমার বিস্ম্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) :কেন্দুয়ায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রতিবাদ মিছিলে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী গুলিবর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সন্ধ্যার এ ঘটনায় ৬-৭ নেতাকর্মী আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলার খবর পেয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি কার্যালয় থেকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে মিছিলকারীরা বিএনপি কার্যালয়ের দিকে ধাওয়া করলে রফিকুল ইসলাম হিলালী তার বাসার ছাদের ওপর থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মিছিলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল হাসান ভূঞাসহ ১০-১২ জন আহত হন।

এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম হিলালীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পৌর বিএনপি সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঞা ফোনে বলেন, মিছিলকারীরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের ভেতর একটি গাড়িও ভাংচুর করতে থাকে ও বাসভবনের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় হিলালী আত্মরক্ষার্থে বাসার ভেতর থেকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

সিরাজগঞ্জ :মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের ধুকুরিয়া গ্রামে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জগদীশ চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ম্ফোরণ ও গুলি বর্ষণ করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতাউর রহমান রতন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে মোটরসাইকেলে ১০-১২ সন্ত্রাসী জগদীশের বাড়ির পেছনে তিনটি ককটেল বিস্ম্ফোরণ ঘটায় এবং দুই রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বিস্ম্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ককটেলের আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা গুলি ছোড়ার কথা বললেও ঘটনাস্থল থেকে কোনো গুলির খোসা খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিয়ালকোল ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর থানা পুলিশের ট্যাগ অফিসার উপপরিদর্শক আবু জাফর বুধবার দুপুরে জানান, ঘটনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে মামলা হলে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম :বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ির মাঝিরঘাট রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে বিএনপি। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এ বিএনপি নেতা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশির, রনি, রানা ও টিটু। এর মধ্যে টিটু স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অন্য তিনজন ছাত্রদলের নেতাকর্মী। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাদের। সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগও করেনি। তবে বিএনপি নেতা আমীর খসরু জানিয়েছেন, মাদারবাড়ি এলাকায় প্রচার চালাতে যাওয়ার আগেই বিষয়টি আমি নিজেই সদরঘাট থানার ওসিকে জানিয়েছিলাম। ওসি বিষয়টা জানেন না, এটা ঠিক নয়।

নোয়াখালী :গতকাল সন্ধ্যায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহাবুব উদ্দিন খোকনের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগ কর্মীদের দায়ী করেছে বিএনপি। বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে স্লোগান দিলে উপস্থিত আশপাশে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খুলনা :গতকাল বিকেলে খুলনা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুজ্জাম্মিল হক প্লাটিনাম জুট মিল শ্রমিক কলোনিতে গণসংযোগকালে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। এ সময় আহত অন্য ৪ জন হলেন প্রার্থীর ছেলে ও ইসলামী যুব আন্দোলনের খুলনা মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক তানভীর, ইসলামী আন্দোলন নেতা হাসিব, আশিকুর রহমান ও রফিকুল হাসান। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেন সুজনকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পটুয়াখালী :মঙ্গলবার বিকেলে জেলার রাঙ্গাবালীতে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মহিব্বুর রহমান মুহিব (নৌকা) এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপির প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন (ধানের শীষ) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় বিএনপির ২০ জনকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কবির হোসেন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ফরাজীসহ দলের ৪৫ নেতাকর্মীর নামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ম্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) :নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের কর্মীরা রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাস্তায় আলাদা আলাদাভাবে পোস্টার লাগাতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী রাসেল ও বিএনপি কর্মী আবু মাসুমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

নাটোর :সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতুড়িপেটা ও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার শেরকোল ও পুঠিমারী বাজারে পৃথকভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও খরমকুড়ি, শাহাবাজপুর ও চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা মাইক ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এ বিষয়ে বুধবার সকালে সিংড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর পৃথক ৬টি লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি মজিবুর রহমান মন্টু। যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম এসব অভিযোগকে মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন দাবি করেন।

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জ-৩ তাড়াশ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারের নির্বাচনী পথসভায় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে পথসভা পন্ড করে দিয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের বিনোদপুর খেলার মাঠে এ ঘটনায় ৭-৮ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় দুটি মাইক্রোবাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা :গণসংযোগে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, মারধর এবং হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমিল্লা-৬ সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন। বুধবার দুপুরে বিএনপি প্রার্থী তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বুধবার সকালে কুমিল্লার আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় প্রবেশ গেটে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরীর ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন যুবক মাহবুব চৌধুরীকে অপহরণের চেষ্টা করে, বাধা দিলে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে মাহবুব চৌধুরী ও তার স্ত্রী নাসরিন খানমকে আহত করে নগদ ৮০ হাজার টাকাসহ মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। আহত মাহবুব চৌধুরী বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

অভিযোগ অস্বীকার করে কুমিল্লা সিটির ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, আদম ব্যবসার ১৭ লাখ টাকা পাবে বলে কয়েকজন যুবক তাকে মারছিল। আমি তখন এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় আমি রিস্ক নিয়ে তাকে রক্ষা করি।

ঝিনাইদহ :ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মজিদ নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা, নৈরাজ্য, নির্বাচনী প্রচার মাইক ভাংচুর ও প্রচারণা কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনেছেন। গতকাল বুধবার ঝিনাইদহ নির্বাচনী তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরাবর এ অভিযোগ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন তিনি।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) :গাজীপুর-১ আসনের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় বুধবার সকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিক দুই দলের সমর্থকরা পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী তানভীর আহম্মদ সিদ্দিকী কালিয়াকৈর কলেজ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপির সমর্থকরা সফিপুর পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন। দুই দলের নেতাকর্মীরা হামলা, গাড়ি ভাংচুরের দায় একে অপরের ওপর চাপান।

এদিকে পৌরসভার পল্লী?বিদ্যুৎ এলাকায় পৌর যুবলীগের ৭নং ওয়ার্ড সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা।

কালাই (জয়পুরহাট) :জয়পুরহাটের কালাইয়ে ধানের শীষের পোস্টার টাঙানোকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল হান্নান নামের এক যুবককে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কালাই থেকে তার গ্রামের বাড়ি পুনট ইউনিয়নের তিশরাপাড়া গ্রামে যাবার পথে ওই গ্রামের মোড়ে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। পুনট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কেশবপুর (যশোর) :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের ২টি প্রচার মাইকের ব্যাটারি ছিনতাইসহ প্রচারকারীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ধানের শীষ মার্কার নির্বাচনী এজেন্ট ও পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জুলফিকার আলী এক প্রেস ব্রিফিং-এ ওই অভিযোগ করেন।

রানীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা :নওগাঁর রানীনগরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পারইল উইনিয়নের বগারবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) :কুলিয়ারচরের উছমানপুর ইউনিয়নে গতকাল নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মো. শরীফুল আলম, ৩ পুলিশ কর্মকর্তা, বিএনপি নেতাকর্মীসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. নান্নু মোল্লা জানান, কোনাপাড়া চৌমুড়ি এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। এ সময় কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক এহসানুল হক, আজিজুল হক ও সহকারী উপ-পরিদর্শক শীতল পাল আহত হন বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের


আরও খবর

একাদশ সংসদ নির্বাচন
সহিংসতা রোধে ইসিকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ আওয়ামী লীগের

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত হামলার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের ওপরে হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের দু'জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এইচটি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে এসব বিষয়ে কথা বলে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাছান মাহমুদ, ড. সেলিম মাহমুদ প্রমুখ। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে অন্য চার কমিশনার ও ইসি সচিব তখন উপস্থিত ছিলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। যাতে এ পর্যন্ত দু'জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের ওপর হচ্ছে। ইতিমধ্যে দু'জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বেছে বেছে আক্রমণ করা হচ্ছে; এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়টি তারা কমিশনকে অবহিত করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মির্জা ফখরুল পুলিশকে কোনো খবর না দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'বিএনপির নয়াপল্টন ও গুলশান অফিসে মনোনয়ন-বাণিজ্যের বিষয়টি তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যা ব্যাপকভাবে আলোচিতও হয়েছে। এটি মির্জা ফখরুল ইসলামের এলাকায়ও হয়েছে। এখানে তার দলের লোকেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। সেখানে আওয়ামী লীগের কেউ ছিল না।'

এইচটি ইমাম বলেন, 'নির্বাচনের আগে নানারকম সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই তৎপর। ২০১৩-১৪ সালে ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসররা যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এগুলো আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বরদাস্ত করতে পারি না।'

তিনি বলেন, ইসিকে তারা বলেছেন- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কর্তৃত্বাধীন, ইসি তাদের ব্যবহার করুক। যাতে করে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা যাদের নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে; যেমন মাহী বি. চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে মিডিয়া কথা বলছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিকে তিনি ইসির ব্যর্থতা বলতে চান না; তবে তাদের এখনই সতর্ক হতে হবে।

চার পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে আপত্তি

নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে ইসির নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্তদের মধ্যে চারটি সংস্থার ওপর আওয়ামী লীগের আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, দেশের ১১৮টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষণ সংস্থার মধ্যে চার সংস্থার বিষয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পর তাদের কাছে মনে হয়েছে, এই চার সংস্থার কার্যক্রম একেবারেই দলীয়। এ সময় তিনি ডেমক্রেসিওয়াচের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সংস্থার প্রধান তালেয়া রেহমান হচ্ছেন শফিক রেহমানের স্ত্রী। এই শফিক রেহমান বিএনপির একজন বড় নেতা।

আরেকটি হচ্ছে খান ফাউন্ডেশন। এটি বিএনপি নেতা মঈন খানের স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত। এটি একেবারেই পারিবারিক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠান। আর একটি হচ্ছে বগুড়ার লাইট হাউস। এর প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির তারেক রহমান নিজেই। এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিভিন্ন রকমের তথ্য আছে। আরেকটি হচ্ছে, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ। এর আগে আদিলুর রহমান খানের অধিকার নামে যে প্রতিষ্ঠান ছিল, তার সঙ্গে বিদেশি কয়েকটি সংস্থার যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে অধিকার নামে তাদের প্রতিষ্ঠান বাতিল করা হয়। এটি আবার বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ নামে নিবন্ধিত হয়েছে। এজন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন যে, এরা যদি পর্যবেক্ষণে থাকে বা তাদের কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানিপপের বিষয়ে আমাদের কোনো অবজারভেশন নেই। জানিপপের বিরুদ্ধে এখানে অভিযোগ করা হয়েছিল। এই জন্য যে, এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না। তিনি এখন নেইও। এটির পরিচালনায় অন্যরা রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর