একাদশ সংসদ নির্বাচন

দুই জোটে আসন ভাগাভাগি

শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় হিমশিম বিএনপি

নির্বাচন ২০১৮

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় হিমশিম বিএনপি

  কামরুল হাসান

দফায় দফায় বৈঠক করেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারছে না বিএনপি জোট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি। যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না দলটি।

দুই জোটকে ৫০ থেকে ৫৫টি আসন ছাড়তে চাইছে বিএনপি। তবে নিজেদের প্রার্থীকে যোগ্য দাবি করে আরও আসন চাইছে জোটের শরিকরা। আজ বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে জোটের নেতারা আশা করছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা গুছিয়ে আনা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সমকালকে বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি সমাধানের চূড়ান্ত পথে রয়েছে। কাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখান থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আসন বণ্টন নিয়ে ২০ দলীয় জোটের চেয়ে ঐক্যফ্রন্টে সমস্যা বেশি হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য পঞ্চাশের বেশি আসন চাইছে। এর মধ্যে গণফোরামের আসন সংখ্যা বেশি।

বিষয়টি সমাধান করতে গতকাল বুধবার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে নাগরিক ঐক্যসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও ধারাবাহিক বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এর আগেও দফায় দফায় এসব দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দলটি। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।

সূত্র জানায়, নির্বাচনকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে মনে করছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে দলটি নির্বাচনে জয়লাভকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই জয় পেতে তারা জনপ্রিয় ও দক্ষ নেতাকে মনোনয়ন দিতে চায়। জোটের শরিক দলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তার হিসাবও করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নির্বাচিত হতে পারলে রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিক দলগুলোকে গুরুত্ব দেবে তারা। কিন্তু আবেগের বশে কোনো নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে হারের ঝুঁকি বাড়াতে রাজি নয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

সূত্র আরও জানায়, গণফোরামকে ছয়টি আসন দিতে এরই মধ্যে সম্মতি জানিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকা-৬, রেজা কিবরিয়াকে হবিগঞ্জ-১, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে পাবনা-১ ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে মৌলভীবাজার-২, মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিনকে কুড়িগ্রাম-২ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে দলটির পক্ষে আরও ১২টি আসন দাবি করা হচ্ছে। তা নিয়েই দরকষাকষি চলছে।

গণফোরামকে দেওয়া ছয়টি আসনের মধ্যে ঢাকা-৬ নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই এ আসনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি মনে করে, আসনটি ছাড়া হলে জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে সুব্রত চৌধুরীর পক্ষে কাজ করবে কি-না তা নিয়ে সন্দিহান বিএনপি।

দলটির সিনিয়র নেতারা জানান, ঢাকা-৬ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশের বাইরে থাকলেও তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এখান থেকে নির্বাচন করতে চান। তিনি ইতিমধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এ আসনে গণফোরামের কোন ভোটব্যাঙ্ক নেই। বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে না পারলে গনফোরাম প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটতে পারে। তাই অন্য কাউকে মনোনয়ন দিয়ে সুব্রত চৌধুরীকে অন্যভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

জেএসডিকে ৩টি আসনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের লক্ষ্মীপুর-৪, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনের কুমিল্লা-৪ রয়েছে। তবে দলটির পক্ষে আরও ৪টি আসন দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনে কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী ও ঢাকা-১৮ আসনে শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন রয়েছেন। এর বাইরে বগুড়া-৭ ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনও তারা দাবি করেছে।

জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব সমকালকে বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি। তবে হয়ে যাবে। আমরা যোগ্য প্রার্থীদেরই প্রাধান্য দেব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ২টি আসন দিতে চাইছে বিএনপি। তা হলো- টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮। তবে দলটির পক্ষ থেকে আরও ৩টি আসন দাবি করা হয়েছে। সেগুলো হলো- টাঙ্গাইল-৭, টাঙ্গাইল-৫ এবং গাজীপুর-৩।

নাগরিক ঐক্যকে ২টি আসন দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তা হলো দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ এবং দলটির নেতা এস এম আকরামের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫। তবে তাদের পক্ষে আরও ৪টি আসন দাবি করা হচ্ছে। তবে সেসব আসনে দলটির প্রার্থীর থেকে বিএনপির প্রার্থী অনেক শক্তিসালী।

আসন বণ্টনে ২০ দলীয় জোটর শরিকদের মধ্যে সমস্যা না থাকলেও অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে ২৫টি আসনে সমঝোতা করে দলটির প্রার্থীদের ধানের শীষে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দিনাজপুর-১ আসনে জামায়াত নেতা মুহম্মদ হানিফের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তিনি আপিল করেছেন।

নিবন্ধন হারানো জামায়াত আরও তিনটি আসন চাইছে। সে আসনগুলো হলো- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, পাবনা-১, রাজশাহী-১। রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তিনি আপিল করেছেন। পাবনা-১ চান মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। ঢাকা-১৫ আসন নিয়েও বেকায়দায় আছে বিএনপি। এ আসন থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন করতে চান।

এলডিপিকে ৪টি আসন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে চট্টগ্রাম-১৪, মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদকে কুমিল্লা-৭, আবদুল করিম আব্বাসীকে নেত্রকোনা-১ ও শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লক্ষ্মীপুর-১ দেওয়া হয়েছে। দলটি আরও ১টি আসনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। চট্টগ্রাম-৭ আসন পেতে গতকাল রাতেও গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেন নেতারা।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, ৪টি আসনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও আরও ২টি আসনে তাদের যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। তারা দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া জোটের অন্যান্য শরিক দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই ফজলে রাব্বীর জন্য গাইবান্ধা-৩সহ আরও একটি আসন ছাড়বে বিএনপি। কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি ওয়াক্কাস যশোর-৫ এবং শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৩ আসন পাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান পঞ্চগড়-২, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টির রিটা রহমান রংপুর-৩ আসন পাচ্ছেন। এর বাইরে মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল যশোর-৪ আসন পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

শপথ নিলেন সংরক্ষিত আসনের ৪৯ নারী এমপি


আরও খবর

একাদশ সংসদ নির্বাচন

সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী— ফোকাস বাংলা

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিতরা এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন।

বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত আসনের ৪৯ জন সংসদ সদস্যকে শপথ পড়ান।

সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত হলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা শপথ না নেওয়ায় তাদের জন্য একটি নারী আসন ফাঁকা রয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে বিএনপির একটি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব গোলাম কিবরিয়া। এসময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীসহ সংসদের হুইপরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের শরিক দল, তারপরে স্বতন্ত্র এবং সর্বশেষ জাতীয় পার্টির নারী এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ শেষে নতুন আইন প্রণেতারা শপথ বইয়ে সই করেন। এরপর সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় চা চক্রে অংশ নেন। নতুন সংসদ সদস্যরা পরে সচিবের অফিসে গিয়ে তালিকা বইয়ে সই করেন এবং লবিতে গিয়ে পরিচয়পত্রে জন্য আঙুলের ছাপ দেন।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় গত রোববার আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চার জন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র একজনকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত ৪৩ নারী এমপি হলেন– অ্যারমা দত্ত, সুবর্ণা মুস্তাফা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা, নাহিদ ইজহার খান, খাদিজাতুল আনোয়ার, ওয়াশিকা আয়েশা খানম, শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, রুমানা আলী, সুলতানা নাদিরা, হোসনে আরা, হাবিবা রহমান খান (শেফালী), জাকিয়া পারভীন খানম, শেখ এ্যানী রহমান, অপরাজিতা হক, সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, শামীমা আক্তার খানম, ফজিলাতুন নেসা, রাবেয়া আলীম, তামান্না নুসরাত বুবলী, নার্গিস রহমান, মনিরা সুলতানা, খালেদা খানম, সৈয়দা রুবিনা মিরা, কাজী কানিজ সুলতানা, গেল্গারিয়া ঝর্ণা সরকার, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, জাকিয়া তাবাসসুম, ফরিদা খানম (সাকী), রুশেমা বেগম, সৈয়দা রাশেদা বেগম, আদিবা আনজুম মিতা, ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, পারভীন হক সিকদার, খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, তাহমিনা বেগম, নাদিয়া ইয়াসমিন জলি, রত্না আহমেদ, আঞ্জুম সুলতানা, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, কানিজ ফাতেমা আহমেদ ও বাসন্তী চাকমা।

জাতীয় পার্টির চারজন হলেন সালমা ইসলাম, মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার।

ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা ইসলামও বুধবার শপথ নিয়েছেন, যিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের স্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

সংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ বুধবার


আরও খবর

একাদশ সংসদ নির্বাচন
সংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ বুধবার

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত ৪৯ সংসদ সদস্য বুধবার শপথ নেবেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে গত রোববার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। 

গেজেট অনুযায়ী, নির্বাচিত ৪৯ সংসদ সদস্যের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র একজন।

এর আগে, ৪৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর শনিবার বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম তাদের বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

এরশাদ ও স্পিকারের বিরুদ্ধে মামলা দুই পরাজিত প্রার্থীর


আরও খবর

একাদশ সংসদ নির্বাচন

  সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় তাদের দু'জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দাখিল করা হয়।

নির্বাচনে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে এরশাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন জাসদের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর সদর আসনের পরাজিত প্রার্থী সাব্বির আহমেদ। আর স্পিকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও পীরগঞ্জ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে জাসদ নেতা সাব্বির আহম্মেদ বলেন, জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট জমা দেননি। হারিয়েছে বলে একটি জিডির কপি জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলার তথ্যও তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এ দুই অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তবে তা হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নেননি। এর পর নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হলে সেখানেও বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। তাই হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ওই নির্বাচন বাতিল চেয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেশ ক'টি অভিযোগ উত্থাপন করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২০টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোটগ্রহণ দেখানো, এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, তিন মাস আগে প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রকাশ্যে টাকা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে কোনো ফল পাইনি। তাই ভোট কারচুপির অভিযোগ এবং প্রার্থীর বিজয় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর