ময়মনসিংহ

রোহিঙ্গাদের নাগরিক সনদ বন্ধে শেরপুর জেলা পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের নাগরিক সনদ বন্ধে শেরপুর জেলা পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সম্পৃক্তকরণ সভায় বক্তব্য রাখছেন শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার- সমকাল

  শেরপুর প্রতিনিধি

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ প্রদান বন্ধ করতে ব্যতীক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে শেরপুর জেলা পুলিশ। এ উপলক্ষে জেলার ১৬ লাখ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন এমন জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক ব্যাতিক্রমী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার দিনব্যাপি 'সম্পৃক্তকরণ সভা' নামে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় শেরপুর পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে।

কর্মশালায় অংশ নেন শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, নকলা, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাসহ জেলার ৫২ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ৪ পৌরসভার মেয়র, গুণীজন ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধ-শতাধিক সাংবাদিক। এ দিন সকালে কর্মশালার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম। স্বাগত বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সকলকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ নিয়ে বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা মানবতার মা। তাই তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছেন। কিন্ত আজকে তারা যা করছে। তা মেনে নেওয়া যায় না। তারা ভূয়া সনদ বানিয়ে পাসপোর্ট করছে। এদেশে আশ্রিত হয়েও তাদের আমাদের দেশের প্রতি কোন কৃতজ্ঞতা নেই। তারা মায়নমারের নাগরিক। তাদের বিদায় নিতে হবে।'

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শ্রীবরদীর পৌর মেয়র আবু সাইদ বলেন, 'কাউন্সিলররা তাদের সুবিধা অনুযায়ী নাগরিক সনদ পত্রের জন্য সুপারিশ করেন। এ ব্যাপারে তাদের  হুঁশিয়ারি করা বা আইনের আওতায় আনা হলে কেউ ভূয়া জন্ম নিবন্ধন করতে পারবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন খারাপ মানুষগুলো জনপ্রতিনিধিদের চারপাশ ঘিরে ফেলেছে। দোষী লোক জানার পরও আমরা তদবির করি। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করার সাহস পায়। যে কারণে রোহিঙ্গারা সুযোগ নিচ্ছে। মাদক কারবারি বাড়ছে। বাল্য বিয়ে কমছে না।' জনপ্রতিনিধি সৎ হলে, মাদক গ্রহণ না করলে সমাজে মাদক থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারী-ঘুঘরাকান্দি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মজু বলেন, 'চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি কাজীদের জন্ম নিবন্ধন সনদ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে।  অনেক কাজী টাকা নিয়ে জাল সনদে বাল্য বিয়ে দেয়। তাদের দুই ভলিয়ম থাকে। একটি সঠিক, অন্যটি জাল। এভাবে দেশে বাল্য বিয়ে বাড়ছে। এ সুযোগ নিচ্ছে রোহিঙ্গারা।'

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে  বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন, নকলা পৌর মেয়র মো. হাফিজুর রহমান লিটন, নালিতাবাড়ী  পৌর মেয়র মো, আবু বক্কর সিদ্দিকী,  জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. নূরল ইসলাম হিরো, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো, হারুনর রশিদ, মহিলা পরিষদ সভাপতি জয়শ্রী দাস লক্ষী প্রমুখ।

পুুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, 'এ দেশ, এ রাষ্ট্র আমাদের। আমরা দেশকে ভালবাসি। মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন নানাভাবে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রোহিঙ্গারা অনলাইন থেকে তথ্য নামিয়ে টেমপারিং করে সুকৌশলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকতার সনদ তৈরি করছে। এটা মানা যায় না। তাই জনপ্রতিনিধিদের সজাগ হতে হবে। কোনভাবেই লোভের বশবর্তী হয়ে রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দিয়ে দেশের ক্ষতি করা যাবে না।'

তিনি বলেন, 'আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার নামে পাসপোর্ট হবে তাকে না দেখে  কোন পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। এটা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।'

রোহিঙ্গাদের ভূয়া নাগরিক সনদের বিষয় ছাড়াও এদিন মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, গুজব, জুয়া, নারী নির্যাতন, গ্যাং কালচার, ট্রাফিক সচেতনতা, গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্তদের তথ্য প্রদান, বহিরাগত- ভাড়াটিয়াদেরও তথ্য প্রদান সর্ম্পকে আলোচনা করেন জনপ্রতিনিধিরা।

সভা শেষে উপস্থিত সকল জনপ্রতিনিধিরা হাত তুলে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সনদ দেওয়া হবে না বলে শপথ করেন। এছাড়া তারা বাল্য বিয়ে, মাদক ও অবৈধ যান চলাচলে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস দেন।

মন্তব্য


অন্যান্য