ময়মনসিংহ

মৌমাছির সঙ্গে শত্রুতা!

প্রকাশ : ২৯ আগষ্ট ২০১৯

মৌমাছির সঙ্গে শত্রুতা!

এভাবেই মরে পড়ে আছে শফিকুলের মৌমাছিগুলো -সমকাল

  কিশোরগঞ্জ অফিস

বাড়ির পাশেই মৌচাষ করে বেশ আয় করছিলেন খামারি শফিকুল। কিন্তু তা যেন সহ্য হচ্ছিল না প্রতিবেশী রাসেলের। মৌমাছির কারণে তার সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাক্সগুলো সরিয়ে ফেলতে বলেন রাসেল। অন্যথায় সেগুলো মেরে ফেলা হবে বলে হুমকিও দেন তিনি। 

সন্ধ্যায় হুমকি পাওয়ার পর শুধু রাতটা কেটেছে, এর পর সকালেই খামারি শফিকুলের মাথায় হাত। ৫০টি বাক্সে থাকা তিন লাখ টাকার মৌমাছি মরে পড়ে আছে। রাতের আঁধারে নির্মম শত্রুতার শিকার হয়েছে মৌমাছিগুলো!

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের আউলিয়াপাড়া গ্রামের হযরত আলীর বাড়িতে। 

খামারি শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খামারে মৌমাছিদের খাবার দিয়ে রেখে যান। পরের দিন সকালে এসে দেখতে পান, মৌমাছিগুলো মরে একেক জায়গায় পড়ে আছে। স্বাভাবিকভাবে এসব মৌমাছির মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেন।

তিনি জানান, খামারের ৫০টি বাক্সের প্রায় তিন লাখ টাকার মৌমাছি মেরে ফেলা হয়েছে। এ অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শফিকুলের সারিবদ্ধ মৌমাছির বাক্সের আশপাশে সেগুলো মরে পড়ে রয়েছে। এত বড় ক্ষতিতে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই খামারি। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শফিকুল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মৌমাছি লালনপালন ও মধু সংগ্রহের ওপর বিআইএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মৌচাষ করছেন। মধু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে আসছেন। এখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে চলে তার সংসার। 

তিনি বলেন, তার মৌমাছিগুলো এভাবে না মেরে যদি তাকেই মেরে ফেলা হতো, তবু কোনো আক্ষেপ ছিল না। তিনি সারাবছর সন্তানের মতো করে মৌমাছি লালনপালন করেন। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে তিনি পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মধু বিক্রি করে থাকেন। বর্তমানে তার খামারে দেড় শতাধিক মৌমাছির বাক্স রয়েছে।

খামারি শফিকুল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার ভাই এখলাছ বিন্নাটি বাজার থেকে ফিরছিলেন। এ সময় আউলিয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে তিনি এখলাছকে মৌমাছির বাক্সগুলো সরিয়ে ফেলতে বলেন। সরানো না হলে সেগুলো মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন রাসেল।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেল মিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট। 

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, লিখিত এজাহার পেলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য